রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১৩০৬৯ জন

গতকাল রোববার থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে এইচএসসি, সমমানের ও আলিম পরীক্ষা Ñসংগ্রাম

* প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত হলে রেহাই পাবে না -শিক্ষামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৩ হাজার ৬৯ জন পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার হয়েছে ৬৬ জন। এ ছাড়া স্মার্টফোন নিয়ে ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র আনার অভিযোগে ৩ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এবার পরীক্ষায় মোট ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এদের মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৬৯৭ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৯ জন। সারাদেশে মোট ২ হাজার ৪৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

আন্ত: শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির দেয়া তথ্য মতে, অনুপস্থিত ১৩ হাজার ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ২,১৬১ জন, রাজশাহীতে ১,৪০২ জন, কুমিল্লায় ১,১৫৮ জন, যশোরে ১,০৪৭ জন, চট্টগ্রামে ৯০০ জন, সিলেটে ৫৪৬ জন, বরিশালে ৬৩৬ জন, দিনাজপুরে ১,১১০ জন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় ২১ জন ও কারিগরিী বোর্ডের ৪২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। বহিষ্কার হয়েছে ৬৬ জন। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ২ জন, চট্টগ্রামে ১ জন, মাদরাসা বোর্ডে ২১ জন ও কারিগরি বোর্ডে ৪২ জন। 

এ দিকে পরীক্ষার প্রথম দিনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল রাজধানীর ঢাকা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হলের সামগ্রিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। পরীক্ষাথীরা তাঁকে জানায়, এবার প্রশ্নপত্র ভাল হয়েছে এবং তারা ভালভাবে পরীক্ষা দিচ্ছে।

পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০১৭ সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্নের লক্ষ্যে সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সারাদেশে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে কেউ জড়িত হলে তারা রেহাই পাবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না। তিনি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

মন্ত্রী বলেন, বিজি প্রেসের খোলনলচে পাল্টে দেয়া হয়েছে। এখান থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন সুযোগ নেই। এখন কিছু শিক্ষক এর সাথে জড়িত হয়ে গেছে। কিছু অভিভাবক ফাঁস হওয়া প্রশ্ন খোঁজেন। তাঁরা তাদের ছেলেমেয়েদের পড়তে উৎসাহিত না করে এ পথে নিয়ে আসেন। 

প্রশ্ন ফাঁসরোধে আগামী বছর থেকে স্থানীয়ভাবে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া যাবে বলে আশা করছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আঞ্চলিকভাবে প্রশ্ন ছাপিয়ে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি না- একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে নাহিদ বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী বছর করতে পারব।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এবং কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন।

এবার মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে ৯ লাখ ৮২ হাজার ৭৮৩ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে ৯৯ হাজার ৩২০ জন, কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৯৬ হাজার ৯১৪ জন ও ডিআইবিএসে (ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ) ৪ হাজার ৬৬৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

তত্ত্বীয় (লিখিত) পরীক্ষা শেষ হবে ১৫ মে শেষ হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৬ মে শুরু হয়ে শেষ হবে ২৫ মে। এবার ৮ হাজার ৮৬৪টি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ২ হাজার ৪৯৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। বিদেশে সাতটি কেন্দ্রে ২৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

এ বছর মোট ২৬টি বিষয়ের ৫০টি পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে। ২০১২ সালে শুধু বাংলা প্রথম পত্রের সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৫ সালে ১৩টি বিষয়ের ২৫টি পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত বছর ১৯টি বিষয়ের ৩৬টি পত্রে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ