বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ের পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজন আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ

সিলেট ব্যুরো : দেশী-বিদেশী হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমিক পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন। গতকাল রোববার দুপুরে সিলেটের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলা আয়োজিত ‘জাফলং সংরক্ষণ : প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ’ শীর্ষক এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমন দাবি জানান বিশিষ্টজনেরা।
সাংবাদিক সম্মেলনে শুরুতে প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ের বর্তমান অবস্থা এবং জাফলংয়ের প্রাকৃতিক গুরুত্ব, সামাজিক গুরুত্ব, অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে একটি স্লাইড প্রদর্শন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলা’র সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার। এরপর একে একে বক্তব্য রাখেন বেলার আমন্ত্রিত অতিথি ও সাংবাদিকবৃন্দ।
এসময় বক্তারা বলেন- জাফলংকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হলেও সেখানে বন্ধ হচ্ছে না পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম। পাথর উত্তোলনের নামে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে পর্যটন সমৃদ্ধ এই এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ। স্থানীয় প্রশাসন পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা তো দূরের কথা অনেকক্ষেত্রে তারা পরিবেশ ধ্বংস করে পাথর উত্তোলনকে উৎসাহিত করছে। ফলে জাফলংয়ে অবৈধ বোমা মেশিন, শ্যালো মেশিন ও পেলোডারের ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি শ্রমিকদের হতাহতেরও ঘটনা ঘটছে। গত প্রায় এক মাসে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে জাফলংয়ে নিহত হয়েছেন ৭ শ্রমিক। কিন্তু এসব ঘটনায় পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
এছাড়াও বেলার নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনে পাথর ব্যবসায়ীদের প্রতি জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের নমনীয়তা ও সমর্থন প্রত্যাহার, প্রতিবেশ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে জাফলং-এ পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখা, প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ ও বিজিবিকে কার্যকর ভূমিকা পালনে বাধ্য করা, অবিলম্বে সকল বোমা মেশিন অপসারণ ও ধ্বংস, দোষী পাথর ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি (প্রতিবেশ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করার জন্য ক্ষতিপুরণ অফার, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের, শ্রমিক মৃত্যুর জন্য অপমৃত্যুর মামলা দায়ের), অবৈধভাবে স্থাপিত ও পরিচালিত ষ্টোন ক্রাশার মেশিন উচ্ছেদ করা, দ্রুত ক্রাশিং জোন ঘোষণা করার জোড় দাবি জানান।
বক্তারা জাফলংয়ের প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে সরকার ঘোষিত ইকোলজিকালি ক্রিটিকাল এরিয়া ইসিএ বাস্তায়নের দাবি জানান এবং স্থানীয় প্রশাসন, সিলেটের রাজনৈতিক, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- এফআইভিডিবির নির্বাহী পরিচালক যেহীন আহমেদ, সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি, এমাদউল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন, সুজন সিলেটের সভাপতি, ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির, বাংলাদেশ প্রতিনিধি সিলেটের ব্যুরো প্রধান দিদারুল ইসলাম নবেল, মানবজমিনের ব্যুরো প্রধান ওয়েছ খছরু, দৈনিক কাজির বাজারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ সুজাত আলী, দৈনিক সবুজ সিলেটের বার্তা সম্পাদক ছামির মাহমুদ, ব্লাস্ট’র কো-অর্ডিনেটর ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, দৈনিক প্রভাত বেলার সম্পাদক কবীর আহমদ সোহেল, একাত্তর টিভির সিলেট ব্যুরো প্রধান ইকবাল মাহমুদ, বাংলাদেম বেতারের প্রতিনিধি শফিকুর রহমান চৌধুরী, বেলা ঢাকার এ.এম.এম.মামুন, ইউএনবির প্রতিনিধি ছিদ্দিকুর রহমান, ডেইলি স্টারের সিলেট প্রতিনিধি দ্বোহা চৌধুরী, এসএসকেএস’র সভাপতি বেলাল আহমেদ, পূর্ব জাফলং ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এম.এ রহিম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ