শুক্রবার ২৯ মে ২০২০
Online Edition

বেড়িবাঁধ ভেঙে আশাশুনি ও তালায় চারটি গ্রাম প্লাবিত

খুলনা : বেড়িবাঁধ ভেঙে আশাশুনি ও তালায় চারটি গ্রাম প্লাবিত

# ৫শ’ বিঘা জমির ধান পানির নিচে
# দুইশ’ বিঘা মৎস্য ঘের প্লাবিত
# কোটি টাকার ক্ষতি
খুলনা অফিস: সাতক্ষীরার আশাশুনি ও তালার কপোতাক্ষ নদের প্রায় ২০০ ফুট বেড়িবাঁধ প্রবল জোয়ারে ভেঙে চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পাঁচশ’ জমির ধান, দুই শ’ বিঘা মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে কপোতাক্ষ নদের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় শতাধিক ব্যক্তির বাড়ি-ঘর, পুকুর, বাগান, কবর স্থান ও রাস্তা-ঘাট প্লাবিত হয়ে কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ক্ষতিগ্রস্তরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর ঢালী জানান, প্রবল জোয়ারের তোড়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এতে চাকলা গ্রামের শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ি ও ২০০ বিঘা মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়।
স্থানীয় প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, কপোতাক্ষ নদের চাকলা পয়েন্টের বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বার বার বলা সত্ত্বেও তারা সংস্কারের উদ্যোগ না নেয়ায় রাতে প্রায় ২০০ ফুট এলাকা জুড়ে ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তিনি জানান, সেখানে দুই শতাধিক এলাকাবাসীদের নিয়ে রিং বাঁধ দিয়ে সংস্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রিং বাঁধ সংস্কার করা না গেলে পরবর্তী জোয়ারে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে।
উল্লেখ্য, গত দুই বছরে একই স্থান থেকে একাধিক বার বাঁধ ভেঙে গেছে। কিন্তু কোনো স্থায়ী বাঁধ না দেয়ার ফলে এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অপরদিকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বালিয়া গ্রামে কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্পের টিআরএমভুক্ত পাখিমারা বিলের সংযোগ খালের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ৫০০ বিঘা জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া খাল সংলগ্ন লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় শতাধিক ঘর-বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে কাঁচা ঘর ধসে পড়তে পারে বলে ইউপি চেয়ারম্যান আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। ক্ষেতের ধানসহ বাগান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে একাধিক কাঁচা ঘর-বাড়ি। ঘরের মধ্যে পানি প্রবেশ করায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে দরিদ্র অনেক পরিবার।
বালিয়া গ্রামের মো. মুজিবুর রহমান গাজী ও হাবিবুর রহমান গাজী জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে জোয়ারের পানির চাপে কপোতাক্ষ নদের টিআরএমভুক্ত খালের সংযোগস্থলের বাঁধ ধসে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে কপোতাক্ষ নদের লোনা পানি বিলের মধ্যে ও লোকালয়ে প্রবেশ করে। রাতেই গ্রামের লোকজন স্বেচ্ছায় বাঁধ সংস্কারের চেষ্টা করে। কিন্তু জোয়ারের পানির চাপে বাঁধ আবার ধসে যায় এবং অনেক স্থানে বাঁধ উপচে পানি বিলে ও লোকালয়ে প্রবেশ করে। পানিতে খালপাড় সংলগ্ন হাবিবুর রহমান গাজী, আব্দুল্লাহ গাজী, সাইফুল্লাহ গাজী, কাছেদ মোড়ল, জাহাঙ্গীর মোড়ল ও তোজাম মোড়লসহ শতাধিক ব্যক্তির বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে।
তালা উপজেলার খেশরা ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক রাজীব হোসেন রাজু জানান, জোয়ারের পলিবাহিত লোনা পানি বালিয়া, শুভঙ্করকাঠি ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের সাড়ে ৫০০ বিঘার বিলে প্রবেশ করে। এতে জমির পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হওয়াসহ বিলের একাধিক মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। নদের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় শতাধিক ব্যক্তির বাড়ি-ঘর, পুকুর, বাগান, কবরস্থান ও রাস্তা প্লাবিত হয়ে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কেশবপুর অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ হোসেন জানান, কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী বালিয়া খাল দিয়ে পাখিমারা বিলে টিআরএম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বালিয়ায় কপোতাক্ষ নদের সংযোগ খাল দিয়ে টিআরএম বাস্তবায়নের জন্য খালের পাড়ে মজবুত করে বাঁধ নির্মাণ করার সময় স্থানীয় আরশাদ আলী মোড়ল ও আলাউদ্দীন মোড়লসহ কয়েক জন বাধা দেয়। যে কারণে খাল পাড়ে মজবুত বাঁধ নির্মাণ না করায় জোয়ারের চাপে বাঁধ ধসে ও উপচে পানিতে বিল ও লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাঁধ ধসে পড়ার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খাল রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ