ঢাকা, মঙ্গলবার 29 September 2020, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

বৃটেনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের বাইরে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ব্যক্তির সংখ্যা পাঁচে পৌঁছেছে। আহত হয়েছে অন্তত ৪০ জন। তাৎক্ষণিকভাবে কেউ দায় স্বীকার না করলেও ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ।

হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আত্মঘাতী হামলাকারী ও  এক নারীও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্রান্সের কয়েকটি স্কুল শিশুও রয়েছে। আহতদের যে ছবি গণমাধ্যমে এসেছে, তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ হাসপাতালের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ওই হাসপাতালে আহত আটজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ এবং দুইজন নারী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং বাকি ছয়জনের অবস্থা অনেকটাই স্বাভাবিক। 

হামলার পর প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেকে পার্লামেন্ট ভবন থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। পার্লামেন্ট সদস্যদের নিজ নিজ কার্যালয়ে থাকতে বলা হয়েছে। সংসদ কার্যক্রম স্থগিত এবং গোটা ভবন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর লন্ডনসহ গোটা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য ঠিক এক বছর আগে এই দিনে ব্রাসেলসে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল।

যুক্তরাজ্যের পুলিশ ফেডারেশনের চেয়ারম্যান স্টিভ হোয়াইট বলেন, 'বুধবার বিকেলের এ ঘটনার পর পুলিশ কর্মকর্তা পরিবারের সদস্যদের কি বলে বোঝাবো, তার কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।'

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলাকারী হিউনদাই আই৪০ মডেলের একটি প্রাইভেটকার চালিয়ে সেতুতে পথচারীদের ওপর তুলে দেন। এরপর রেলিংয়ের সঙ্গে এর ধাক্কা লাগে। সেখান থেকে ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদের ফটকের ভেতরে চলে যান এবং এক কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত করেন।লন্ডনের পুলিশ জানিয়েছে, এটি সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। পার্লামেন্টের আশপাশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিবিসির সাংবাদিক লরা কুয়েনসবার্গ জানান, পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে, পার্লামেন্ট সদস্যরা বলেছেন তাঁরা তিন-চারটি গুলির শব্দ শুনেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানিয়েছে, ওয়েস্টমিনস্টার সেতুতে হামলার ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবর তাদের জানানো হয়েছে। এঁদের মধ্যে একজন নারী মারা গেছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

হামলার চিত্র

বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, হামলাকারী নিকটবর্তী ওয়েস্টমিনস্টার সেতুর উপর ছাই রঙা একটি হাউন্ডাই গাড়ি নিয়ে উঠে বেশ কিছু পথচারীর উপর দিয়ে গাড়িটি চালিয়ে দেয়। এরপর গাড়িটি সে সেতুর রেলিংএ বিধ্বস্ত করে দেয়। পথচারী একজন মহিলা যাকে গাড়ি দিয়ে পিষে দেওয়া হয়েছিল তিনি মারা গেছেন বলে পরে জানা গেছে।

হামলাকারী গাড়িটি রেলিংয়ে মারার পরপরই ওয়েস্টমিনস্টার সংসদ ভবনের ফটক দিয়ে ঢুকে পড়ে এবং একজন পুলিশ অফিসারকে ছুরি মারে বলে খবরে বলা হচ্ছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন লোকটি হাতে ছুরি ধরা অবস্থায় দ্বিতীয় আরেকজন পুলিশ সদস্যের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ তাকে গুলি করে। 

সংসদের উভয় কক্ষ, হাউস অফ কমন্স এবং হাউস অফ লর্ডস বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কাছের সেন্ট টমাস হাসপাতাল এলাকাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

 

জনসাধারণকে ওই এলাকায় যেতে বারণ করা হচ্ছে এবং ওই এলাাকর ওয়েস্টমিনস্টার পাতাল রেল স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিকাল পৌনে তিনটা নাগাদ গুলি যখন চলছিল তখন একটি জাগুয়ার গাড়ি প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে-কে নিয়ে সংসদ ভবন চত্বরে ঢোকে। প্রধানমন্ত্রী ঠিক আছেন বলে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে জানানো হয়েছে।      

হামলাকারী ক'জন ছিল?

বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, বিবিসির ড্যানিয়েল স্যানফোর্ড বলছেন সংসদের উপর হামলার ঘটনায় সম্ভবত দুইজন জড়িত ছিল। তিনি বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের বিবরণে একজন “টাকমাথা শ্বেতাঙ্গ” ব্যক্তি এবং এবং আরেকজন “অল্প দাড়িওয়ালা কৃষ্ণাঙ্গ” ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা বলেছেন।

ড্যানিয়েল স্যানফোর্ড জোর দিয়ে বলেছেন যদিও বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না কিন্তু এই দুই ব্যক্তি ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজের উপর দিয়ে সম্ভবত “খুবই দ্রুত-গতিতে” গাড়ি চালিয়ে যায় এবং আনুমানিক আটজন পথচারীকে ধরাশায়ী করে। এর অল্পক্ষণের মধ্যেই গাড়িটি সংসদ ভবনের রেলিং-এ গিয়ে ধাক্কা মারে।

টিউলিপ সিদ্দিক নিরাপদ

ব্রিটিশ সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক, যিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনী, হামলার সময় সংসদ ভবনে ছিলেন। পরে তিনি টুইটারে মেসেজ দেন যে তিনি নিরাপদ আছেন। তার খোঁজ নেবার জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ দেন।

 

 

 

 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ