মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

খুলনা বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিশাল জনগোষ্ঠী প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিতে

খুলনা অফিস : উপকূলীয় অঞ্চল খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিশাল জনগোষ্ঠী প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। এ তিন জেলার ২২১টি ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি তৎপর থাকলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। তবে এ সব এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই সক্রিয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বঙ্গোপসাগর উপকূল ও সুন্দরবন ঘেঁষা এ তিন জেলায় সাধারণত নদী ভাঙন, কালবৈশাখী, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে কমিয়ে আনা সম্ভব দুর্যোগ-পূর্ব ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে। লজিস্টিক সাপোর্টসহ স্বেচ্ছাসেবী লোকবল প্রস্তুত রাখা, নিম্নচাপ সংক্রান্ত আবহাওয়া দপ্তরের জারীকৃত বুলেটিন শোনা এবং তদানুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ- সে অনুযায়ী জনগণকে জানানো, পরামর্শ দেয়া, দুর্যোগকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা, তাদের খাদ্য সংস্থানের প্রয়োজন হলে, যথাসম্ভব সেটা করা। প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকা। দুর্যোগ সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশাবলী অনুসরণে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলে পরিস্থিতির ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখা, সাইক্লোন সেন্টারসমূহ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দুর্যোগ সহজে মোকাবেলা করা যেতে পারে। এ জন্য প্রথমেই প্রয়োজন উপজেলা ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সক্রিয়করণ।
সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় ১৭০টির, সাতক্ষীরায় ৭৪টি ও বাগেরহাটে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। ২০০৭ সালের ১৫ নবেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরে এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলার জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দক্ষিণ জনপদের উপকূলীয় অঞ্চল। আঘাতে মানচিত্র পরিবর্তন হয়ে যায় সুন্দরবন উপকূলীয় এ তিনটি জেলার। পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টারের অভাবেই অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দশ বছর পেরিয়ে গেলেও, দুর্গত এলাকাগুলোতে নির্মাণ করা হয়নি পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টার। সর্বশেষ, গেল বছর ২০ মে উপকূলে অপেক্ষাকৃত অল্পপরিসরে আঘাত হেনেছিল রোয়ানু। খুলনার সর্ব দক্ষিণে কয়রার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট মঞ্জুর আলম নান্নু বলেন, প্রায় প্রতি বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এই এলাকার মানুষ। আইলা-সিডরের ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি তারা। ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সক্রিয় করে তাদের হাতে দুর্যোগকালীন প্রয়োজনী যেমন, রেডিও, মাইক-বাঁশি, ছাতা-ওয়াটার প্রুপ পোশাক, জলযান, প্রাথমিক চিকিৎসা সরমঞ্জামাদি দিলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি কমানো যাবে। মনে রাখতে হবে-এ এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠী আকাশে মেঘ দেখলেও ভয় পায়।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জি এম মাকসুদুল আলম বলেন, যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে একবার নদীর বাঁধ ভেঙে গেলে সেটা পুঁজি করে ক্ষমতাসীন-প্রভাবশালীরা বাণিজ্যে মেতে উঠেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সক্রিয় থাকলে সেটা কমবে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কমবে ক্ষতিগ্রস্তরাও স্বেচ্ছাসেবীদের দ্বারা সেবা পাবে। এজন্য জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
অবশ্য নতুন সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ ও পুরানোগুলো সংস্কারে পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানালেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো চাঙ্গা করতে কাজ করছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারদেরও এবিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বললেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো সক্রিয় করতে উদ্যোগ নিয়েছি, গত ১৩ মার্চও সভা করেছি। ১৯ মার্চ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ডিজি আসছেন।’ তৃণমূলের দুর্বলতা স্বীকার করে তিনি আরো বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় সরমঞ্জামাদির অপ্রতুলতা রয়েছে। তবে সরকার স্যাটেলাইট সংযোগের রেডিও দেবার পরিকল্পনার কথা শুনছি। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সচেনতা সৃষ্টিতে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
খুলনা জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল আহসান বলেন, যথাসময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়। সে জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির গুরুত্ব ব্যাপক। খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়ার কয়েকটি এলাকায় দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের আগাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। একই সাথে সচেতনতা সৃষ্টিতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ