শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

মুখের অবাঞ্ছিত লোমের চিকিৎসা

নারী-পুরুষ সবার শরীরেই কম বেশী লোম থাকে। কিন্তু যখন মেয়েদের মুখে ছেলেদের মতো লোম গজাতে শুরু করে তখন তা খুব বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। মেয়েদের মুখে এই অবাঞ্ছিত লোম গজানো নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন ভিত্তিহীন কারণকে দায়ী করেন। তবে মূলত শরীরের অভ্যন্তরীণ হরমোনের ভারসাম্যহীনতাই এর প্রধান কারণ। প্রত্যেক নারী ও পুরুষের শরীরে টেসটোস্টেরণ নামক এক ধরনের হরমোন রয়েছে। এই হরমোনের পরিমাণ সাধারণত: পুরুষদের শরীরে বেশী থাকে। তাই একে পুরুষ হরমোন বলে। যখন মেয়েদের শরীরে এই হরমোনের পরিমাণ কোন কারণে বেশী থাকে অথবা হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায় তখন মেয়েদের শরীরেও পুরুষের মত অধিক লোম গজাতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মেয়েদের এই শরীরিক সমস্যাকে হারসুটিসম বলা হয়। আরো কারণগুলোর মধ্যে হেয়ার ফলিকলের অন্ড্রোজেন-এর প্রতি সেনসিটিভিটি, ইনসুলিনে রেজিসন্টেস, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, জেনেটিক কারণ ইত্যাদি রয়েছে। অবাঞ্চিত লোমের পাশাপাশি শরীরে আরো কিছু পরিবর্তন দেখা যায় যেমন-অনিয়মিত মাসিক হওয়া, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে সন্তান হওয়ার সমস্যা, থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, ব্রণ হওয়া, পেশি বেড়ে যাওয়া, লোম দ্রুত বাড়তে থাকা ইত্যাদি। উপরোক্ত এই সকল লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মুখের অবাঞ্ছিত লোম বা হারসুটিসম একটি দীর্ঘ দিনের রোগ। তাই চিকিৎসাও অনেক ধৈর্য নিয়ে করতে হয়। যদি বাড়তি ওজন থাকে, নিয়মিত ব্যায়াম করে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে হবে। কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে হবে। সাথে এন্টি এন্ড্রোজেন মেডিকেশন যেমন-স্পাইরোনোল্যাকটোন জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। তবে লেজার চিকিৎসা তুলনামূলক অধিক কার্যকরী। এই ক্ষেত্রে কয়েকবার চিকিৎসা নিতে হয়। তবে ওজন কমানো, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, লোম অপসারণ এবং চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে মুখের অবাঞ্চিত লোম দূর করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কয়েক ধরনের লেজার চিকিৎসা আছে যেমন: লংপালস এনডিয়াগ লেজার, ডায়োড লেজার ইত্যাদি। তবে লেজারের পাশাপাশি ইফলোরনিথিন হাইড্রোক্লোরাইড নামক এক ধরনের ক্রিম জাতীয় ওষুধ পাওয়া যায়, যা প্রতিদিন দু’বার মুখের লোমযুক্ত স্থানে লাগালে শতকরা ৮০ থেকে ৮১ ভাগ ফ্যাসিয়াল হেয়ার দুর করা যায়। তবে আশার কথা বাংলাদেশেও এই ওষুধটি প্রথমবারের মত তৈরী করছে ইনসেপ্টা। ওনিকা নামের এই ক্রিমটি সকালে ও রাতে মুখ পরিষ্কার করে লোমের স্থানে লাগাতে হবে। তরুণী থেকে শুরু করে যে কোন বয়সের মেয়েরা অতিরিক্ত ফ্যাসিয়াল হেয়ার-এর চিকিৎসার জন্য এই ক্রিম লাগাতে পারবে। মুখের লোমের চিকিৎসার এই ক্রিম লাগানোর পর অন্তত: ৪ ঘণ্টা মুখ ধোয়া যাবে না। যাদের লেজার করার সামর্থ্য নেই বা লেজার করতে চান না তাদের জন্য ওনিকা নামের এই ওষুধটি সহায়ক হতে পারে। এছাড়া যারা লোমের চিকিৎসায় লেজার করেন তারাও ওনিকা ব্যবহার করতে পারবেন। এতে আরও দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। লোমের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধটি যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ বা ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিট্রেশন কর্তৃক অনুমোদিত। তবে ওষুধটি ব্যবহারের আগে অবশ্যই কোন চর্মরোগ অথবা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। এছাড়া মুখের অবাঞ্ছিত লোমের চিকিৎসার মুখে খাওয়ার ওষুধ স্পাইরোনোল্যাকটোন জাতীয় ওষুধ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা উচিত নয়।
-ডা: সঞ্চিতা বর্মণ
ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ
বাংলাদেশ স্কিন সেন্টার বাড়ি নং-১৭, রোড নং-৬ ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ