শুক্রবার ২৯ মে ২০২০
Online Edition

জোড়াতালি দিয়েই চলছে খুলনা বেনাপোল রুটের ট্রেন

খুলনা অফিস : একেবারে জোড়াতালি দিয়েই চলছে খুলনা-বেনাপোল রুটের ট্রেন। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রক্ষাকারী রুটে ট্রেনের অবস্থা দেখে যাত্রীসাধারণ মন্তব্য করে থাকেন ‘মা বাপ নেই ট্রেনটির’। ৭টি বগির ট্রেনটিতে টয়লেট আছে নামকাওয়াস্তে। ব্যবহার করতে পারেন না যাত্রীরা। সিটগুলোতে ঠিকমতো বসা যায় না। কোনো শৃঙ্খলা নেই। ঠাসাঠাসি করে যেতে হয় যাত্রীদের। স্টেশনগুলোতে টিকিট কাটার ব্যবস্থা আছে কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চলন্ত ট্রেনে টিকিটের পয়সা আদায় করা হয় লোকাল বাস সার্ভিসের মতো।
খুলনা থেকে নিয়মিত বেনাপোল যাতায়াতকারী চাকরিজীবী কবির উদ্দিন জানালেন, ‘বাসের চেয়ে পয়সা কম বলে ট্রেনে যাতায়াত করি। কিন্তু আর কষ্ট সহ্য হচ্ছে না। একটি বগির টয়লেট ব্যবহার করা যায় না। কর্তৃপক্ষকে বললে তারা জবাব দেন প্রতিটি টয়লেট চোরাচালানিরা মালামাল নিয়ে ভেঙে ফেলেছে’। সামগ্রিকভাবে রুটটিতে যাত্রীসেবার মান সর্বনি¤েœ পৌঁছেছে।
যশোর স্টেশনের একজন রেলওয়ে কর্মকর্তা জানান, গুরুত্বপূর্ণ রুটটিতে ট্রেনের বগি বাড়ানো ও নড়বড়ে লাইন সংস্কারসহ সামগ্রিক উন্নয়নের ব্যাপারে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়ে থাকেন। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ মোটেও দৃষ্টি দিচ্ছেন না। তাদের কথা ‘চলে তো যাচ্ছে কোনোরকমে, কোনো বরাদ্দ না পেলে কিভাবে উন্নয়ন করব, তারপরও চেষ্টা করা হচ্ছে ট্রেনের বগি, রেললাইন ও স্টেশনগুলোর অবস্থা ভালো করার’। ইতোমধ্যে একটি চেয়ার কোচ সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাও নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি কবে থেকে চেয়ার কোচ যুক্ত হবে।
জানা যায়, যাত্রীসাধারণ ওই রুটে ট্রেনে চলাচল করতে খুব একটা আগ্রহী হন না। স্বাচ্ছন্দ্যবোধও করেন না। অথচ সমস্যা সমাধান ও উন্নতি করা হলে সড়কপথে যাত্রীসাধারণের চাপ কমত। তাতে রেলওয়ের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেত।
একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সরাসরি ট্রেন চালু হবে খুব তাড়াতাড়ি। তখন সবকিছু করা হবে। যার কারণে খুলনা-বেনাপোল রুটের ট্রেনের দিকে আপাতত কর্তৃপক্ষ কোনো নজর দিচ্ছেন না।
সূত্র জানায়, যশোর-বেনাপোল রেললাইন এবং যশোর, ঝিকরগাছা ও বেনাপোল স্টেশন ব্রিটিশ আমলের স্থাপনা নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রেললাইনটি সংস্কার ও মেরামতের জন্য দফায় দফায় চিঠি দেয়া হলেও কোনো ফল হচ্ছে না।
রুটটিতে একটি মাত্র ট্রেন চার বার যাতায়াত করে। ইতোপূর্বে কমিউটার ট্রেন খুলনা থেকে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেত সকাল ৭টায়। সেই সময় পরিবর্তন করে সকাল ৬টা করা হয়েছে, যা যাত্রীসাধারণের জন্য খুব কষ্টকর হয়েছে। একজন পাসপোর্ট যাত্রী বিশেষ করে রোগীদের বেলায় অত সকালে রেডি হয়ে ট্রেনে চেপে বেনাপোল পৌঁছানো তারপর ওপারের গন্তব্যে পৌঁছানো কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
এ ব্যাপারে রেলওয়ের বেনাপোল, যশোর ও খুলনা স্টেশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘একটি মাত্র ট্রেন চারবার যাতায়াত করলে সিডিউল পরিবর্তন করা হয়। বিষয়টি যাত্রীদের কাছ থেকেও অভিযোগ পেয়েছি। দেখি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিবর্তন করা যায় কি না।
সূত্র জানায়, খুলনা থেকে ৬টায় ছেড়ে ৭টা ১০ মিনিটে যশোরে, তারপর সকাল সাড়ে ৮টায় বেনাপোল। বেনাপোল ৯টায় ছেড়ে যশোর হয়ে সাড়ে ১১টায় খুলনা। এরপর আবার ১২টায় খুলনা থেকে ছেড়ে ২টা ৩০ মিনিটে বেনাপোল, বেনাপোল থেকে সাড়ে ৩টায় ছেড়ে ৬টায় খুলনা পৌঁছানোর সিডিউল রয়েছে খুলনা-বেনাপোল রুটের একটি ট্রেনের। অভিযোগ, সিডিউল মোতাবেক ট্রেনটি যাতায়াত করতে পারে না।
যশোর-বেনাপোল সড়কের ওপর চাপ কমাতেই মূলত ব্রিটিশ আমলে যশোর-বেনাপোল সড়ক বরাবর রেললাইন স্থাপিত হয়। স্বাধীনতার পর চোরাচালান বৃদ্ধি ও লোকসান দেখিয়ে রেললাইনটি বন্ধ থাকে কয়েক যুগ।
কয়েক বছর হলো রুটটি চালু হয়েছে। এখন লাভজনকও হচ্ছে। কিন্তু ট্রেনের বগি, রেললাইন ও স্টেশনগুলোর উন্নয়ন না করায় রুটটিতে আশানুরূপ রাজস্ব আয় হচ্ছে না। বাড়ছে না যাত্রীসেবার মান।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাত্রীসাধারণের যাতায়াত আগের চেয়ে বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সে মোতাবেক রুটটির দিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নজর দিচ্ছেন না। এতে যাত্রীসাধারণের ক্ষোভ বাড়ছে। বেনাপোল, যশোর ও খুলনার স্টেশনে প্রায়ই যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ