বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

এটিএম কার্ড জালিয়াতি করে মাসে ৫০ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নিত -র‌্যাব

স্টাফ রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের যোগশাজশে দেশে এটিএম কার্ড জালিয়াতি করে মাসে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের ১১ সদস্যকে গতকাল বুধবার গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে এটিএম কার্ড তৈরির কাঁচামাল, বিশেষ ধরনের প্রিন্টার, বিভিন্ন ব্যাংকের ২০০টি এটিএম কার্ড, ১০০টি খালি এটিএম কার্ড ও ৬টি কার্ডের পাঞ্চমেশিন উদ্ধার করা হয়।
গতকাল দুপুরে  কাওরান বাজারে অবস্থিত র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে আটককৃতদের পরিচয় জানিয়ে বলা হয় ,তারা হলেন- জালাল হোসেন সুমন (২৭), শাহ আজিজ সোহেল (৩৬), নূরে আলম (৪৫), রানা (২৪), জহিরুল ইসলাম (৩৭), লুৎফর রহমান সুজন (৪২), পারভেজ (২৩), ওয়াহেদ (২০), আব্দুল আলী (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫) ও কামরুজ্জামান সুমন (৩০)।
র‌্যাব কর্মকর্তা মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তারা ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী আন্তর্জাতিক কার্ড জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের সঙ্গে পারস্পরিক যোগসাজশে বিদেশী নাগরিকদের ইন্টারন্যাশনাল এটিএম কার্ড হ্যাক করা হয়। তারা এ সব হ্যাকিং করা কার্ডের নম্বর বাংলাদেশে অবস্থানকারী চক্রের সদস্যদের কাছে পাঠায়। পরে তারা তাদের নিজেদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে ওই কার্ড নম্বরে প্রবেশ করে সেটি  ব্যবহারের উপযোগী করে। এরপর বড় বড় শপিং মল, দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এই কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা ও লেনদেন করে। এই প্রক্রিয়ায় তারা প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে বলে জানায়।’
র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চক্রের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অসাধু লোকরা জড়িত রয়েছে। তারা ২০ থেকে ২৫ ভাগ কমিশনে ওই চক্রের লোকদেরকে এসব কার্ড ব্যবহার করতে দিয়ে থাকে।  র‌্যাবের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এই জালিয়াতির চক্রের আইটি এক্সপার্টের নাম শাহ আজিজ সোহেল। সে দীর্ঘদিন দুবাইয়ে ছিল। সেখানে থাকার সময় এরিন লিমো নামে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তার কাছ থেকেই মূলত কার্ড জালিয়াতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেয় আজিজ। এখনও তার সঙ্গে আজিজের যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া এই চক্রের মধ্যে আলম, সুমনসহ কয়েকজন এর আগেও গ্রেফতার হয়েছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ