ঢাকা, বুধবার 12 August 2020, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ২১ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

আইপিইউ’র এসেম্বলি আয়োজন বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে : স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সাথে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৩৬তম এসেম্বলিতে অংশগ্রহণকারী থাইল্যান্ড,পোলান্ড ও মঙ্গোলিয়ার পার্লামেন্টারি ডেলিগেশনের প্রধানরা আজ তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন।

স্পিকার সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ১৩৬তম আইপিইউ এসেম্বলির আয়োজন বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ ও সংসদ-সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংস্থা থেকে আগত প্রতিনিধিদের এ মিলন মেলা বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।

আইপিইউ’র ১৩৬তম এসেম্বলি শনিবার থেকে ঢাকায় শুরু হয়েছে। ৫ দিনব্যাপী এ এসেম্বলিতে আইপিইউ’র সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিরা অংশ নিচ্ছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও আইপিইউ এসেম্বলির সভাপতি ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এসেম্বলিতে অংশগ্রহণের জন্য এসব দেশের প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান।

আইপিইউ এসেম্বলির মত একটি বড় আয়োজন করতে পেরে বাংলাদেশ গর্বিত- এ কথা উল্লেখ করে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি আশাবাদী,এসেম্বলি চলাকালীন প্রতিনিধি দলের প্রত্যেক সদস্য এসেম্বলির ইভেন্টগুলো উপভোগ করবে এবং এসেম্বলির সকল কার্যμমে তাদের অংশগ্রহণ হবে অবশ্যই আন্তরিক ও স্বতঃস্ফূর্ত।’

সাক্ষাতকালে তারা ১৩৬তম আইপিইউ এসেম্বলির সার্বিক সফলতা, বাংলাদেশের সংসদীয় কার্যক্রম, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করেন।

থাইল্যান্ড ন্যাশনাল লেজিসলেটিভ এসেম্বলির প্রথম ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও প্রতিনিধি দলের প্রধান সুরাচি লিয়েনবুনলার্টচাই সাক্ষাতকালে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জানান থাইল্যান্ড বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এবং উন্নয়ন অংশীদার। স্পিকার বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের কল্যাণে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এর ফলে আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতি লাভ করছে। বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এখন দৃশ্যমান। স্পিকার বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে থাইল্যান্ডের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বিশেষ করে পাটজাত দ্রব্য , তৈরি পোশাক শিল্প, বিদ্যুত জ্বালানী ও চামড়া শিল্পে পিপিপি ও বিওটি পদ্ধতিতে বিনিয়োগের জন্য থাই ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানান।

এ সময় তারা দু’দেশের সংবিধান নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করেন। থাইল্যান্ডের নতুন সংবিধান প্রণয়নের বিষয়টিও থাইল্যান্ড প্রতিনিধি দলের প্রধান স্পিকারকে অবহিত করেন। ড. শিরীন শারমিন বাংলাদেশের সংবিধানকে বিশ্বের অনন্য সংবিধান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, থাইল্যান্ড নতুন সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানকে অনুসরণ করতে পারে। তিনি বলেন, চারটি মূল নীতি- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র¿ ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশ সংবিধানের মূল বৈশিষ্ট্য। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ এদেশে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করছে।

সংসদ সদস্য পোল্যান্ড প্রতিনিধিদলের প্রধান এলজবিয়েটা ক্রুকের সাথে সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, পোল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চমৎকার। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ এ কথা উল্লেখ করে স্পিকার বাংলাদেশ থেকে পাটজাত পণ্য, কৃষিজাত পণ্য ও ওষুধ আমদানির আহবান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে একশ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। তিনি পোল্যান্ডের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহবান জানান।

পোল্যান্ড প্রতিনিধিদলের প্রধান বলেন, ১৩৬তম আইপিইউ এসেম্বলি বাংলাদেশ অত্যন্ত সুন্দরভাবে আয়োজন করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ইউরোপের মধ্যে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে স্বাধীন দেশ হিসেবে পোল্যান্ড বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পরবর্তি নির্বাচনে পোল্যান্ড একমাত্র প্রার্থী। এক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন। এসময় স্পিকার প্রয়োজনীর সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। বাংলাদেশের জনসমষ্টির সিংহভাগ তথা শতকরা ৬৫ ভাগ তরুণ সমাজ। এ জনশক্তিতে কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মঙ্গোলিয়ার ডেলিগেশনের হেড, সেদেশের পার্লামেন্টের চেয়ারম্যান মাইয়েগম্বো এংখ্বোল্ড স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎকালে বলেন, বাংলাদেশের সাথে মঙ্গোলিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে। তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গোলিয়া ডেলিগেশন প্রধান বাংলাদেশ ও মঙ্গোলিয়া সংসদীয় প্রতিনিধি পর্যায়ে সম্পর্কোন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ভাব বিনিময় ও ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারের ক্ষেত্রে একত্রে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে উল্লিখত তিন দেশের প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।-বাসস

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ