বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

ছাত্রীদের রাস্তা অবরোধ ॥ দুর্ভোগে নাকাল সর্বসাধারণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট করার দাবিতে গতকাল বুধবার তৃতীয় দিনের মতো হোম ইকোনমিক্স কলেজের শিক্ষার্থীদের অবরোধ ও আন্দোলন অব্যাহত ছিল -সংগ্রাম

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা ইনস্টিটিউট হিসেবে মর্যাদা না দেয়া পর্যন্ত রাজধানীর হোম ইকোনোমিক্স ছাত্রীদের প্রতিদিন রাস্তা অবরোধ কর্মসূচির ফলে জনদুর্ভোগে নাকাল রাজধানীর সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ। প্রতিদিনের নির্দিষ্ট কর্মসূচির কারণে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। পরিবহনের পরিবর্তে পায়ে হেঁটে তাদেরকে যেতে হচ্ছে গন্তব্যস্থলে। তাছাড়া গত ৩ দিন ধরে চলা এই জনদুর্ভোগ রূপ নিয়েছে মহামারীতে। ছাত্রীদের আন্দোলনের ফলে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান নিউমার্কেট, নীলক্ষেত ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটে বিপর্যস্ত এই রুটের পরিবহন খাত।
জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে ঢাবির ইনস্টিটিউট হিসেবে মর্যাদার দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে হোম ইকোনোমিক্স কলেজের ছাত্রীরা। গত বছরের ৪ অক্টোবর নীলক্ষেত মোড়ে অবরোধ করে আন্দোলন করে ছাত্রীরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ঢাবির অধীনে ইনস্টিটিউট ঘোষণার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপর শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি নিয়ে ঢাবি প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেন। কিন্তু এত দিনেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আবার আন্দোলন শুরু করেছেন তারা।
সর্বশেষ এ মাসের ১২ তারিখ থেকে আবার আন্দোলন শুরু করে ছাত্রীরা। ওইদিন কলেজের অভ্যন্তরে আন্দোলন করলেও পরবর্তীতে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দেয়। এর পরের দিন থেকে টানা তিন দিন ছাত্রীরা ইনস্টিটিউটের দাবিতে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেয় এবং সকল পরিবহণ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে রাজধানীর সর্বস্তরের মানুষ চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির সম্মুখীন হন।
দুর্ভোগের শিকার বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি (বুয়েট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফসানা তারিন জানান, সকাল ১১টায় ভার্সিটিতে ক্লাস করার জন্য মিরপুর বাসা থেকে বের হন। কিন্তু তীব্র যানজটের কারণে মাঝরাস্তায় তাকে বাস থেকে নেমে পুরো পথ হেঁটে আসতে হয়। এখন সাড়ে ১২টা। ছাত্রীদের আন্দোলনের ফলে দুইটা ক্লাস মিস হয়ে গেল। দুর্ভোগের শিকার এক গৃহিনী জানান, সকালে মেয়েকে স্কুলে দিতে এসেছিলেন। কিন্তু ফেরার পথে ছাত্রীদের আন্দোলনে রাস্তা বন্ধ থাকায় রিকসার পরিবর্তে পায়ে হেঁটে বাড়ি যেতে হচ্ছে। তিনি জানান, কতদিন এভাবে চলে কে বা জানে। 
এদিকে প্রতিদিনের এমন সর্বনাশা কর্মসূচিতে বিপাকে পড়েছে নীলক্ষেত, নিউমার্কেট গামী পরিবহণ শ্রমিকগণ। দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় তাদের যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। গুলিস্তান থেকে ধামরাইগামী ‘ধামরাই-ডি লিংক’ পরিবহনের হানিফ নামের এক কর্মচারী জানান, ছাত্রীদের আন্দোলনের ফলে তাদের ৪-৫ ঘন্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়। দিনের গুরুত্বপূর্ণ একটা মুহূর্তে গাড়ি না চলায় তাদের মোটা অংকের টাকা ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া এমনিতেই শহরে যানজট লেগেই থাকে।
এদিকে গত দুদিনের মত গতকালও রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করে কলেজের ছাত্রীরা।   গতকাল বুধবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে নিউ মার্কেট মোড়ে কলেজের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান করে বিক্ষোভ করে। এর ফলে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলরত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে আশপাশের সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এসময় দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করা হবে বলে জানায় শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যাপক ফাতিমা সুরাইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এছাড়াও আমাদের অনেক দাবি ছিল। এই কারণে গত বছরের অক্টোবরে শিক্ষামন্ত্রী দুটি তদন্ত কমিটি করেছিলেন। গতকাল আমরা শিক্ষকরা সভা করেছি। সভায় কলেজের বেশ কিছু সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে আসতে বলেছি। সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে আন্দোলন করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ