সোমবার ৩০ জানুয়ারি ২০২৩
Online Edition

ভারতের সঙ্গে করা সব চুক্তি সংসদে উত্থাপনের দাবি টিআইবির

 

সংসদ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে করা সব চুক্তি জাতীয় সংসদে উ্ত্থাপনের দাবি করেছে ট্রান্সপারান্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের হওয়া চুক্তিগুলোতে কি আছে সে বিষয়েও সংসদে কিছু উত্থাপিত না হওয়ায় এটি উদ্বেগের বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। 

গতকাল রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ সংগঠনটির নিজ কার্যালয়ে পার্লামেন্টওয়াচ বিষয়ক সাংবাদিক সম্মলনে এ দাবি করা হয়। সাংবাদিক সম্মলনে চলতি দশম সংসদের সপ্তম সংসদ থেকে ১৩তম অধিবেশন পর্যস্ত সংসদীয় কার্যবলীর গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। 

এবিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে এর আগেও আমরা কথা বলেছি। সরকারের বিভিন্ন অনলাইনের তথ্য অনুযায়ী এর আগে ৫৯টি চুক্তি হয়েছিল। সেগুলো নিয়েও সংসদে আলোচিত হয়েনি। সংসদে উপস্থাপিত হয়নি। এই বিষয়টি উদ্বেগের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করছি।’ 

তিনি বলেন, এখন থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে ভারতে সফরসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেসকল চুক্তি হবে সেগুলো সংসদে আলোচনা হওয়া অবশ্যই উচিত।’ 

এবিষয়ে ট্রাস্টি বোর্ডে সদস্য সুলতানা কামাল বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী সবকিছুর মালিক জনগণ। জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত নয়, জাতীয় স্বার্থের ব্যাপারগুলো নিয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাদের সঙ্গে কিংবা সংসদে সেভাবে আলোচনা করবেন। সংসদের মাধ্যমে জনগণের কাছে সেই তথ্যগুলো যাবে। যাওয়া উচিত বলেই আমরা মনে করি। 

সাতটি অধিবেশনে কোরাম সংকটে ক্ষতি ৪৭ কোটি ২০ লাখ : টিআইবির গবেষণা অনুযায়ী এই সাতটি অধিবেশনে কোরাম (৬০) সংকটের কারণে ব্যয়িত মোট সময়ের অর্থমূল্য ৪৭ কোটি ২০ লাখ ৩৩ হাজার ২০৪ টাকা। সাতটি অধিবেশনে প্রতি কার্যদিবসের গড় কোরাম সংকট ২৮ মিনিট। আর মোট কোরাম সংকট ৪৮ ঘন্টা ২৬ মিনিট। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী সংসদ পরিচালনা করতে প্রতিমিনিট খরচ হয় ১লাখ ৬২ হাজার ৪৩৪ টাকা। 

এবিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই কোরাম বিষয়ে সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ একটি জরুরি বিষয়। তবে প্রতিবেদনটিকে উল্লেখ করা হয়, এই সাতটি অধিবেশনের অষ্টম, নবম ও দশম সংসদের মধ্যে তুলনা করে দেখা গেছে কোরাম সংকট ক্রমান্বয়ে কমছে। অষ্টম সংসদে ছিল দৈনিক ৩৯ মিনিট, নবমে ৩৩ মিনিট আর দশমে ২৮ মিনিট কোরাম সংকট হয়েছে। অষ্টম সংসদের সবগুলো অধিবেশনে গড় কোরাম সংসদ ছিল ৩৩ মিনিট, নবমে ৩০ আর দশম জাতীয় সংসদে ২৯ মিনিট। 

বিরোধী দল সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন : প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এসময় সংসদ নেতা উপস্থিত ছিলেন ৮৪ শতাংশ। আর নবম সংসদ তিনি উপস্থিত ছিলেন ৭৬ শতাংশ। বর্তমানে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ৮৩ শতাংশ উপস্থিতি থাকছেন। আর এই সময়ের মধ্যে বিগত বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২ শতাংশ। 

এ বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিরোধী দলকে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা আমরা উল্লেখ করেছি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে দুটি চ্যালেঞ্জ লক্ষ্য করা যায়। যখনই বিরোধী দল সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছে সরকারি দলের পক্ষ থেকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অন্যদিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হল প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তাদের বিতর্কিত দ্বিমুখী অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। যেটি তাদের কার্যকলাপের মধ্যে কিছুটা প্রতিফলিত হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। 

বিধি অনুযায়ী মাত্র ২ সংসদীয় কমিটি বৈঠক করেছে : সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রতিটি সংসদীয় কমিটির মাসে একটি করে বৈঠক করার কথা থাকলেও দুটি কমিটি ছাড়া কোনো কমিটিই এই বিধানের তোয়াক্কা করেনি। এই সাতটি অধিবেশন চলাকালীন ৪৭টি সংসদীয় কমিটি মোট ৩৩৭টি সভা করেছে। এর মধ্যে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সর্বোচ্চ ২২টি সভা করে। আর হলফনামা অনুযায়ী ১০ কমিটিতে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সদস্য রয়েছেন, যা সংসদের কার্যপ্রণালী বিরোধী। 

থেমে নেই কটু ও অশ্লীল শব্দ : ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সময়ের মধ্যে সংসদের বাইরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে ২ হাজার ১০১ বার সংসদের ভেতরে ৪৩৩ বার বিভিন্ন কটূক্তি, আক্রমণাত্মক, কটু ও অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যা বিধি সম্মত নয়। 

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপ নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা তত্ত্ববধায়ক ওয়াহিদ আলম, প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি প্রমুখ। সাংবাদিক সম্মেলনে সংসদ কে কার্যকর করার জন্য বেশ কয়েকটি সুপারিশ করে টিআইবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ