সোমবার ৩০ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা

আব্দুর রাজ্জাক রানা : (গত সংখ্যার পর)
রূপসী রূপসা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ: ১৯৭৭ সালের ২৬ জুন খুলনার ‘রূপসী রূপসা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা একেএম মুস্তাফিজুর রহমান। খুলনা মহানগরীর ৬৩ স্যার ইকবাল রোডে প্রবাসী কার্যালয়ে রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক গবেষক মুহম্মদ আবু তালিবের সভাপতিত্বে এই প্রগতিশীল সংগঠনটি গঠিত হয়। এখানেই ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এর উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন, অধ্যাপক মুহম্মদ আবু তালিব, ডা. আবুল কাসেম, এডভোকেট এএফএম আব্দুল জলীল, একে মকবুল আহমেদ। কার্যকরী পরিষদে ছিলেন সভাপতি একেএম মুস্তাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি কবি আহমদ আলী খান, সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার আবুল হাসেম, সহ-সম্পাদক অধ্যাপক রেজাউল করীম, কোষাধ্যক্ষ আন্নী পারভীন, সদস্য ছিলেন, কবি আনসার আলী, সরদার সুলতান মাহমুদ, মোল্যা ফজলুর রহমান, শাহানা পারভীন পরী, শিরিন ওয়াহেদ ও মাসুমা এদিব খানম।
বর্ণমালা সাহিত্য চক্র: ১৯৭৮ সালে ‘বর্ণমালা সাহিত্য চক্র’ নামে একটি সাহিত্য সংগঠন খুলনার দৌলতপুর থানার পাবলায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই চক্র সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে অনেক অনুষ্ঠান প্রণয়ন করেছিল। এই চক্র কয়েকটি সঙ্কলনও প্রকাশ করেছিল। তাছাড়া কয়েকটি দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশ করে। এর ২১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী পরিষদ ছিল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র: ১৯৭৯ সালের ১০ই ডিসেম্বর ইসলামিক ফাউন্ডেশন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র খুলনায় স্থাপিত হয়। নগরীর স্যার ইকবাল রোডে শামস বিল্ডিংয়ে এর অফিস ছিল। এটা বিভাগীয় কার্যালয়। এখানে একটি লাইব্রেরী ও পাঠাগার ছিল। ইসলামিক জীবনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এই কেন্দ্রে হতো। ইসলামী মূল্যাবোধের সৃষ্টির নিমিত্তে গণ যোগাযোগের ব্যবস্থাও ছিল। পুস্তক প্রদর্শনী, ইসলামী পুস্তকের চাহিদা পূরণ ও বাজার সৃষ্টির ব্যাপক প্রচারেরও ব্যবস্থা করতো। বই ও পত্র পত্রিকা প্রকাশেও তাদের ভূমিকা ছিল। যুব মজলিস, মহিলা মজলিস ও শিশু কিশোরদের নিয়মিত সাপ্তাহিক সাহিত্য মাজফিল হতো। এই কেন্দ্রে মসজিদ ভিত্তিক লাইব্রেরী ও পাঠাগার গঠনের জন্য ব্যাপকভাবে কাজ করেছে। এই কেন্দ্রের আবাসিক পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যক্ষ শাহ মুহম্মদ খুরশিদ আলম।
স্বর সাহিত্য গোষ্ঠী: খুলনায় ‘স্বর সাহিত্য গোষ্ঠী সাহিত্য’ ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পথে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের কর্মতৎপরতা চালিয়ে গিয়েছিল। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে স্বর সাহিত্য গোষ্ঠী যতগুলো অনুষ্ঠান করেছে তার মধ্যে দু’একটি বাদে বেশ সুন্দর ও সার্থক হয়েছে। এই গোষ্ঠীর প্রথম সাহিত্য সম্মেলনে কবি রফিক আজাদ ও কবি নির্মলেন্দু গুণকে পুরুস্কৃত করা হয়।
আবৃত্তি গোষ্ঠী:  কবিতা জীবনের বাঁকে বাঁকে আশা নিরাশার বাণী শুনিয়ে দেয়। কবিতা আবৃতির মাঝ দিয়েই হৃদয়কে স্পর্শ করে। খুলনায় প্রথম ‘আবৃতি  গোষ্ঠী’ বাংলা কবিতার রূপান্তর এক পর্যায়ে একটি আবৃতির অনুষ্ঠান করেছিল।
দুর্বার সাহিত্য ও সংস্কৃতিক সংস্থা: খুলনা হতে বেশ কয়েক মাইল দূরে ডুমুরিয়ার থুকরা গ্রামে গড়ে উঠেছিল। গ্রামীণ পরিবেশে থেকেও তারা ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে।
চারণ: খুলনার চারণের জন্ম হয় বাংলাদেশের জন্মের পরে। চারণের বিশেষ উদ্দেশ্য ছিলো গণমুখী সাহিত্য সৃষ্টির মাঝ দিয়ে জীবনের প্রতিষ্ঠার সুর জাগিয়ে তোলা। কয়েকজন ছাত্র/ছাত্রী নিয়ে এ চারণের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী:  ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠীর কার্যালয় ছিল যশোর রোডে দৌলতপুরে। এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল সঙ্গীত শিল্পী তৈরি করা। এটা মুখ্য উদ্দেশ্য হলেও বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য বিষয়ক অনেক অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করেছিল। এছাড়া দৌলতপুর ও তার আশে পাশে ছিল ‘নবারুণ সংঘ’,  ‘সবুজ সংঘ’, ‘অনির্বাণ সংঘ’,  ‘আজিজুল মেমোরিয়াল ক্লাব’ সহ এমনি ধরণের অনেক সংগঠন। উক্ত সংগঠনগুলো খেলাধুলাভিত্তিক হলেও তারা বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কিত অনেক অনুষ্ঠানমালা প্রণয়ন করেছিল বলে জানা যায়।
শ্বেত মিছিল: খুলনায় ‘শ্বেত মিছিল’ এর জন্ম হয় ৭০’র দশকে। এ সংগঠনটি সাহিত্যে ক্ষেত্রে বেশ অবদান রেখেছিল। শ্বেত মিছিল ১৯৮১ সালে একটি সঙ্কলন প্রকাশ করেছিল। শ্বেত মিছিলের বিশেষ দিকের মধ্যে কবিতার মূল্যায়ণের প্রতিই যেন একটু বেশী নজরছিল। এর সাথে কয়েকজন সাহিত্যমনা ব্যক্তিও সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা: ১৯৮০ সালে খুলনায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার জেলা শাখা খোলা হয়। এই সংস্থা সে বছর বিজয় দিবস উপলক্ষে বিকেলে হাদিস পার্কে বিচিত্রা অনুষ্ঠান ও সোসাইটি হলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছিল। এই  সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন নাছির হায়দার, রোজী রহমান, সরদার আব্দুস সাত্তার, শেখ আখতার হোসেন, জামাল নাসের প্রমুখ।
উদ্ভাস: ১৯৮০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ‘উদ্ভাস’ নামের একটি সম্মিলিত সাহিত্য আসরের জন্মলাভ করে। এর অস্থায়ী কার্যালয় ছিল ৯৮ ওহাব এভিনিউ ইকবাল নগর। যা পরবর্তীতে ২৮ বাবুখান রোডে এডভোকেট কামরুজ্জামান এর বাসভবনে উদ্ভাসের স্থায়ী কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করে আসছিলেন। এ সংগঠনটি ‘উদ্ভাস’ নামে একটি স্মরণিকাও প্রকাশ করেছিলেন। বিমলকৃষ্ণ রায়ের ‘শব্দ সম্ভার’ এর প্রকাশনা উৎসব ছিল এদের বিশেষ অনুষ্ঠান। উদ্ভাসে প্রতি রোববারে সকাল দশটায় নিজস্ব কার্যলয়ে সাহিত্য আসর বসতো। এ সংগঠনের ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা ও ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কার্যকরী পরিষদ ছিল। যার পরিচালক ছিলেন কাজী সুফিউল্লাহ ফারুকী। তিনি উদ্ভাসের প্রতিষ্ঠাতাও বটে।
(চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ