সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

দেশের কৃষি অর্থনীতিতে গ্রামীণ নারীর অবদান ৬৪.৪%॥ ভূমিতে মালিকানা মাত্র ৪%

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের কৃষি অর্থনীতিতে গ্রামীণ নারীর অবদান ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অথচ ভূমিতে গ্রামীণ নারীর মালিকানা মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশ। বাকী ৯৬ শতাংশ জমির ব্যক্তি মালিকানা রয়েছে পুরুষের নামে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে এসোসিয়েশন অর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) নামক একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘নারীর ভূমি অধিকার, কৃষিতে অংশগ্রহণ ও বঞ্চনা : সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এই সেমিনারে সম্মানিত অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক (সরেজমিন উইং) কৃষিবিদ চৈতন্য কুমার দাস। এএলআরডির চেয়ারপার্সন খুশী কবিরের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্যানেল আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সীমা জামান ও ড. রওশন আরা ফিরোজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার এবং এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। এএলআরডির উপ-নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে তৃণমূলের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন মেহেরপুরের কাজল রেখা, ফরিদপুরের শাহনাজ আক্তার, ময়মনসিংহের ফুলেশ্বরী, গাইবান্ধা গোবিন্দগঞ্জের অলিভিয়া হেমরন ও পাবনা চাটমোহরের সোনাবান খাতুন।
 মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী ৬৬ শতাংশ নারী কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের ৮৮ শতাংশ নারী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি কাজে জড়িত। সরকারের দেয়া তথ্যানুযায়ী কৃষি অর্থনীতিতে গ্রামীণ নারীর অবদান ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পুরুষের অবদান ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ। বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ নারী, অথচ ভূমিতে গ্রামীণ নারীর মালিকানা মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশ। বাকী ৯৬ শতাংশ জমির ব্যক্তি মালিকানা রয়েছে পুরুষের নামে।
কৃষিবিদ চৈতন্য কুমার দাস বলেন, কৃষকদের সহায়তার জন্য সরকার এ পর্যন্ত ২ কোটি ৫ লাখ কৃষি কার্ড বিতরণ করেছে। এরমধ্যে ১ কোটি ৪৮ লাখ কৃষি পরিবার এবং ৫৭ লাখ ভূমিহীন পরিবার রয়েছে।
তিনি বলেন, ঋণ পাওয়া দেশের সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তাই সরকার সকল কৃষক যাতে ঋণ পায় তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে। যদি কেউ ভূমিহীন বর্গা চাষিও হয়, সে যদি বর্গা চাষের একটি চুক্তিপত্র দেখাতে পারে তাহলে ব্যাংক তাকে ঋণ দেবে।
বক্তারা বলেন, ভূমিতে নারীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয়। নারীর ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারকে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা এবং খাদ্য সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে অদৃশ্যে থাকা নারীদের দৃশ্যমান করতে হলে নারীর ভূমি ও কৃষি অথিকারকে সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে।
তারা কৃষি জমিতে নারীর অধিকার নিশ্চিত করে তাদেরকে কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া, কৃষি সমিতিতে সকল নারী কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা, কৃষি সহায়তা কার্ড বিতরণে কৃষক বাছাই প্রক্রিয়ায় ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিতে নারী কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা, মজুরি প্রদানে নারী-পুরুষের বৈষম্য দুর করা, নারী কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কৃষি ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ