বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মারধরে গুরুতর জখম মেধাবী শিশু সাবিনা ৭ মাসেও সুস্থ হয়নি ॥ স্কুলে যাওয়া বন্ধ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : তখন সাবিনা আক্তার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরছিল। ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট। বিকেল আনুমানিক চারটা। শাহআলম ফরাজীর স্ত্রী সাজেদা বেগম গরু বাঁধার একটি কাঠের গোছ দিয়ে সজোরে আঘাত করে সাবিনার বাহুতে। সাবিনার বাম বাহু বরাবর হাতের জয়েন্টের হাড়ে মারাত্মক আঘাত পায়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠেনি সাবিনা। মেধাবী এ শিশুটি হাতের ব্যান্ডেজ নিয়ে প্রাথমিকের সমাপনি পরীক্ষা দিয়েছে। সে জিপিএ ৫ পেয়েছে। হাজীপুর মাধ্যমিক বিদালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু এখন তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ। হাতের ওই আঘাত ভাল হয়নি। অসহ্য যন্ত্রণা করে, তখন বাড়িতে কাতরায়। কান্না করে। জয়েন্টের হাড়ের আঘাত মারাত্মক বলে সাবিনার মায়ের দাবি। নির্দিষ্ট চিকিৎসকের কাছে এসেছিলেন। না পেয়ে ফের বাড়ি চলে গেছেন। এমন নির্মম শিশু নির্যাতনের কথা বলতে সাবিনা তার মায়ের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেলে কলাপাড়া প্রেসক্লাবে এসেছিলেন। জমিজমা সংক্রান্ত মামলা-বিরোধ রয়েছে সাবিনার বাবা ছিদ্দিক হাওলাদারের সঙ্গে নীলগঞ্জের সৈয়দপুর গ্রামের শাহআলম ফরাজীর সঙ্গে। তার স্ত্রী সাজেদা বেগম এ শিশুকে নির্দয়ভাবে মারধর করে। দীর্ঘ সাত মাস চিকিৎসার পরও সন্তানের হাত ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারছে না। স্কুলে যেতে পারছে না। সবসময় যন্ত্রণা করছে। এনিয়ে কান্না জুড়ে দেন সাবিনার মা জেসমিন বেগম। তিনি এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। পুলিশের এক কর্মকর্তা দায়সারা গোছের একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে জেসমিন বেগম ক্ষুব্ধ। চিকিৎসা এবং মামলায় বহু টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু মেয়ের হাতের বড় সমস্যার শঙ্কায় চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন জেসমিন বেগম। আদৌ হাতের সমস্যা চিকিৎসায় ভাল হবে কি না এ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। তিনি যথাযথ বিচার চেয়েছেন। জেসমিন বেগমের প্রশ্ন জমিজমা নিয়ে মামলা আছে। যারা জিতবে তারা জমি পাবে, তাতে ছোট্ট ছেলে-মেয়ের দোষ কী। বর্তমানে সন্তানের এ অবস্থার দুশ্চিন্তার সঙ্গে জেসমিন বেগমের দুশ্চিন্তা মেয়ে সাবিনার লেখাপড়া কীভাবে চলবে। আদৌ ভাল হয়ে কবে স্কুলে যেতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ