শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আইনের হাত অনেক লম্বা

যাত্রাবাড়ি এলাকার দনিয়া মৌজার ৪৩২ খতিয়ানভুক্ত ১০২৫ দাগের ১০ শতাংশ জমির মালিক সুরাইয়া আক্তার কামনা নামে এক বয়স্ক মহিলা। পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত তার এ জমিতে তিনি পরিবার নিয়ে ৩৫ বছর ধরে বসবাস করছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি এ জমির ওপর কয়েকজন ভূমিদস্যুর নজর পড়ে। তারা দখল করে নেয় সুরাইয়ার জমিটুকু। স্থানীয় থানার ওসিও ভূমিদস্যুদের সঙ্গে যোগ দিয়ে মহিলাকে ইয়াবার মামলায় ফাঁসিয়ে দেন বলে তিনি প্রেস কনফারেন্স ডেকে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় থানার ওসি জমি লিখে দেবার জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। একদিন তাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়া হয়। পরে তাকে কোর্টে চালান করা হয়। এমতাবস্থায় ভূমিদস্যুরা সুরাইয়ার জমিতে বহুতল স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে কোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভূমিদস্যুরা ওসি’র সহযোগিতায় তা অমান্য করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গত বৃহস্পতিবার ওই ভূমিদস্যু ও একজন ওসি’র দৌরাত্ম্য সম্পর্কে পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায় যে, সুরাইয়ার জমিতে নির্মাণাধীন ভবনের দু’টি ফ্ল্যাট ওসিকে দেবার চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। এ কারণেই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুরাইয়ার জমিতে স্থাপনা নির্মাণে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট ওসি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সুরাইয়াকে ইয়াবা ব্যবসায়ী দাবি করেন বলে পত্রিকার রিপোর্টে জানা যায়। সুরাইয়া এখন অন্যত্র ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি তার পৈতৃক জায়গা জবরদখল থেকে উদ্ধারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চেয়েছেন।
ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য শুধু যাত্রাবাড়ির দনিয়াতেই নয়, ঢাকা মহানগরীসহ দেশের প্রায় সর্বত্র। শুধু সুরাইয়া আক্তারের পৈতৃক জমিতেই ওদের শকূনদৃষ্টি পড়ে না। সারাদেশের আরও অনেক অসহায় মানুষের ভিটেমাটি তারা গ্রাস করে ফেলেছে। মূল মালিককে গায়েব করে দিয়ে ভিটেমাটি, সহায়-সম্পদ জবরদখলের অগণিত ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত আমাদের সমাজে। পৈতৃক ভিটেমাটি, সম্পদ উদ্ধারে কেউ উচ্চতর আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন, কেউ তা পারেনও না। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একশ্রেণির সদস্যের এ রকম জবরদখলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া দুঃখজনকই নয়, দেশের প্রচলিত আইন-আদালত ও বিচারব্যবস্থার প্রতি চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শনও। এর অবসান হওয়া জরুরি। একজন ওসি বা আইনপ্রয়োগনকারী সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যের করণীয় অনেক। দস্যু বা দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে আইনের হাতে তুলে দেয়া যেখানে তাদের দায়িত্ব, সেখানে তারা নিজেরাই যদি দুর্বৃত্তায়নে জড়িয়ে পড়েন তাহলে আমাদের এ সমাজ খুব দ্রুত মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। আইন-আদালত বা বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের যে আস্থা রয়েছে তাও দ্রুত বিলীন হয়ে যাবে। এমন জংলি সমাজপরিস্থিতি আমাদের কাম্য নয়।
আমরা মনে করি, দনিয়ার ভূমিদসুগোষ্ঠী এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অভিযুক্ত ওসি যতই দাপুটে হোন না কেন, আইন বা আদালতের কাছে তারা নগণ্য। সুরাইয়া আক্তার উল্লিখিত জমির ন্যায়ত মালিক হলে নিশ্চয়ই তিন ন্যায়বিচার পাবেন। তার প্রতি যে জুলুম চলছে তাও অবশ্যই থেমে যাবে। প্রকৃত অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে। আইনের হাত অনেক লম্বা। দুর্বৃত্তের কাছে আইন কখনও হেরে যায় না। যেতে পারে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ