বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ছড়া/কবিতা

দেশকে ভালোবাসি
রেদওয়ানুল হক

দেশকে ভালোবাসি আমি
দেশকে ভালোবাসি
দেশের কিছু হলে আমার
যায় শুকিয়ে হাসি।

দেশকে ভালোবাসি আমি
দেশকে ভালোবাসি
প্রয়োজনে কোথাও গেলে
আবার ফিরে আসি।

দেশকে ভালোবাসি আমি
দেশকে ভালোবাসি
দেশের জন্য অস্ত্র ধরে
যুদ্ধযানে ভাসি।

দেশকে ভালোবাসি আমি
দেশকে ভালোবাসি
দেশটা আমার বুকের ভেতর
থাকে বারোমাসই।


বায়ান্ন আর একাত্তর
খালীদ শাহাদাৎ হোসেন

বায়ান্ন আর একাত্তরের আন্দোলনের ডাক
শুরু শেষ পরিবেশ নয়তো তেমন ফাঁক,
বায়ান্নর ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার লড়াই
রাজপথে মিছিলে লাশ তবুওনা ডরাই।

বুলেট বোমার ভয়ে ওদের হয়নি মাথা নত
স্বাধীনতার অঙ্কুর এরা সৌভাগ্য খ্যাত
বায়ান্নর ভাষার লড়াই আন্দোলনের সিঁড়ি
একাত্তরে গর্জে ওঠে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি।

শহীদ খুনের ভিত্তিভূম বেজায় বড় শক্ত
রোদ-বৃষ্টি মহাকালে মুছেনা সে রক্ত
রক্ত দিয়ে পেলাম ভাষা রক্তে স্বাধীনতা
বায়ান্ন আর একাত্তরের একই ইতিকথা॥


মুক্তিসেনা
জাকির আজাদ

একাত্তরের যুদ্ধ জয়ী
দেশের মুক্তি সেনা,
তাদের কাছে দেশ ও জাতির
অনেক অনেক দেনা।

বিশ্বের নিকট যে দেশটা
স্বাধীন রাষ্ট্র চেনা,
তাদের মহান আত্মত্যাগে
বুকের রক্তে কেনা।
এই যোদ্ধারা বেঁচে যারা
কেউতো খবর নে’না,
খুব কষ্টে কাটছে জীবন
পরণে ছিন্ন তেনা।

অন্ন যোগাড় করতে যেয়ে
তুলছে মুখে ফেনা,
দিবস ধরে দিয়ে কি লাভ
গোলাপ হাসনাহেনা।


স্বাধীনতা তুমি
কাজী আবুল কাসেম রতন

স্বাধীনতা তুমি-
বাংলাদেশের বাংলা মায়ের
শুভেচ্ছা।
স্বাধীনতা তুমি-
দাদুর মুখে
রূপকথারই
সু-কিচ্ছা।
স্বাধীনতা তুমি-
সূর্যে ভাষা
রক্তিম হেম।
স্বাধীনতা তুমি-
মুক্তি সেনার
মুক্ত প্রেম।

স্বাধীনতা তুমি-
উড়ে যাওয়া
স্বাধীন পাখির
প্রত্যাশা।
স্বাধীনতা তুমি-
বীর জনতার
প্রেম প্রীতি জয়
ভালবাসা।


বারুদ পোড়া ঘ্রাণ
সানজীদ নিশান চৌধুরী

হঠাৎ শুনি গর্জে উঠে
বন্দুক এবং বোমা
মা’কে ডেকে বলল ছেলে
কাঁপছে আকাশ ও মা।
দেখলেন মা জানালা দিয়ে
সারা শহর ঢাকা
জ্বলছে এবং পুড়ছে শুধু
রাস্তাগুলো ফাঁকা।

ব্রাশ ফায়ারের শব্দ কেবল
বারুদ পোড়া ঘ্রাণ
হারিয়ে গেলো কতো শত
নাম না জানা প্রাণ।


মুক্ত স্বাধীন
শাহীন খান

পাখি সকল শিস দিয়ে গায়
মুক্ত স্বাধীন
ফুলের পরাগ ফুল হয়ে যায়
নয় পরাধীন।
দূরের আকাশ তারায় সাজে
নয়কো অধীন
নদীর বুকে জোয়ার আসে
দিন প্রতিদিন।

খোকন সোনা মুচকি হাসে
নয় অমলিন
চন্দ্র সূর্য জাগে নিতি
সব যে রঙিন।

আমরা কেন থাকব তবে
শৃৃঙ্খলিত....
বীর বাঙালির সৎকাজেতে
নয়কো ভীত।
স্বাধীনচেতা মানুষগুলো
শক্ত হাতে
আনল শেষে জয় ছিনিয়ে
আঁধার রাতে।


হাসবে বাংলাদেশ
জয়নাল আবেদীন বিল্লাল

একাত্তরের রণাঙ্গনে
যুদ্ধ করি দেশের টানে
ঝড় বৃষ্টি অথৈ বানে
চালাই গুলি মেশিনগানে।

পাকবাহিনী হতাহত
পালিয়ে গেল শত শত
যুদ্ধ চলে শহর গ্রামে
বীর বাঙালির রক্ত ঘামে।

একাত্তরের রণাঙ্গনে
যুদ্ধ চলে পাকির সনে
ভয় ডর একটুকু নেই
মায়ের মুখে হাসি এলেই
স্বাধীনতা পেলে তবেই
যুদ্ধ হবে শেষ
হাসবে বাংলাদেশ।


স্বাধীনতা
এইচ এস সরোয়ারদী

পাখির কত স্বাধীনতা
বেড়ায় ইচ্ছে মতো,
ডালে বসে আপন মনে
গান করে সে কতো।

মেঘের কত স্বাধীনতা
কিংবা নদীর ঢেউ,
ইচ্ছে মতো ছুটে বেড়ায়
দেয়না বাধা কেউ।

এমন মিষ্টি স্বাধীনতা
চাই যে প্রতিক্ষণে,
যখন খুশি, যা ইচ্ছে তাই
লিখব আপন মনে।


সবুজ ঘাসে
তমা ইয়াসমিন

বাংলাদেশে সবুজ ঘাসে
বাতাস দোলে ধানের শীষে
রঙিন ফুলে সুবাস ভাসে
আমার বুলি বর্ণ হাসে।
মায়ের কানে ঝুমকো জবা
স্বর্ণবালা হাতে
বিপদ বালাই সব দূর হোক
থাকুক সবে দুধ ভাতে।


বিজয়ের হাসি
শরীফা আক্তার বাঁশরী

যে মাটির তলে গ্যাস আছে তেল খনি
কয়লার পাশাপাশি আছে নীল মণি।
মাঠ ভরা ধান নদী ভরা জল
হাওরে বাঁওড়ে পাখি-জল টলমল।
বনে বনে ফুটে ফুল নদী তীরে কাশ
ফুলে ফলে দোলখায় প্রিয় মধু মাস।

বাউলের একতারা-রাখালের বাঁশি
কোকিলের কুহুতানে ঠোঁটে জাগে হাসি।
ঈদ পূজা-পার্বণে প্রীতিময় মেলা
ক্রিকেটের চার ছয়- দেখে কাটে বেলা।
বিজয়ের হাসি মাখা স্বাধীনতা সুখ
স্বপ্নেরা দোলখায়-নেচে উঠে বুক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ