বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুই সাংবাদিকের মামলা

১ এপ্রিল, মিডল ইস্ট মনিটর, আল জাজিরা : মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন দুই সাংবাদিক। ওই দুই সাংবাদিকের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের হত্যা-তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। মার্কিন বাহিনী তাদের বহুবার হত্যার চেষ্টা করেছে। এদের একজন স্বাধীন মার্কিন সাংবাদিক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা বিলাল আবদুল করীম। অপরজন পাকিস্তান ও সিরিয়ার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা আলজাজিরার সাংবাদিক আহমাদ জাইদান।
মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই দুই সাংবাদিকের মামলার ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
ওই দুই সংবাদমাধ্যম জানায়, বিলাল আবদুল করীম এবং আহমাদ জাইদানের পক্ষে ওয়াশিংটনের ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মামলাটি নথিভুক্ত করেছে মানবাধিকার সংগঠন রিপ্রিভ। মামলার বিবরণে বলা হয়, ‘দুই বাদীর নাম মার্কিন হত্যা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বহুবার মারার চেষ্টা করা হয়।’
অবরুদ্ধ আলেপ্পোতে অভিযানের শেষের দিকে আবদুল করীম আলোচনায় আসেন। তখন তার বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন সিএনএন, বিবিসি, চ্যানেল ৪, আইটিভিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তিনি সেখানে মার্কিন বিমান হামলায় বেসামরিক নিরীহ মানুষ হত্যার কথা উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন আইনি সংগঠন কেইজের মাধ্যমে এক বিবৃতিতে আবদুল করীম বলেন, ‘মার্কিন সরকার কেন আমাকে ভয় পাচ্ছে? তারা সত্যকে ভয় পায়। কারণ তাতে সিরিয়ায় তাদের ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ প্রকৃত চেহারাটা সামনে আসে। এজন্যই তারা আমাকে মারতে চায়।’ আবদুল করীম আরও জানান, তিনি কয়েকবার মার্কিন ড্রোন ও বিমান হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। তার গাড়ি ও দফতর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলেও ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা মার্কিন নথিতে দেখা যায়, মার্কিন কর্মকর্তারা পাকিস্তান ও সিরিয়ার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা জাইদানের কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি আল-কায়েদা ও মুসলিম ব্রাদারহুডের বেশ কয়েকজন প্রথমসারির নেতার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। তাকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৫ সালে স্নোডেনের ফাঁস করা এসব তথ্য প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইন্টারসেপ্ট।
মামলার নথিতে ওই দুই সাংবাদিক আল-কায়েদার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। সেখানে আরও বলা হয়, ইন্টারসেপ্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর তাকে পাকিস্তান ছাড়তে হয়। তিনি ২০ বছর ধরে আলজাজিরা আরবির ইসলামাবাদ ব্যুরো প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। পরে তিনি কাতারে চলে আসেন।
উল্লেখ্য, আবদুল করীম এখনও সিরিয়া থেকে প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাচ্ছেন। মার্কিন হত্যা তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কেইজের পরিচালক মোয়াজ্জেম বেগ বলেন, ‘আবদুল করীম সিরিয়ার ভেতর থেকে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। তার পাঠানো তথ্য বিশ্বের প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমগুলো ব্যবহার করছে। তিনি সিরিয়া যুদ্ধের শক্তিশালী কণ্ঠ হয়ে উঠেছেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ