শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

নানা সঙ্কটে খুলনার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল

খুলনার মীরেরডাঙ্গা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল...

খুলনা অফিস : খুলনার মীরেরডাঙ্গা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নেই কোন পরিচ্ছন্ন কর্মী। বর্তমানে ডায়ারিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এখানে সংক্রামক ব্যাধি টিটেনাস, নিওমেটাল টিটেনাস, জলবসন্ত, হাম জলাতঙ্কসহ সেবা দেয়া হয়। রোগ ছড়ানোর আশংকা প্রবল।
এ অবস্থায় পরিচ্ছন্ন কর্মী না থাকায় রোগীদের সাথে চিকিৎসকের দূরত্ব বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় মানুষের ডায়রিয়া, টিটেনাস, নিওমেটাল টিটেনাস, জলবসন্ত, হাম, জলাতঙ্কসহ সংক্রামক রোগের চিকিৎসার জন্য ১৯৬৮ সালে খুলনার মীরেরডাঙ্গায় ভৈরব নদের পাশে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্স থেকে শুরু করে কেউ এখানে সেবা দিয়ে আগ্রহ প্রকাশ থাকে না বললেই চলে। কারণ এসব হাসপাতালে রোগীদের সাথে সাথে চিকিৎসা সেবা নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও সর্তকভাবে চলা ফেলা করতে হয়। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশিতে যেমন রোগ ছড়ায়, তেমনি মশা-মাছির মাধ্যমেও অনেক রোগ ছড়ায়। আবার রোগীর ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মাধ্যমেও অনেক রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে। রোগীদের নতুন করে ভিন্ন রোগে সংক্রমিত হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য হাসপাতালের পরিবেশ রাখতে হবে স্বাস্থ্যকর।
গত ৫ বছরে ডায়রিয়া, টিটেনাস, নিওমেটাল টিটেনাস, জলবসন্ত, হাম ও জলাতঙ্ক রোগী নিয়ে ১৩ হাজার ৩২৪ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে ডায়রিয়া, টিটেনাস, নিওমেটাল টিটেনাস ও জলবসন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৪ জন। এর মধ্যে টিটেনাসে ৬ শিশুসহ ২২ জন ও জলবসন্তে ২ জন মারা যায়। ২০১৩ সালে ২ হাজার ৫৯৬ জন আক্রান্তের মধ্যে টিটেনাসে ৪ শিশুসহ ১৬ জন ও জলবসন্তে ১ জন মারা যায়। ২০১৪ সালে আক্রান্ত ৩ হাজার ১৯০ জনের মধ্যে টিটেনাসে ৬ শিশুসহ ২৪ জন ও জলবসন্তে ২ জন মারা যায়। ২০১৫ সালে ৪১১৩ রোগীর মধ্যে টিটেনাসে ৫ শিশুসহ ২৬ জন, জলবসন্তে ২ জন ও ডায়রিয়ায় ১ জন মারা যায়। ২০১৬ সালে আক্রান্ত  ৪২৯৯ জনের মধ্যে ডায়রিয়ায় ২ জন, টিটেনাসে ৪ শিশুসহ ১৫ জন ও জলবসন্তে ২ জন মারা যায়। চলতি বছরের প্রথম ৫ দিনে টিটেনাস ও ডায়রিয়া আক্রান্ত ছিল ৬ জন। এর মধ্যে ২ জন বৃদ্ধা টিটেনাস আক্রান্ত রয়েছেন।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (এমও) ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এ সময়ে মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ডায়ারিয়া রোগী সংখ্যাও বাড়ছে। ওষুধ কোন সংকট নেই। তিনি বলেন, চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি মাসে বয়সের কারণে পরিচ্ছন্ন কর্মী কল্যাণ রানী স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন। এখন কোন পরিচ্ছন্ন কর্মী নেই। বিষয়টি সিভিল সার্জনকে জাানো হয়েছে। বর্তমানে পরিচ্ছন্ন কাজ নিজেরাই ম্যানেজ করছেন। তিনি বলেন, চেষ্টা করছি যাতে রোগীরা ভালভাবে চিকিৎসা সেবা পায়
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৫৮৪ জন ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। টিটেনাসে আক্রান্ত সংখ্যা ১৯ জন, মারা গেছেন একজন। নিওমেটাল টিটেনাসে আক্রান্ত সংখ্যা ৩ জন, জলবসন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১ জন, হামে আক্রান্ত ২ জন ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। জানুয়ারি মাসে ওই হাসপাতালে ডায়ারিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ১৪৮ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে তা বেড়ে গিয়ে দাড়ায় ১৮৩ জন ও মার্চ মাসে ডায়ারিয়া রোগীর আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে গিয়ে ২৫৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতালের অফিস সূত্রে জানা গেছে, পরিচ্ছন্ন কর্মীরা পদে তিনজন থাকলেও বর্তমানে একজনও নেই। দীর্ঘদিন ধরে একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী দিয়ে ওই হাসপাতালটি পরিচ্ছন্ন কাজ চালিয়ে আসছিল। এখন তাও নেই। সহকারি নার্স চারজনের মধ্যে একজন আছেন, বাকি তিন জন ডেপুটিশনে আছেন। এছাড়া মেডিকেল অফিসার ৩ জন, ফার্মাসিস্ট ১ জন, ওয়ার্ড বয় ২ জন, আয়া ১ জন, অফিস সহায়ক ১ জন ও বাবুর্চি রয়েছে ২ জন।
হাসপাতালের ডায়ারিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট্ট গাবলায় রোগীর বমি উপচে পড়ছে এবং মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, ময়লা-আবর্জনায় সয়লাব। বাথরুম অপরিচ্ছন্ন। উৎকট গন্ধ বের হচ্ছে।
শিশু সুমাইয়া (৯)। গত বুধবার ডায়ারিয়া আক্রান্ত হয়ে ওই সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা শিশুর পিতা মো. সুমন জানান, তার মেয়ে ওই দিন সন্ধ্যার পর থেকে একাধিকবার ডায়ারিয়া হয়, সাথে বমিও করে।
কোন কিছু উপায় না দেখে এ হাসপাতালে নিয়ে আসছি। এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। স্যালাইন চলছে, চিকিৎসক বলছে। তার সুস্থ হয়ে একটু দেরি হবে। সুমন জানায়, এই হাসপাতালে আসার পর থেকে কোন পরিচ্ছন্ন কর্মী তার চোখে পড়েনি। সব-সময় ময়লা থাকে। একজনকে মেঝেতে ঝাড়ু দিতে দেখেছি। কিন্তু তারপর আর দেখা মেলেনি। সব সময় কেমন যেন একটা উৎকট গন্ধ বের হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ