বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কাশ্মীরে জুমার নামায শেষে বিক্ষোভে পেলেট গানের ছররা গুলী ব্যবহার

১ এপ্রিল, পার্সটুডে : ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে জুমার নামায শেষে বিক্ষোভ মিছিল মোকাবিলা করতে নিরাপত্তা বাহিনী পেলেট গানের ছররা গুলী, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানোর পাশাপাশি শূন্যে গুলী ছুঁড়েছে। ওই ঘটনায় এক ডজনেরও বেশি মানুষজন আহত হন। আহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।
এদিন, শ্রীনগরসহ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
শুক্রবার জুমা নামায শেষে শ্রীনগরের মায়সুমা এলাকায় যুবকরা বিক্ষোভ দেখায়। এসময় পুলিশ তাদের বাঁধা দিলে তাদের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়লে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। দীর্ঘক্ষণ ধরে সংঘর্ষ চলার সময় এলাকার সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
কয়েকদিন আগে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে স্থানীয় তিন বাসিন্দা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে শুক্রবার শ্রীনগরের নৌহাট্টাতে বিক্ষোভকারীরা আসন্ন উপ-নির্বাচন বয়কট করার জন্য স্লোগান দেয়। এছাড়া বারামুল্লা জেলার সোপোর, দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা, অনন্তনাগ, কুলগাম, সোপিয়ান জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে সহিংস বিক্ষোভ হয়।  
গত ২৮ মার্চ বাডগাম জেলায় চাদুরাতে গেরিলাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে এবং তাদের অভিযানে বাঁধা দিলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলীতে ৩ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও কমপক্ষে ৩৫ জন আহত হয়।
ওই ঘটনার প্রতিবাদে ২৯ মার্চ বুধবার কাশ্মির উপত্যাকায় বনধ পালন করা হয় এবং হুররিয়াত নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শুক্রবার জুমা নামাজ শেষে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়।   
বিক্ষোভের আহ্বানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে সমস্ত স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করাসহ হুররিয়াতের দুই প্রধান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি এবং মীরওয়াইজ ওমর ফারুককে গৃহবন্দি করা হয়। অন্যদিকে, জেকেএলএফ প্রধান মুহাম্মদ ইয়াসিন মালিক আগে থেকেই ১৪ দিনের রিমান্ডে শ্রীনগর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। মূলত তাদের ডাকেই শুক্রবার বিক্ষোভ কমসুচি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, কাশ্মির উপত্যাকায় অভিযান চালানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে মাঝেমধ্যেই পাথর ছোঁড়ার ঘটনায় গত শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ওই ঘটনার নেপথ্যে পাকিস্তানের হাত থাকার কথা বলেন। পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে কাশ্মীরী যুবকদের উসকানি দেয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। যুবকরা যাতে পাক প্ররোচনায় পা না দেন সেজন্য তিনি আহ্বান জানান।
গত বৃহস্পতিবার হুররিয়াত মুখপাত্র আইয়াজ আকবর অবশ্য পাথর ছোঁড়ায় উসকানি দেয়ার নেপথ্যে পাকিস্তানের হাত থাকার দাবিকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন। কর্তৃপক্ষ বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে অপারগ হয়ে অহেতুক পাকিস্তানকে দোষারোপ করছে বলেও আইয়াজ আকবর মন্তব্য করেন। তিনি জম্মু-কাশ্মিরে দীর্ঘদিন ধরে পাথর ছোঁড়াকে প্রতিরোধ আন্দোলনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ