শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ঈশ্বরদীতে নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্যের শিকার

কামরুল ইসলাম পাবনা: চার দিন ধইরা এক দাগ ধান শুকালে ১৫ কেজি খুদ ও ১৫ কেজি ধানের গুঁড়া পাই। অনেক সময় খুদ ও ধানের গুঁড়া না দিয়া মহাজন অ্যামাগরে এক দাগ ধান ধুকানোর জন্যে ৪৫০ ট্যাহা মজুরি দেয়। কিন্তু পুরুষরা পায় প্রতিদিন ৫০০ ট্যাহা করি মজুরি। চাতালের নারী শ্রমিকদের এই মজুরিবৈষম্য ও কষ্টের কথা জানাতে গিয়ে কথাগুলো বলেন পাবনার ঈশ্বরদীর জয়নগর মোকামের চাতালের নারী শ্রমিক সাহারা খাতুন। শুধু সাহারা খাতুন নন, তাঁর মতো এখানকার তিন হাজার চাতালের নারী শ্রমিকেরা মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ঈশ্বরদী চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি ফয়জুল হক মালিথা বলেন, ঈশ্বরদীতে ছোট-বড় মিলে ৭০০ চাতাল রয়েছে। এসব চাতালে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি ৩ হাজার নারী শ্রমিক রয়েছেন। তবে চাতাল ব্যবসা মন্দার কারণে অনেক মহাজন ও চাতাল মালিক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এই অবস্থায় ন্যায্য মজুরি না পাওয়ায় অনেক নারী শ্রমিক পেশা পরিবর্তন করছেন। উপজেলার আইকে সড়কের ছলিমপুর,বড়ইচড়া, মিরকামারী, জয়নগর, দিয়াড় বাঘাইল, চরসাহাপুর এলকায় গত সোমবার সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে ঈশ্বরদীর মোকামে ৬০ ভাগ ধানের চাতাল চালু রয়েছে। বাকিগুলো বিভিন্ন কারণে বন্ধ। চালু থাকা চাতালগুলোতে ৬০ ভাগ শ্রমিক নারী। কিন্তু মজুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকেরা পুরুষের তুলনায় অনেক কম পারিশ্রমিক পান বলে নারীরা অভিযোগ করেন। ছলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের মালেকা বেগম বলেন, এক দাগ (এক খোলা ধানকে এক দাগ বলা হয়) ধান শুকানোর পর ১৫ কেজি খুদ ও ১৫ কেজি ধানের গুঁড়া দেওয়া হয় তাঁকে। অনেকে এর পরিবর্তে ৫৭০ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। জনৈক  শ্রমিক জানান বছর শেষ হলি রোজার ঈদে মহাজন একটা করি শাড়ি আর কোরবানির ঈদে ১০০ করি টাকা দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায় চাতালের নারী শ্রমিকরা প্রতিদিন ১০ ঘন্টা কাজ করেও ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নারী শ্রমিকদের ৪ দিন কাজ করানোর পর পারিশ্রমিক হিসাবে খুদ ও চালের গুঁড়া দেওয়া হয়। প্রতি কেজি ধানের গুঁড়া ১২ ও খুদের দাম ২৬ টাকা। সেই হিসাবে ৪দিন কাজ করার পর চাতালের একজন নারী শ্রমিক মজুরি পান ৫৭০ টাকা। আর পুরুষ শ্রমিক ১দিন কাজ করেই মজুরি পান ৫০০ টাকা। নারী শ্রমিকরা বলেন প্রতিদিন সকাল ৭টায় ধানের চাতালে আসেন। বাড়ী ফেরেন সন্ধ্যা ৭ টায়। কেউ অসুস্থ হয়ে বাড়ীতে পড়ে থাকলে তাদের কাজ থেকে বাদ দিয়ে দেন।
আয়ের ভালো উৎস না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা ধানের চাতালেই কাজ করে আসছেন। চাতাল মালিকরা জানান নারীর তুলনায় পুরুষ শ্রমিকরা বেশী পরিশ্রম করতে পারেন। তাই মজুরি বেশী। আরো জানান বর্তমানে এখানকার চাতালের ব্যবসার অবস্থা ভালো নয়। আগের মতো ব্যবসা নেই। তাই বেশী মজুরির আশায় এখানকার চাতালের নারী শ্রমিকরা পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ