রবিবার ২৯ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

ছড়া/কবিতা

নীল বেদনা
তারিক হাসান

কেন এসেছিলাম এখানে?
কোন এক শিশির ভেজা সকাল
আমাকে  স্পষ্ট করে বলেছিলো
যেয়ো না যেয়ো না অন্য কোন খানে ।
থাকো না কিছুদিন
দুপুরের রোদের ঘ্রাণে
রাতের হিমেল বাতাসে
মাথা রেখে কুয়াশার সাদা বুকে
নীল বেদনা ছিল কি
দূরবর্তী আকাশের কোণে।


কৈফিয়ত
তাসনীম মোহাম্মাদ

কোনো এক রাত্রির সকাল জন্মেছিল--
না; বিশেষ কোনো আড়ম্বর সকাল
ছিল না সেদিন। তথাপি
জীবনের চিরন্তন যুদ্ধ আমাকে ডেকেছিল।
সাধের বাড়ী-ঘর ছেড়ে আমি
বের হয়েছিলাম একটি মাত্র কলম
সঙ্গি করে। বহুপথ হেঁটে হেঁটে
জনতার ভীড় ঠেলে সমগ্র নগরীর রাজপথ
রেখেছি পায়ের নিচে! কৈফিয়ত চায়নি কেউ।
আর যদি ক্ষুধার্ত উদর
ক্ষুধিত আবেগকে কখনো করেছে প্রকাশ;
কাগজের সার্সিতে কলমকে রেখেছি
হাতুড় পেটাতে!
অনবরত কেঁদেছে কলম; প্রিয় সব নদী-জল,
ঘাসের চিবুক, হুমা পাখি, বুনো ফুলের গন্ধ কিংবা
হলুদ শাপলার পুকুরে জ্যোৎস্না বিলাস বিরহে!
যে যুদ্ধ ডেকেছিল; তাঁর সাথে আজ অবধি
লড়াই আমার। কলমকে রেখেছি সঙ্গে--
মাঝে-মধ্যে কলমের ফলা
আমাকে করে দগ্ধ। আমি কেঁদে উঠি
সেইস’ব রাত্রির সকালকে মনে করে
যেখানে একটি রক্ত করবী, একটি নীল প্রজাপতি কিংবা
একটি সোনালী কাবিন জন্মেছিল!
অথচ;
আমি ফিরে যেতে পারিনা সাধের বাড়ী-ঘরে
কেননা-- যুদ্ধের দামামায় সঙ্গে আনা কলম
কাঁদাতে জানে; কাঁদতেও জানে।


স্বপ্ন চাষ
স্বপন শর্মা

স্বপ্নগুলো ছাই হয়ে ভরে উঠে অ্যাসট্রে;
স্বপ্নচাষি হয়ে শুধু ফ্যাল-ফ্যালে চেয়ে থাকি
বসন্তের ফাগুন চৈত্র আর কতবার এসে গেলে,
স্বপ্নের মড়ক থেমে যাবে, দুঃস্বপ্ন নামক ব্যাধি।
দুঃস্বপ্নের ভিড়ে স্বপ্নের জাল বোনা বড় কঠিন;
অনেকবার চাষের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করে
স্বস্তির নিশ্বাস না নিতেই, তারা ফিরে আসে,
ভরে ফেঁপে ওঠে ছাইদানি।
ইচ্ছে করে দূরে, বহু দূরে অ্যাসট্রেটা ছুঁড়ে ফেলি;
ফেলতে পারি না-
দুঃস্বপ্নের ছাইগুলোর কথা ভেবে, পাশে রাখি,
নয়তো পুরো মানুষটা ছাইমাখা দেহ নিয়ে,
স্বপ্ন হাতরিয়ে বেড়াবে।
দুঃস্বপ্নের ছাই থেকে স্বপ্ন প্রেরণা পাক,
বিষাদ ঘুচে যাক, সে আশা, কামনা নিয়ে;
ছাইগুলো ছিটিয়ে দিই, ফসলি জমিতে,
যেমন মাজরাপোকা দমনে ইরি ধানে ছিটিয়ে ছাই কয়লা,
ফসল ফলায় কৃষক।
দুঃস্বপ্নের ছাই ছিটিয়ে স্বপ্ন চাষে মনোযোগী হই।
স্বপ্ন চাষে মনোযোগী হই, স্বপ্ন চাষে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ