শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

আমতলীতে অতি বর্ষণে ৪৮ কোটি টাকার রবি ফসলের ক্ষতি ॥ কৃষকরা সর্বস্বান্ত

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা: বরগুনার আমতলী উপজেলায় ৪  দিনের অতি বর্ষনে ৪৮ কোটি টাকার রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সর্বস্বান্ত  হয়ে গেছে তরমুজ চাষিরা। সাড়ে তিন হাজার তরমুজ চাষি বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছে। এখন তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে। ব্যাংক ও এনজিও’র ঋণ পরিশোধ  নিয়ে তারা মহাবিপাকে পড়েছেন।

আমতলী কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় খেসারী, মুগ, তরমুজ, মরিচ, বাদাম, সূর্যমুখী, ভুট্টা, আলু, মিষ্টি আলু, খিরাই ও শাক-সবজির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৪৩৫ হেক্টর। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমির রবি ফসলের। 

এ ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৭৪ মেট্রিক টন। যার সম্ভাব্য মূল্য ৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে তরমুজ ৪৪ কোটি ৮০ লাখ, মুগ ১ কোটি ২৫ লাখ ৫৯ হাজার, খেসারী ৫৬ লাখ ৩২ হাজার, মরিচ ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৬০০, বাদাম ১২ লাখ ৮২ হাজার, সূর্যমুখী ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০, ভুট্টা ৮৮ হাজার ২০০, শাক-সবজি ৩২ লক্ষ ৬৪ হাজার, আলু ৮ লাখ ৭০ হাজার, মিষ্টি আলু ৩৭ লাখ ৯০ হাজার ৮০০ ও খিরাই ১০ লাখ ৫০ হাজার  টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ফসলের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে রয়েছে। কিছু স্থানে পানি শুকালেও গাছ মরে গেছে। কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। 

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে সাড়ে তিন হাজার তরমুজ চাষি। তাদের একটাই কথা প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের নিঃস্ব করে দিয়ে গেছে। ঋণ পরিশোধ করবে কি দিয়ে?

পুর্ব কুকুয়া গ্রামের কৃষক আবদুর রাজ্জাক জানান, ব্র্যাক, সংগ্রাম, আশা ও পদক্ষেপ থেকে ৬ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে ৩০ একর জমি বর্গা রেখে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু সমস্ত  জমির তরমুজ পচে গেছে। কিভাবে তিনি ঋণ পরিশোধ করবেন এসব ভেবে অস্থির। সোনাখালী গ্রামের  কৃষক ওহাব মৃধা জানান, ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ১৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন, তা পচে গেছে। হান্নান মোল্লা  জানান, ২৪ একর জমিতে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় করে রবি ফসলের চাষ করেছিলেন, তা সব পচে গেছে।

এছাড়া হলদিয়ার লিটন, নুর  আলম মুসল্লি, শিবলী শরিফ ও ইউসুফ মিয়া জানান, তাদের ২০ একর জমির তরমুজ চারা মাটির সাথে মিশে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তরমুজ চাষিরা প্রতিবছর ব্যাংক, এনজিও এবং মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন।

 তরমুজ বিক্রি করে তারা ঋণের টাকা পরিশোধ করেন। এ বছর প্রকৃতির বৈরী পরিস্থিতিতে তারা সর্বহারা হয়ে গেছেন।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম বদরুল আলম  বলেন, বৃষ্টিতে আমতলী উপজেলার ৪৮ কোটি টাকার রবি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির বিবরণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ