রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

সুন্নাতে ইব্রাহিমী (আ:) ও তার গুরুত্ব

মুফতী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম : আল্লাহ তা’য়ালা কর্তৃক প্রেরিত নবী-রাসূলদের মধ্যে হযরত ইব্রাহীম (আ:) অন্যতম। তাঁর উপনাম আবুল আম্বিয়া- নবীদের আদি পিতা, আবুল মিল্লাত- মুসলমানদের জাতির পিতা। কারণ, কয়েকজন ছাড়া সকল নবী রাসূল তাঁর বংশ থেকে এসেছেন এবং তিনি মুসলিম নামটি প্রথম রেখেছেন। তিনি একজন উলুল আযম- শক্তিশালী নবী। সমকালীন শাসক নমরুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছেন। ইবরাহীম শব্দটি সুরিয়ানী শব্দ। অর্থ- আবে রাহীম- দয়ালু পিতা। শিশুদের প্রতি দয়ালু হিসেবে খ্যাত ছিলেন বলে তিনি এ নামে ভূষিত হন। আর এ কারণে পরকালে তিনি ও তাঁর স্ত্রী সারা মুমিনদের অপ্রাপ্ত বয়সে মৃত সকল সন্তানের দায়িত্বশীল হবেন (তাফসীরে কুরতুবী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা নং-৭৩)।
হযরত ইবরাহীম (আ:) থেকে প্রচলিত প্রথা : তিনিই সর্বপ্রথম খাতনা করেন, প্রথম মেহমানদারীর প্রথা তিনিই চালু করেন, তিনিই প্রথম নাভীর নীচের পশম মুণ্ডান, নখ কাটেন, গোঁফ খাটো করেন, এবং তাঁরই প্রথমে চুল পাকে। তিনি পাকা চুল দেখে বলেন- হে আল্লাহ্! এটা কী? আল্লাহ্ তা’য়ালা বলেন- তা হলো- সম্মানের প্রতীক। তখন তিনি বলেন- তাহলে আমার সম্মান আরো বাড়িয়ে দিন। রাসূল (সাঃ) বলেছেন- তোমরা শুভ্রতাকে (বার্ধক্যকে) ঘৃণা করো না। কেননা, ইসলামে কালাতিপাতে যার কেশ শুভ্র হয়ে গিয়েছে শেষ বিচারের দিন তা তার জন্য নূর হিসেবে পরিগণিত হবে, এর বিনিময়ে সে পুণ্য লাভ করবে এবং তার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে (আবু দাউদ, হাদীস নং- ৪২০২, তিরমিযি হাদীস নং- ২৮২১)। হযরত ইব্রাহীম (আ) প্রথমে মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দিয়েছেন, তিনিই সর্বপ্রথম ছারিদ (রুটি ও গোশ্তের মণ্ড বিশেষ খাদ্য) ভক্ষণ করেছেন। তিনি প্রথম তরবারী দ্বারা শত্রুকে আঘাত করেন, তিনি  প্রথম মিসওয়াক করার প্রথা, ইস্তিঞ্জা করার প্রথা এবং পায়জামা পরার রীতি চালু করেন। (মুয়াত্তা, কুরতুবী, প্রঞ্চম খণ্ড, পৃ-৭৫)
সুন্নাতে ইবরাহিমী : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে সুন্নতে ইবরাহিমী হলো দশটি। পাঁচটি মাথায় ও পাঁচটি অবশিষ্ট শরীরে । মাথার পাঁচটি হলো- ১. গোঁফ খাটো করা, ২. কুলি করা, ৩.নাক সাফ করা, ৪. মিসওয়াক করা, ৫. মাথার চুল দু’ভাগ করে আঁচড়ানো। শরীরের পাঁচটি হলো- ১. নখ কাটা, ২. নাভীর নীচের পশম মুণ্ডানো, ৩. খাতনা করা, ৪. বগলের পশম উপড়ে ফেলা, ৫. মলদ্বার ও মূত্রদ্বার পানি দ্বারা ধৌত করা (তাফসীরে কুরতুবী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা নং- ৭৪)। হযরত আয়েশা (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- স্বভাবগত কাজ হলো ১০টি। গোঁফ খাট করা, দাঁড়ি লম্বা করা, মিছওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া, নখ কাটা, হাত ও পায়ের আঙ্গুলের গিরা সমূহ ধৌত করা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নাভীর নিচের চুল মুণ্ডানো, ইস্তেঞ্জা করা, কুলি করা (মিশকাত- ৪৪ পৃষ্ঠা, মুসলিম)। হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) বলেছেন- দ্বীনের স্বভাবগত কাজ হলো পাঁচটি। ১. খাতনা করা, ২. নাভীর নিচের পশম মুন্ডানো, ৩. গোঁফ খাটো করা, ৪. নখ কাটা, ৫. বগলের পশম উপড়ে ফেলা। (সুনানে নাসায়ী, পৃ-৭, মুসলিম হাদীস নং-২৫৭, আবু দাউদ, হাদীস নং- ৪১৯৮)
খতনা করার বিধান : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- পুরুষের জন্য খতনা করা সুন্নত আর নারীদের জন্য উত্তম (মুসনাদে আহমদ, ৫/৭৫)। কারো কারো মতে খতনা করা ফরয, তা বর্জন করা উচিত নয়। কেননা আল্লাহ্ তা’য়ালা ইরশাদ করেছেন- ইবরাহীমের দ্বীন অনুসরণ কর, যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ। চৌদ্দ মতান্তরে তের জন নবী-রাসূল খতনা অবস্থায় জন্ম গ্রহণ করেছেন- যেমন- ১. হযরত আদম,   ২. শীশ, ৩. ইদ্রীস, ৪. নূহ, ৫. সাম, ৬. যাকারিয়া, ৭. লুত, ৮. ইউসুফ, ৯. মুসা, ১০ শুয়াইব, ১১. সুলাইমান, ১২. ইয়াহিয়া, ১৩. ঈসা (আ:), ১৪. হযরত মুহাম্মদ (সা:)। (তাফসীরে কুরতবী- ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা নং- ৭৬)
হযরত ইবরাহীম (আ) কত বছরে খতনা করেন : হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীস অনুযায়ী ১২০ বছর বয়সে হযরত ইবরাহীম (আ) খতনা করেন, এরপর তিনি ৮০ বছর জীবিত ছিলেন। অপর বর্ণনানুযায়ী ৮০ বছর বয়সে কুঠার জাতীয় অস্ত্র দিয়ে খতনা করেন।
খতনার করার বয়স : হযরত ইবরাহীম (আ:) স্বীয় পুত্র ইসমাঈল (আ:) এর খতনা করান ১৩ বছরের সময়, আর ইসহাক (আ:) এর খতনা করান ৭ বছরের সময়। হযরত ফাতেমা (রা:) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি সপ্তম দিবসে সন্তানের খতনা করান। হযরত লাইস ইবন সা’দ বলেন, সন্তানের খতনা করাতে হবে সাত থেকে দশ বছরের মধ্যে।
মানব দেহের কর্তিত অঙ্গের বিধান: মানব দেহ খুবই মর্যাদা ও সম্মানের। আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন- আমি আদম সন্তানদেরকে সম্মানিত করেছি (সূরা বনি ইসরাঈল, আয়াত নং- ৭০)। সুতরাং মানব দেহের কর্তিত বা বিচ্ছিন্ন অংশ হেফাযত করা আবশ্যক। হেফাযতের উত্তম পন্থা হলো মাটির নিচে পুঁতে ফেলা। মহানবী (স) মানব দেহের সাতটি জিনিস পুঁতে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন- কর্তিত পশম, নখ, নির্গত রক্ত, ঋত¯্রাবের রক্ত, দাঁত, বিচ্ছিন্ন অংশ ও বমি।
গোঁফ ও দাঁড়ির বিধান : হযরত ইবনে ওমর (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন- তোমরা মুশরিকদের বিপরীত করো, গোঁফ খাট করো এবং দাঁড়ি লম্বা করো (মুয়াত্তা মালেক, হাদীস নং- ৯৪৭)। হযরত ইবন ওমর (রা:) গোঁফ এরূপ খাট করতেন যে, চামড়া দেখা যেত। তিনি দাঁড়ি ধরতেন এবং এক মুষ্টির অধিক হলে হজ্জ ও ওমরার সময় কেটে ফেলতেন (সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৫৮৯২)। আবদুল্লাহ ইব্ন আমর ইবন আস (রা) বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ (স) দৈর্ঘে-প্রস্থে সুন্দর করে দাঁড়ি রেখেছেন (তিরমিযী, হাদীস নং- ২৭৬২)। হযরত ইবন আব্বাস (রা:) বলেন- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) গোঁফ খাট করে রাখতেন। সুতরাং দাঁড়ি কামানো, দাঁড়ি এক মুষ্ঠির কম রাখা, ফ্রেন্স কাটিং বা অন্য কাটিংয়ের দাঁড়ি রাখা এবং গোঁফ লম্বা রাখা কুসংস্কার। দাঁড়ি কামানো এবং এক মুষ্ঠি হওয়ার আগে কেটে ফেলা ও ছাঁটা উভয়ই হারাম ও কবীরাহ গুনাহ। রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন- তোমরা গোঁফ ছোট কর এবং দাঁড়ি (এক মুষ্ঠি পর্যন্ত বড় হতে) ছেড়ে দাও। (বুখারী ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা- ৮৭৫)।
চুলে খেযাবের বিধান: চুলে কালো খেযাব দেয়া মাকরূহ, অন্য রঙ্গের খেজাব দেয়া জায়েয। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা:) মেহেদীর খেযাব ব্যবহার করতেন। রাসূলুল্লাহ (স) খেযাব ব্যবহার করতেন না, কারণ তাঁর মাত্র আঠার থেকে বিশটি চুল পেকেছিল। রাসূল (স) আবু কুয়াফার দাঁড়িতে খেযাব দেখে বলেছেন- চুলে সাদা ছাড়া অন্য রঙ্গ কর, তবে কালো রঙ্গ করা থেকে সতর্ক থাক। অর্থাৎ কালো রঙ্গ করো না। (সহীহ্ মুসলিম, হাদীস নং-২১০২)।
মিসওয়াক করা : মিসওয়াক করা সুন্নত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সদা এ সুন্নত পালন করতেন। তিনি ইরশাদ করেছেন- যদি আমার উম্মতের উপর কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তাহলে  প্রত্যেক নামাযে (অযুতে) মিসওয়াক আবশ্যিক করে দিতাম। (সহীহ্ বুখারী, মুসলিম, মিশকাত- পৃষ্ঠা নং-৪৪)। হযরত হুযাইফা (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) রাত্রে তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য উঠলে মিসওয়াক করতেন। (মিশকাত, পৃষ্ঠা নং- ৪০)। হযরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মিসওয়াক মুখ পরিচ্ছন্নকারী, আল্লাহ তা’য়ালাকে সন্তুষ্টকারী (দারেমী, নাসায়ী, মিশকাত পৃষ্ঠা নং-৪৪)। হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন- নবী রাসূলদের সুন্নাত তথা আদর্শ হলো চারটি। ১. লজ্জা মতান্তরে খতনা করা, ২. আতর ব্যবহার করা, ৩. মিসওয়াক করা ৪. বিবাহ করা (তিরমিযি, মিশকাত পৃষ্ঠা নং- ৪৪)। রাসূলুল্লাহ (সা:) আরো বলেছেন- মিসওয়াক করে আদায়কৃত নামাযকে, মিসওয়াক করা ব্যতিত আদায়কৃত নামাযের উপর সত্তর গুণ মর্যাদা দেয়া হয় (বায়হাকী, মিশকাত পৃষ্ঠা নং- ৪৫)। মিসওয়াক করার দ্বারা দাঁত পরিষ্কার হয় এবং পাকস্থলির হযম শক্তি বৃদ্ধি পায়, রোগ প্রতিরোধ করে ও স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়। সুন্নাত হলো মিসওয়াক ব্যবহার করা। ব্রাশ ব্যবহার করলেও সুন্নাত আদায় হবে। কারণ প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো দাঁতকে পরিচ্ছন্ন করা এবং মুখকে দুর্গন্ধ মুক্ত রাখা।
কুলি করা : অযু করার সময় কুলি করা সুন্নাত। ফরয গোসলের জন্য গড়গড়া করে কুলি করা ফরয। তবে রোযার সময় গড়গড়া করা যাবে না। কারণ এতে ভিতরে পানি প্রবেশের আশঙ্কা থাকে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত উম্মুল মুমিনীন হযরত মাইমুনা (রা:) বলেন- আমি রাসূল (সাঃ) এর জন্য গোসলের পানি এনে একটি কাপড় দিয়ে পর্দা করলাম, তিনি পানি দিয়ে উভয় হাত ধৌত করলেন, তারপর বামহাতে পানি নিয়ে গুপ্তাঙ্গ ধৌত করে মাটিতে হাত মাসেহ করে পানি দ্বারা হাত ধৌত করলেন, তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং চেহারা ও হস্তদ্বয় কনুই পর্যন্ত ধৌত করলেন। তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢাললেন, নাক সাফ করলেন এবং উভয় পা ধৌত করলেন। আমি তার জন্যে একটি কাপড় আনলে তিনি তা গ্রহণ না করে হাত ঝাড়তে ঝাড়তে চলে গেলেন। (বুখারী মুসলিম, মিশকাত, পৃষ্ঠা নং- ৪৮)।  
নাকে পানি দেওয়া : অযু করার সময় নাকে পানি ডুকানো সুন্নাত। ফরয গোসলে নাকে পানি দেয়া ফরয। রাসূল (সা:) বলেছেন- তোমাদের কেউ যখন নিদ্রা থেকে জাগ্রহ হয় অতঃপর অযু করে সে যেন তিনবার নাক পরিষ্কার করে কেননা, শয়তান নাকের ছিদ্রে রাত্রি যাপন করে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত পৃষ্ঠা নং- ৪৫)।
ইস্তিঞ্জার বিধান :  পেশাব পায়খানা করার পর মলদ্বার ও মূত্রদ্বার পরিষ্কার করা আবশ্যক। আর এ জন্যে পানি ও ঢিলা উভয়ই ব্যবহার করা হয়। পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা উত্তম। আর ঢিলা ব্যবহার করা মুস্তাহাব। নাপাকী স্থান অতিক্রম করলে পানি ব্যবহার করা ওয়াজিব।
বগলের ও নাভীর নিচের পশমের বিধান : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বগলের পশম উপড়ে ফেলার এবং নাভীর নিচের পশম মুন্ডানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা, বগলের পশম সহজে উপড়ানো যায়। পক্ষান্তরে, নাভীর নিচের পশম সহজে উপড়ানো যায় না। এ বিধান পরিচ্ছন্নতার জন্য। যদি কেউ এর বিপরীত করে অর্থাৎ বগলের পশম মুন্ডায় এবং নাভীর নীচের পশম উপড়ে ফেলে এতে সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে।
নখ কাটার বিধান : রাসূলুল্লাহ (স) জুমআর নামাযে যাওয়ার পূর্বে গোঁফ ও নখ কাটতেন (আল মাজমাহ- ২৫/১৮০)। রাসূল (সাঃ) বলেছেন- তোমরা তোমাদের নখ কাট, কর্তিত অংশ পুঁতে রাখ, হাত ও পায়ের গিরা সমূহ ধৌত করো, মুখে লেগে থাকা খাদ্য দূর কর ও মিসওয়াক কর। দুর্গন্ধ অবস্থায় আমার কাছে এসো না (নাওয়াদেরুল উসূল, পৃষ্ঠা নং- ১১৫)। অপর হাদীসে রয়েছে- এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট আকাশের খবর জানতে আসলে রাসূল (স) বলেন, সে আকাশের খবর জানতে এসেছে অথচ তার নখ পাখির নখের মত, তাতে ময়লা আবর্জনা জমে থাকে। (আল কামেল-৩/৩১৫)।  
সুন্নাত কাজের মেয়াদ : হযরত আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে গোঁফ খাট করার, নখ কাটার, নাভীর নিচের পশম মুন্ডানোর এবং বগলের পশম উপড়ানোর মেয়াদ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তা’হলো উর্ধ্বে চল্লিশ দিন। (মুসলিম, হাদীস নং- ২৫৮, আবু দাউদ, হাদীস নং- ৪২০০)।
মাথার চুল রাখা বিধান : রাসূলুল্লাহ (স) কখনো কান পর্যন্ত, আবারো কখনো ছোট করে চুল রাখতেন। হযরত আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল (স) এর কেশ মোবারক অর্ধকর্ণ পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল।
হযরত আয়েশা (রা:) বলেন, আমি এবং মহানবী (স) একই পাত্রে গোসল করতাম। তাঁর কেশরাজি কর্ণলতি পর্যন্ত প্রলম্বিত চুল থেকে দীর্ঘ এবং স্কন্ধ পর্যন্ত প্রলম্বিত চুল থেকে খাটো ছিল। অর্থাৎ অতি দীর্ঘও ছিল না আবার অতি খাটোও ছিল না; বরং মধ্যম পর্যায়ের ছিল। হযরত উম্মে হানী (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, রাসূল (স) এর চুলকে চার ঝুঁটিবিশিষ্ট দেখেছি। হযরত বারা ইবনে আযেব (রা) বর্ণনা করেন, তাঁর দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিল। তাঁর মাথার কেশ কর্ণলতি পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। হযরত আনাস (রা) এর অপর বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল (সাঃ) এর কেশ মোবারক সম্পূর্ণ বক্রও ছিল না আবার সম্পূর্ণ সোজাও ছিল না; বরং ঈষৎ ঢেউ খেলানো ছিল। আর উক্ত কেশ মোবারক কর্ণলতি পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। হযরত ইবনে আব্বাস ও আয়েশা (রা) প্রমুখ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল (স) চুলে চিরুনি ব্যবহার করতেন। (শামায়েলে তরিমিযী, হাদীস নং- ২৩ - ৩০)। 
(প্রধান ফকীহ্, আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসা, ফেনী)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ