শুক্রবার ২৯ মে ২০২০
Online Edition

কলারোয়ায় তামাদি ঋণ আদায়ে শতাধিক কৃষকের নামে সার্টিফিকেট মামলা

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা: পরিশোধ করা ও তামাদি ঋণ আদায়ে কলারোয়ার শতাধিক কৃষকের নামে সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে ছয় বছর আগে মৃত ব্যক্তির নামে ২ বছর সার্টিফিকেট মামলা চলছে। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, বিগত শতাব্দীর ৮০ দশকে প্রচণ্ড অভাব অনাটনে কলারোয়া উপজেলার বহু মানুষ খুলনার সমবায় জমি বন্ধকী ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে। ব্যাংকের তৎকালীন কর্মচারীরা বাড়ি বাড়ি যেয়ে এসব ঋণের কিস্তি আদায় করত। অনেক কৃষক ব্যাংক কর্মচারীদের কাছে সম্পুর্ণ, কেউ অর্ধেক, কেই আংশিক ভাবে ঋণ পরিশোধ করে। এরপর ১৯৯৫ সালে তৎকালীন সরকার ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদ ও আসলে মওকুফ ঘোষনার পরে সমবায় জমি বন্ধকী ব্যাংকের কর্মচারীদের আর এলাকায় আসতে দেখা যায় নি। আর এদিকে প্রায় এক যুগের বেশী অতিক্রান্ত হওয়ায় ঋণ পরিশোধের রশিদ নষ্ট হওয়ার বিষয় বুঝতে পেরে ব্যাংক কর্মচারীরা ২০০৮ সালে এসে কয়েক জন কৃষকের নামে কলারোয়ায় সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করে। এরপর পর্যায়ক্রমে গ্রামে গ্রামে ঘুরে যাদের কাছে ঋণ পরিশোধের রশিদ নেই তাদের নামে একের পর এক সার্টিফিকেট মামলা দায়ের অব্যাহত রেখেছে। চলতি মার্চ মাস পর্যন্ত কলারোয়ার শতাধিক কৃষকের নামে সমবায় জমি বন্ধকী ব্যাংক সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করেছে। উপজেলার দঃ সোনাবাড়িয়া গ্রামের আঃ সবুর জানায়, তার পিতা শামছুদ্দিন সরদার মারা যাওয়ার আগে জমি বিক্রি করে সমবায় জমি বন্ধকী ব্যাংকের ঋণের টাকা সম্পুর্ণ পরিশোধ করে। কিন্তু প্রায় ১৫ বছর পরে এসে ঋণ পরিশোধের রশিদ না থাকার সুযোগে সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করে পুনারায় তাদের কাছ থেকে  সম্পৃর্ণ ঋণের টাকা আদায় করা হয়েছে।
এদিকে সোনাবাড়িয়া গ্রামের আঃ রহমান ১৯৮৬ সালে ৭ হাজার ঋণ গ্রহণ করে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে থাকে। ২০০৪ সালে তিনি গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়ার পর থেকে ২০০৬ সালে ৪ মার্চ মারা যাওয়া পর্যন্ত তার কাছে এবং তারপরে ২০১৪ পর্যন্ত কেউ তার পুত্রদের কাছে ঋণ পরিশোধের তাগিদ দেওয়া হয় নি। কিন্তু ২০১৪ ডিসেম্বর মাসে প্রায়ত আঃ রহমানের ৩ পুত্রের নামে ৪২ হাজার টাকার দাবিতে কলারোয়ায় সার্টিফিকেট মামলা (নং-১৩৮/১৪) দায়ের করা হয়। এরমধ্যে ২০১১ সালে আঃ রহমানের মৃত্যু পুত্র আঃ ওহাবের নামে মামলা করা হয়েছে। এব্যাপারে লিখিত ভাবে আপত্তি দেওয়া সত্বেও গত ২ বছর যাবত মৃত আঃ ওহাবের নামে সার্টিফিকেট মামলা চলমান রয়েছে। ঢাকা হাইকোর্টের আইনজীবি ও সাতক্ষীরা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, পিডিআর এ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা চলমান অবস্থায় কেউ মারা গেলে তার ওয়ারেশের নাম অন্তভ্ক্তূ করে মামলা অব্যাহত রাখা যায়। কিন্তু মৃত ব্যক্তির নামে মামলা হলে সেই মামলা বাতিল বলে গণ্য হয়। তাছাড়া ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত তারিখের পর ৩ বছর অতিক্রান্ত হলে সেই ঋণ তামাদি অর্থাৎ ঋণ আদায়ে মামলার অধিকার থাকে না। তামাদি আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, একবার ঋণ তামাদি হলে বিবাদী আপত্তি না দিলেও দায়েরকৃত মামলা তামাদি বলে গণ্য হবে। আর তামাদি আইনের ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোন ঋণ তামাদি হওয়ার পরে প্রদত্ত স্বীকৃতি সেই ঋণ আদায়ের আইনগত অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারে না। কিন্তু কলারোয়ার সাধারণ মানুষ আইনের এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তাছাড়া সমবায় জমি বন্ধকী ব্যাংক ঋণ আদায়ে মামলা করলেও কৃষকদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এব্যাপারে হয়রাণীর শিকার কৃষকরা অবিলম্বে সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ