সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প-মেরকেল বৈঠকে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা

১৮ মার্চ, বিবিসি/ভয়েস অব আমেরিকা/সিএনএন : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মান চান্সেলর এ্যাঙ্গেলা মেরকেলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরে এটি মেরকেলের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রথম সরাসরি বৈঠক।
তাদের মধ্যেকার আলোচনায় ন্যাটো, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়গুলোই প্রাধান্য পায়।
যুক্তরাষ্ট্রে গত সোমবার জার্মান চান্সেলরের ওয়াশিংটন সফর কথা ছিল, তবে শীতকালীন তুষার ঝড়ের কারণে তাঁর সফর বিলম্বিত হয়। তিনি স্থানীয় সময় শুক্রবার ওয়াশিংটন সফরে আসেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মেরকেলর এই বৈঠকে আন্তঃআটলান্টিক সম্পর্কের ভবিষ্যতের ভারসাম্য নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পের কট্টরপন্থি বক্তব্যের জন্য তার সমালোচনা করেন মেরকেল। এছাড়া নির্বাচিত হওয়ার পরেও মুসলিম দেশের অভিবাসী ও শরণার্থীদের আমেরিকায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার জন্য ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন মেরকেল। তবে এখন বিশ্বের অতি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা মোকাবেলার লক্ষ্যে আন্তঃআটলান্টিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য কিছুটা নমনীয় মনোভাব গ্রহণ করছেন মেরকেল।
দুই নেতার মধ্যে ন্যাটোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরাট মতপার্থক্য রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, ‘আমি ন্যাটো সমর্থন করি, তবে ন্যাটো জোটের অনেক দেশ, অনেক দেশ যাদের আমরা রক্ষা করি, সেইসব দেশ ধনী দেশ, কিন্তু তারা তাদের যা দেয়া প্রয়োজন সেই অর্থ দেয় না। ন্যাটো সেকেলে বলে তা ঢেলে সাজানোর কথা জানান ট্রাম্প।
বাণিজ্য আলোচনার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানির এই বৈঠকে একটা সমঝোতার মনোভাব প্রকাশ পায়। কিন্তু ট্রাম্পের আলোচকরা যেমন কেবল দ্বিপাক্ষিক লেনদেনের কথা বলছেন, অপরদিকে ইওরোপীয়ানরা জোর দিচ্ছেন যে ইইউ ২৮টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে, তাই সেটাই গুরত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে। সবার কথাই বিবেচনা করতে হবে।
নির্বাচনী অভিযানের সময় ট্রাম্প শরণার্থীদের ক্ষেত্রে উদার নীতি গ্রহণের জন্য  মেরকেলের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। শরণার্থী নিয়ে মেরকেল জার্মানিকে ধ্বংস করছে বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের ভাষায়, আমি  মেরকেলকে অনেক পছন্দ করতাম। তাকে অসাধারণ ও বিরাট নেতা মনে করতাম। কিন্তু তিনি জার্মানির জন্য যা করেছেন তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তবে মেরকেলের ওয়াশিংটন সফরের মধ্য দিয়ে দুই নেতার মধ্যে চলমান তিক্ততার কিছুটা কমে তা নমনীয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকা
ক্যামেরার সামনে হাত মিলিয়ে
সমালোনায়  প্রেসিডেন্ট
হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সময় হাত মিলিয়ে স্বাগত জানালেও বৈঠকে ক্যামেরার সামনে জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মেরকেলের সঙ্গে হাত মিলাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় ত শুক্রবার মেরকেল ওয়াশিংটন সফরে যান। সেখানে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন।
মার্কিন নির্বাচনের আগে থেকেই মেরকেল ট্রাম্পের সমালোচনায় লিপ্ত ছিলেন। তবে ট্রাম্প মেরকেলকে হাত ধরে ওয়াশিংটনে স্বাগত জানিয়েছেন। গত শুক্রবার গণমাধ্যমের সামনে মেরকেলের সঙ্গে বৈঠকের ট্রাম্প মেরকেলের প্রতি অভিমান করতে দেখা যায়।
বৈঠকের একপর্যায়ে মেরকেল ট্রাম্পের নিকট হাত মেলানোর আহবান জানান। তবে ট্রাম্প মেরকেলের আহবানে সাড়া দেননি। ট্রাম্প গণমাধ্যমের সামনে না শোনার অভিনয় করে মেরকেলের সঙ্গে হাত মেলাননি।
ট্রাম্পের এই আচরণকে ছেলে মানুষী বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন গণমাধ্যম কর্মীরা। জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সাক্ষাতে ট্রাম্প হাত না মিলিয়ে তার ছেলে মানুষী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তাদের এই বৈঠকে ট্রাম্প মেরকেলের প্রতি অভিমান প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পের কট্টরপন্থি বক্তব্যের জন্য তার সমালোচনা করেছিলেন মেরকেল।
নির্বাচিত হওয়ার পরে গত ২৮ জানুয়ারি ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সাক্ষাতে মে’র সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে হাত মিলানোর বিষয়ে কর্ণপাত না করে আবারো সমালোচিত হয়েছেন ট্রাম্প।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ