সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

আজমির শরীফ বোমা হামলায় দুই হিন্দুত্ববাদীর যাবজ্জীবন

২২ মার্চ, টাইমস অব ইন্ডিয়া/ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস : আজমিরের সুফি সাধক খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরগায় বোমা হামলার প্রায় ১০ বছর পর দুই হামলাকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন জয়পুরের এক বিশেষ আদালত। ওই দুই হামলাকারী ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কর্মী। ২০০৭ সালের ১১ অক্টোবর রমজান মাসে ইফতারের সময় ওই বোমা হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন, আহত হন আরও ১৫ জন।
প্রায় ১০ বছর ধরে তদন্ত ও শুনানি চলার পর গত ৮ মার্চ ওই হামলায় তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয় আরএসএসের তাত্ত্বিক স্বামী অসীমানন্দকে।
গতকাল বুধবার ওই বোমা হামলায় দোষী সাব্যস্ত করে জয়পুরে বিশেষ ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) আদালত দেবেন্দ্র গুপ্ত এবং ভবেশ প্যাটেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আরও এক অপরাধী সুনীল যোশীর মামলা চলাকালীনই মৃত্যু হয়। এই তিনজনই হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের কর্মী। দেবেন্দ্র গুপ্ত এবং ভবেশ প্যাটেলকে পৃথকভাবে যথাক্রমে পাঁচ হাজার ও ১০ হাজার রুপি জরিমানাও করা হয়েছে।
হামলাকারীরা ভারতীয় দণ্ডবিধি ১২০ (বি)-এর অধীনে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ২৯৫ (এ) ধারা অনুযায়ী, ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য আক্রমণ এবং বিশেষ অপরাধমূলক আইন ইউএপিএ-র ১৬ ও ১৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়।
খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরগা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিমদের জন্য অন্যতম পবিত্র স্থান। মুসলিমরা ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের মানুষের কাছেও এই দরগা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
ওই বোমা হামলার পর প্রাথমিক তদন্ত শুরুর সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা ওই হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ক প্রচারণায় কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পরে তদন্তের মোড় ঘুরে হিন্দুত্ববাদী আরএসএসের দিকে।
তদন্তের ভার তুলে দেওয়া হয়েছিল রাজস্থানের এটিএসের হাতে। পরে তদন্তের দায়িত্বভার যায় ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির কাছে। দিল্লিতে ২০১১ সালের ৬ এপ্রিল এনআইএ পুলিশ স্টেশনে আবার মামলা দায়ের করা হয়। মামলার কাছ শুরু হয় বিশেষ আদালতে।  মামলা চলাকালীন ১৪৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় এবং ৪৫১টি নথি খতিয়ে দেখা হয়। আদালতে তিনটি সহায়ক অভিযোগপত্রও পেশ করে এনআইএ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ