শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনা ইয়ং বয়েজ ক্লাব থেকে ৬ ডাকাত গ্রেফতার ॥ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার

খলনা অফিস: ডিবি পরিচয়ে দুইজন পাট ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে তিন লাখ টাকা ও একটি পালসার মোটরসাইকেল হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে খুলনা মহানগরীর ইয়ং বয়েজ ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা। এ সময় ক্লাব থেকে ৬ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। ক্লাবে তল্লাশী চালিয়ে বিদেশী মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এবং লুন্ঠিত একটি পালসার-১৫০ সিসি মোটরসাইকেল, হেলমেট, গাড়ির কাগজপত্র, নগদ ৪৩ হাজার টাকা, ডাচ বাংলা ব্যাংকের একটি ক্রেডিট কাড, ৩০০ টাকার তিনটি ষ্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো-মোঃ বাবুল শেখ (৪৮), মো. শেখ জাহান আলী (৩৯), মো. খলিল (২৫), মো. অলিয়ার শেখ (২৭), কাজী মো. নয়ন (২৫), মো. সোহাগ (৩০)।
এ সময় মোতালিম মিয়া বাবুল (৩২), রুহুল আমিন (৩৬), মোঃ শহিদ (২৮), ও পলাশ (৩২) পালিয়ে যায়।
র‌্যাব-৬ জানায়. ভুক্তভোগী মো. আতিয়ার ঢালী ও মো. সুমন হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, তদের বাড়ি বাদারীপুরে তারা পাটের ব্যবসা করে। তারা যশোরে পাট কেনার জন্য গত ৮ মার্চ বাড়ি থেকে রওনা হয়। খুলনা এসে বৃষ্টি শুরু হলে তারা তাদের পূর্ব পরিচিত মো. বাবুল শেখকে বলে তাদের কাছে টাকা পয়সা আছে একটি ভালো হোটেল ভাড়া করে দেয়ার জন্য। উক্ত বাবুল শেখ তাদেরকে খুলনা সদর থানাধীন ফায়ার ব্রিগেড রোডস্থ হোটেল শাহিন এ রুম ভাড়া করে দেয়। তারা রুমে রাত কাটিয়ে সকাল ৮ টার দিকে হোটেল থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে বের হয়ে কিছু দুর যাবার পর বাবুলসহ আরো ২/৩ জন তাদেরকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে থামতে বলে। তারা গাড়ি থামানোর পর তাদের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে তাদেরকে জোরপূর্বক ইয়ং বয়েজ ক্লাবে ঢুকাতে চাইলে তারা ঢুকতে না চাইলে তাদের গালিগালাজ ও মারধর করতে থাকে। তাদেরকে ক্লাবে ঢুকিয়ে তাদের কাছে থাকা তিন লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল এবং একটি মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তাদেরকে মারধর করে তাদের ক্লাবের পিছনের দিকের একটি রুমে আটকে রাখে। পরে তাদেরকে বাড়ি থেকে আরো দুই লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে আনতে বলে। তারা জীবনের ভয়ে খুলনায় তাদের পরিচিত সোহাগ নামের এক বন্ধুর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা এনে দেয়।
ইতোমধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের কাছে তথ্য এলে অভিযান পরিচালনা করে ভুক্তভোগী মো. আতিয়ার ঢালী ও মো. সুমন হোসেনকে উদ্ধারসহ আসামীদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
আসামীদের মধ্য হতে কাজী মো. নয়নের মানিব্যাগ হতে ১৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় এবং তার বন্ধু পলাতক ডাকাত মোতালিম মিয়া বাবুল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় একজন নিরীহ লোকের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা এবং পালসার-১৫০ সিসি মোটরসাইকেল হোটেল শাহিনের সামনে পাঠিয়ে দেয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের দেয়া তথ্যমতে, একটি হেলমেট, গাড়ির কাগজপত্র, ডাচ বাংলা ব্যাংকের ক্রেডিট একটি কাড এবং ৩০০ টাকার তিনটি ষ্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়। উক্ত ডাকাতির সাথে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে খুলনা সদর থানায় মামলা হয়েছে।   

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ