বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নবীগঞ্জে আগাম কালবৈশাখী ঝড়ে সবজি চাষীর ব্যাপক ক্ষতি

শাহ সুলতান আহমেদ নবীগঞ্জ থেকে: নবীগঞ্জে আগাম কালবৈশাখীর ঝড়ে সবজি চাষীর বীজতলা ও তাদের সবজি ক্ষেত পানিতে কানায় কানায় জমেছে।  অনেকের আবার সবজি ক্ষেত পানিতে প্লাবিত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- পুরো উপজেলার প্রত্যন্ত  গ্রামাঞ্চলের( রবি শষ্য ) সবজি চাষীরা তারা মনের আনন্দ নিয়ে এ বছর বিভিন্ন ধরনের সবজি যেমন- আলু, শীম, লাউ, ধনিয়া, টমেটো, গাজর, ক্ষিরা, কুমড়া, মরিছ, পালং শাক, ফুলকপি, বাঁধা কপি, বেগুন,সহ অন্যান্য সবজি চাষ করে মনে বড় আশা বেঁধেছিলেন। কিন্তু আগাম কালবৈশাখীর ঝড় তাদের আশার ভেঙ্গে এখন তারা হতাশায় রয়েছেন। গত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন  হয়েই শুরু হয় বৃষ্টি,ও তার সাথে ধমকা হাওয়া । দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন কৃষকের ( রবি শস্য ) সবজি ক্ষেতের কানায় কানায় বৃষ্টির পানি জমে যায়।এবং অনেকের জমি ও সবজি ক্ষেত প্লাবিত হওয়ার দৃশ্য ও দেখা গেছে । আরো জান গেছে- বিগত দিনের চেয়ে এখন নবীগঞ্জ উপজেলার কৃষকগণ তাদের কৃষি কাজের  পেশা বদল করে রবি শষ্য উৎপাদন করার দিকে নজর দিচ্ছেন। এবং অনেকে আবার এ পেশার দিকে ধাবিত হয়ে  একমাত্র পেশা  হিসেবে বেচে নিচ্ছেন। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর তারা অধিক ফলনের আশা করছিলেন। কিন্তু আগাম কালবৈশাখীর ঝড়ে তাদের আশা নস্যাৎ করে দিয়েছে । একটানা বৃষ্টি হওয়ায় সবজি ক্ষেত নরম হয়ে গুড়া এখন নুইয়ে পড়েছে । অধিক ফলনের ঝুকিতে গাছ ভেঙে যাচ্ছে। সবজি চাষীদের মধ্যে অনেকে  বিভিন্ন দাতা সংস্থা, স্থানীয় এনজিও সংস্থা, ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন দিয়ে তারা ঐ সব পেশা করছেন। কয়েক বছর যাবত শেভরন বাংলাদেশে এর অর্থায়নের (আইডিয়া) সংস্থার বিশেষ তত্বাবধানে নবীগঞ্জ উপজেলার  ইনাতগঞ্জ , দীঘলবাক , আউশকান্দি ইউনিয়নের প্রায় ২৮ টি(ভিডিও) বা সমিতি গঠন করে তারা বিভিন্ন ধরনের ঋণ দিয়ে ঐ ধরনের প্রজেক্ট করে লাভমান হওয়ার উৎসাহিত করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন গ্রামের হতদরিদ্র লোকেরা তারা এ দিকে বিশেষ নজর রেখে সবজি চাষ করার দিকে ঝুঁকছে। সবজি বিক্রি করে অনেকে তারা পরিবার পরিজনের ভরণ-পোষণ চালিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ কাল বৈশাখির ঝড়ে নবীগঞ্জে কোন ক্ষয় ক্ষতি হচ্ছে কি ,জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার দুলাল উদ্দিন জানান-বড় ধরনের কোন ক্ষতি হতে তিনি শুনেননি। কিন্তু এ ধরনের বৃষ্টি হলে নবীগঞ্জের বোরো কৃষকের জমি তলিয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। এ বছর পুরো উপজেলায় ১৬ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে ধান হবার সম্ভাবনা রয়েছে । কিন্তু শিলা বৃষ্টি হলেই কৃষকদের ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ