ঢাকা, শনিবার 16 October 2021, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী
Online Edition

বিদায়ী ম্যাচে দেশকে মাশরাফির জয় উপহার

 

রফিকুল ইসলাম মিঞা : বিদায়ী ম্যাচে দেশকে জয় উপহার দিয়ে গেলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মতুর্জা। গতকাল মাশরাফির যোগ্য অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শ্রীলংকাকে হারায় ৪৫ রানে। ফলে টেস্ট আর ওয়ানডে সিরিজের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজও ড্র হলো ১-১ ব্যবধানে। দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকা জয় পেয়েছিল ৬ উইকেটে। গতকাল বাংলাদেশ শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শ্রীলংকাকে হারিয়েছে ৪৫ রানে। ফলে শ্রীলংকা সফরে তিনটি সিরিজই ড্র হলো। গতকাল আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে করে ১৭৬ রান। জয়ের জন্য শ্রীলংকার সামনে টার্গেট ছিল ১৭৭ রান। শ্রীলংকা ১৮ ওভারে ১৩১ রানে অলআউট হলে বাংলাদেশ জয় পায় ৪৫ রানে। এই ম্যাচেই টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন লাসিথ মালিঙ্গা। ১৮.৫ ওভারে অভিষিক্ত মিরাজকে এলবি আউট করে এই কীর্তি গড়েন মালিঙ্গা। এর আগের দুই বলে তিনি ফিরান মুশফিক আর মারাফিকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ হ্যাটট্রিক। তবে তার হ্যাটট্রিক ম্যাচেও হারল শ্রীলংকা।

জয়ের জন্য শ্রীলংকার সামনে ১৭৭ রানের টার্গেটটা কিন্তু সহজ ছিলনা। আর ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোচট খায় শ্রীলংকা। সাকিব পর পর দুই ওভারে দুটি উইকেট নিয়েই লংকানদের মনোবলে প্রথম আঘাত হানেন। দলীয় ৪ রানে প্রথম উইকেট পায় বাংলাদেশ। কুশল পেরেরাকে ৪ রানে বোল্ড করেন সাকিব। দলীয় ১৯ রানে সাকিব দলকে এনে দেন দ্বিতীয় উইকেট। এবার মুনাবিরাকে ফিরান রিয়াদের ক্যাচ বানিয়ে। আউট হওয়ার আগে তিনিও করেন ৪ রান। দলীয় ৪০ রানে শ্রীলংকা হারায় ঊপল থারাঙ্গার উইকেট। দলকে এগিয়ে নেয়া থারাঙ্গাকে থামান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। রিয়াদের বলে মিরাজের হাতে ক্যাচ তুলে বিদায়ের আগে থারাঙ্গা ২১ বলে করেন ২৩ রান। এর আগে মিরাজের বলেই ক্যাচ তুলেছিলেন থারাঙ্গা। কিন্তু অধিনায়ক মাশরাফি সেটি লুফে নিতে ব্যর্থ হন। অবশ্য বিদায়ের আগে থারাঙ্গা রানের গতিটা ঠিকই বাড়িয়ে দিয়ে যান। তবে ষষ্ঠ ওভারে মোস্তফিজের বলেই পর পর দুই উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। মোস্তাফিজের বলে বিদায় নেন গুনারতেœ ও সিরিবর্ধনে। দু-জনেই রানের খাতা খোলার আগে আউট হন। ফলে ৪০ রানেই শ্রীলংকা হারায় প্রথম ৫ উইকেট। তবে ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে দলকে এগিয়ে নেয় কাপুগেদারা-পেরেরা জুটি। এই জটি ভাংগার আগে দলটি পৌছে যায় ৯৮ রানে। সাকিবই ভাংগে ভয়ংকর হয়ে উঠা জুটি। সাকিবের বলে আউট হওয়ার আগে তুষহারা পেরেরা ২৩ বলে করেন ২৭ রান। দলীয় ১১৯ রানে প্রসন্নকে বোল্ড করে মাশরাফি বিদায়ী ম্যাচে নেন প্রথম উইকেট। আউট হওয়ার আগে প্রসন্ন করেন ১১ রান। তবে ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উড়েছিল কাপুগেদারা। কিন্তু দলীয় ১২৩ রানে মোস্তাফিজের বলে মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে কাপুগেদারা মাঠ ছাড়লে জয়ের পথটা সহজ হয়ে যায় বাংলাদেশের। আউট হওয়ার আগে ৩৫ বলে ৫০ রান করেন তিনি। এরপর আর বেশিদূর যেতে পারেনি দলটি। ১৩১ রানেই অল আউট হতে হয় শ্রীলংকাকে। ফলে বাংলাদেশ পায় ৪৫ রানে জয়। বাংলাদেশের পক্ষে মোস্তাফিজ চারটি আর সাকিব নেন তিনটি করে উইকেট। একটি করে উইকেট পান মাশরাফি, সাইফউদ্দিন ও রিয়াদ। শ্রীলংকা খেলতে পারেনি ২০ ওভার। ১৮ ওভারেই ইনিংস শেষ দলটির।

এর আগে, কলোম্বতে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার দলকে ভালোই এগিয়ে নেয়। তামিমের পরিবর্তে সৌম্যর সাথে ব্যাট করতে ওপেনিং জুটিতে দলকে ৭১ রানে নিয়ে যান সৌম্য সরকার। এই দুই ব্যাটসম্যানের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে প্রথম ৫ ওভারেই ফিফটি রান ছাড়ায় টাইগাররা। তবে দলীয় ৭১ রানে এসে সৌম্য সরকারের বিদায়ে ভাংগে সফল এই ওপেনিং জুটি। গুনারতেœর বলে সরাসরি তার হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌম্য। তিনি ১৭ বলে করেন ৩৪ রান। যাতে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছক্কার মার। সৌম্যর বিদায়ে বেশি সয় টিকতে পারেননি ইমরুল কায়েসও। পরের ওভারে ফিরে যান তিনি। প্রসন্নের বলে রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে ফিরে যান ইমরুল। বিদায়ের আগে ২৫ বলে ৩৬ রান করেন ইমরুল। যাতে ছিল ৪টি চার ও একটি ছক্কার মার। ফলে ৭৮ রানে বাংলাদেশ হারায় প্রথম দুই উইকেট। দলীয় ৭৮ রানে দু-ওপেনার বিদায় নিলেও দলকে এগিয়ে নিকে ব্যাট চালান সাকিব-সাব্বির জুটি। এই জুটি দলকে শতরানের কোটা পার করে বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে নেন। এই জুটি ভাংগার আগে বাংলাদেশ পৌছে যায় ১২৪ রানে। সাব্বিরের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। সানজায়ার বলে বোল্ড আউট হওয়ার আগে সাব্বির করেন ১৮ বলে ১৯ রান। দলীয় ১৩৯ রানে বাংলাদেশ হারায় সাকিবের উইকেটটি। কুলাসেকারার বলে বোল্ড হওয়ার আগে সাকিব ৩১ বলে করেন ৩৮ রান। যার মধ্যে ছিল ৪টি বাউন্ডারির মার। সাকিবের বিদায়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। কিন্তু দলীয় ১৫২ রানে তাকে বোল্ড করে ফিরান পেরেরা। আউট হওয়ার আগে মোসাদ্দেক ১১ বলে করেন ১৭ রান।  শেষ দিকে ব্যাট করতে নেমে শক্তহাতেই ব্যাট চালাচ্ছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু বেশিসময় তাকে টিকতে দেননি মালিঙ্গা। দলীয় ১৬৯ রানে বোল্ড করে তাকে ফিরান মালিঙ্গা। ৬ বলে ১৫ রান করেন মুশফিক। মুশফিককে আউট করার পরের দুই বলে মাশরাফি আর মিরাজকে আউট করে হ্যাটট্রিক করেন মালিঙ্গা। ফলে বিদায়ী ম্যাচে রানের খাতা খোলা হলোটা টাইগার অধিনায়কের। আর অভিষেক ম্যাচে রানের খাতা খুলতে পারেননি মিরাজ। বরং অভিষেক ম্যাচে মালিঙ্গার হ্যাটট্রিকের ফাদে পড়লেন। শেষ বলে সাইফউদ্দিন রান আউট হলে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে করে ১৭৬ রান। শ্রীলংকার পক্ষে মালিঙ্গা হ্যাটট্রিকসহ নেন তিন উইকেট। ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এটা মাশরাফির শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। গতকাল দলে দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ইনজুড়ির কারনে এই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন ওপেনার তামিম ইকবাল। তার জায়গায় দলে সুয়োগ পান ইমরুল কায়েস। আর  পেসার তাসকিন আহমেদ বাদ পড়লে তার পরিবর্তে অভিষেক হয় স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের। তবে শ্রীলংকা অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ   ১৭৬/৯ (২০ ওভার)

শ্রীলংকা     ১৩১/১০ (১৮ ওভার)

 

ফল : বাংলাদেশ ৪৫ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : সাকিব আল হাসান(বাংলাদেশ)।

সিরিজ সেরা : লাসিথ মালিঙ্গা(শ্রীলংকা)।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ