শুক্রবার ২৭ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

বিতর্কিত নতুন স্বাস্থ্যনীতি অনুমোদনে রিপাবলিকানদের প্রতি ট্রাম্পের আলটিমেটাম

২৪ মার্চ, রয়টার্স : ‘ওবামাকেয়ার’ বাতিল করে বিতর্কিত নতুন স্বাস্থ্যনীতি অনুমোদনের জন্য রিপাবলিকানদের আলটিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন স্বাস্থ্যনীতিতে অনুমোদন না দিলে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্যনীতি ‘ওবামাকেয়ার’ পুনরায় প্রবর্তন করে কর পুনর্গঠনের দিকে এগিয়ে যাবেন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এজন্য বৃহস্পতিবার স্থগিত হওয়া ভোট শুক্রবার আয়োজনের জন্য রিপাবলিকানদের প্রতি বার্তা পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। তবে গতকাল শুক্রবার এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে কিনা জানা যায়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রাম্পের স্বাস্থ্যনীতি অনুমোদনের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ফলে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রথম বড় ধরনের শঙ্কায় পড়লেন ট্রাম্প।
হাউস স্পিকার পল রায়ান বলেন, ‘আমরা দেশবাসীকে কথা দিয়েছি যে, আমরা আইন প্রতিষ্ঠা করব। আর কালই (শুক্রবার) হবে তার প্রথম ধাপ।’ তবে ট্রাম্পের স্বাস্থ্যনীতি অনুমোদনের জন্য পর্যাপ্ত সমর্থন রয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন রায়ান।
বারাক ওবামার স্বাস্থ্যনীতির এক বছর পূর্তিতে নতুন স্বাস্থনীতি নিয়ে ভোট হওয়ার কথা ছিল। এটা ট্রাম্পের প্রথম সাংবিধানিক জয়ও হতে পারত। ট্রাম্প ও অন্যান্য রিপাবলিকান নেতারা ওবামাকেয়ারকে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান নেতাদের ভোট নিয়ে একমত করতে ব্যর্থ হয়েছেন ট্রাম্প।
‘ওবামাকেয়ার’-এ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এনে ‘আমেরিকান হেলথ কেয়ার অ্যাক্ট’- নামের স্বাস্থ্য বিল উত্থাপন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু বৃহস্পতিবার আমেরিকান হেলথ কেয়ার অ্যাক্ট-এর পক্ষে সব রিপাবলিকানদের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারেননি ট্রাম্প। এরপর স্বাস্থ্যনীতির ওপর বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য ভোট স্থগিত করতে বাধ্য হন রায়ানসহ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভের নেতারা।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ভোটের বিষয়টি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। তবে তিনি আশাবাদী। পরে ভোটের বিষয়টি স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প তার শীর্ষ সহযোগীদের নিয়ে ক্যাপিটল হিলে আলোচনায় বসেন।
নিউইয়র্কের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্রিস কলিনস জানান, ট্রাম্প ভোট চান। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বলেছেন তিনি চান শুক্রবার ভোট অনুষ্ঠিত হোক। যেভাবেই হোক না কেন। আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
এই নীতি যদি পাস হলেও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত রিপ্রেজেন্টেটিভ হাউসে বিভক্তি থেকে যাবে। ৮ এপ্রিলের মধ্যে নতুন এই স্বাস্থ্যনীতি অনুমোদনে আশাবাদী সিনেটররা। তবে হাউসে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও এটা পাস করা খুব সহজ হবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানায়, অন্তত ৩০ রিপাবলিকান এই নীতির বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
ওবামার স্বাস্থ্যনীতি অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের মার্কিন জনগণ, কর্মজীবী ও বেকার উভয়েই ওই স্বাস্থ্যসেবার আওতাভুক্ত ছিলেন। ওবামা প্রশাসনের সময়কার স্বাস্থ্যবিলে অঙ্গরাজ্যগুলো কর্মজীবী ও কাজ খুঁজতে থাকা  মার্কিন জনগণের জন্যই স্বাস্থ্যসেবার আবেদন করতে পারত। তবে অঙ্গরাজ্যগুলো স্বাস্থ্যসেবা পেতে কাজের বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে রাজি হয়নি। তবে বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান গভর্নর কর্মক্ষম জনগণ, যাদের শিশু সন্তান নেই, অথবা নিঃসন্তান, তাদের জন্য কাজ করার বাধ্যবাধকতা আরোপের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোকে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
ট্রাম্পে প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যনীতিতে অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে। রিপ্রেজেন্টেটিভ জেফ ফর্টেনবেরি বলেন, এই নীতিতে অঙ্গরাজ্যগুলো মাতৃত্ব বিষয়ে ও মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসায় আরও বেশি বরাদ্দ পাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ