বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

মিনি ল্যাবের সরঞ্জাম এনেছে বিসিবি

স্পোর্টস রিপোর্টার : বোলিং অ্যাকশন ত্রুটি শুধরানোর জন্য বাংলাদেশে মিনি একটি ল্যাব তৈরির ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে অপেক্ষাটা লম্বা হলেও অবশেষে মিনি একটি ল্যাব তৈরি করতে যাচ্ছে বিসিবি। ইতোমধ্যেই এ প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এনে পৌঁছেছে ঢাকায়। আগামী ২৭ মার্চ ইংলিশ টেকনেশিয়ান দ্বারা তা স্থাপন করা হবে। গত প্রিমিয়ার লিগে বেশ কিছু ক্রিকেটারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল বোলিং রিভিউ কমিটি। তবে প্রয়োজনীয় সব প্রযুক্তি না থাকার কারণে ঠিকভাবে কাজ করতে পারেনি তারা। তাই এবারের প্রিমিয়ার লিগে শুরু থেকেই বিদেশ থাকা আনা হয়েছে নতুন সব সরঞ্জাম। বোলিং অ্যাকশন রিভিউর জন্য এসব সরঞ্জাম আনা নিয়ে বিসিবির ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ম্যানেজার নাসির আহমেদ নাসু বলেন, ‘আমরা বোলিং রিভিউ কমিটির জন্য কিছু সরঞ্জাম এনেছি যা ২৭ মার্চ থেকে সেট করবো। ২৬ মার্চ রাতে ইংল্যান্ড থেকে একজন বিশেষজ্ঞ আসছেন।
তিনি এসে এটা সেট করবেন।’ নতুন এ প্রযুক্তিতে রয়েছে অত্যাধুনিক সফটওয়্যার। এছাড়াও আধুনিক ক্যামেরা, সেন্সর ছাড়াও আছে একটি বিশেষ ম্যাট। বোলার কোন ধরনের বলে চাক করে তা এ ম্যাটে বল ফেললে সহজেই বোঝা যাবে বলে জানান নাসু। এখানে পিচ ভিশন নামে একটা সফটওয়্যার এসেছে, হাইএন্ড ক্যামেরা এসেছে কিছু সেন্সর এসেছে। তারপর একটা ম্যাট এসেছে যেখানে বলের গতি বোঝা যাবে। যার ফলে আপনি বুঝতে পারবেন কোন ধরনের বলে সে চাক করে। দুসরা করলে, না রঙওয়ান করলে, না কুইকার দিলে, না বাউন্সার দিলে চাক করে ওইটা বোঝা যাবে। তবে এসব সরঞ্জাম দিয়েও শতভাগ নির্ভুল ফলাফল আসবে না বলে জানান নাসু। সম্পূর্ণ নির্ভুল তথ্য পেতে বড় অংকের বাজেট লাগবে বিধায় আপাতত এ ভাবনা থেকে পিছিয়ে গেছেন তারা। তাই টু-ডি প্রযুক্তিতে ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ নির্ভুল তথ্য নিয়েই সন্তুষ্ঠ থাকতে হচ্ছে তাদের। তার উপর একজন বোলারকে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে শেষ পর্যন্ত আইসিসির অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্টারে এজতে হয় বলেই এ পথে হাঁটেনি বিসিবি। এটা টু-ডি সিস্টেম। থ্রি-ডি সিস্টেম যদি আপনাকে শতভাগ নির্ভুল ফল দেয় এটা আপনাকে ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ নির্ভুল ফল দেবে। থ্রি-ডি ল্যাব করতে বড় বিনিয়োগ করতে হবে। এতে আমাদের এত বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না। আর ঘুরে ফিরে আপনাকে আইসিসির অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্টারে যেতেই হবে। তিন কোটি টাকার সেট করেও আপনাকে ওইখানে যেতে হবে। তাহলে এতো বিনিয়োগ করে তো লাভ নেই। ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝপথে হঠাৎ করেই বোলিং অ্যাকশন ক্রুটি ধরা পরে তাসকিন আহমেদ ও আরফাত সানির। এরপর সাময়িক নিষিদ্ধ হয়ে যান তারা। এরপরই নড়েচড়ে বসে বিসিবি। ঢাকা লিগেও বোলারদের উপর রাখা হয় তীক্ষন্ন নজর। আধুনিক প্রযুক্তির নিচে কাঁটাছেড়া করা হয় বোলারদের। সে ধারায় বোলিং রিভিউর এ প্রযুক্তি আরও উন্নত করতেই আনা হয় আধুনিক এ সরঞ্জাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ