বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য পাতানো খেলার অংশ

গতকাল বুধবার বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ভারত সফরের আগে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য সরকারের পাতানো খেলার অংশ বলে মন্তব্য এসেছে বিএনপির পক্ষ থেকে। গতকাল বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হঠাৎ করে ভারতবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০০১ সালে ভারতের ‘র’ এবং যুক্তরাষ্ট্র মিলে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। হঠাৎ করে শেখ হাসিনার ‘র’ এর বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদান রহস্যজনক। হঠাৎ করে তার ‘র’ এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়া একটি পাতানো খেলা ও তামাশারই অংশ বলে আমরা মনে করি।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জিয়াউর রহমান খান, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৭ এপ্রিল ভারত সফরে যাবেন। গণমাধ্যমের সূত্রমতে এই সফরে প্রায় দুই ডজন চুক্তি ও সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর হবে। তবে ভারত সফর নিয়ে দিল্লির মূল আগ্রহ ঢাকার সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি। যেহেতু ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র তাই আমরা আগেই বলেছি- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সামরিক চুক্তিতে হলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে কিনা তা নিয়ে দেশের মানুষ দু:শ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছিল, ভারত এমন একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি চাইছে যার আওতায় প্রশিক্ষণ, সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি এবং দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে এতে আরও বলা হয়, প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বিএনপি এ নেতা বলেন, দক্ষিণ-এশিয়াভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত কয়েকটি চুক্তি এবং তাদের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনার পর ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বিগ্ন ভারত। সেই উদ্বেগ দূর করতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে প্রতিরক্ষা চুক্তির তোড়জোড় করছে ভারত। বাংলাদেশ পৃথিবীর কোনো দেশের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করেনি। ভারতের সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোজ পারিকর গত ৩১ অক্টোবর দু’দিনের সফরে যখন ঢাকায় আসেন তখন ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঢাকা-দিল্লি সামরিক চুক্তির বিষয়টি সামনে আসে।
রিজভী বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সামরিক চুক্তি হলে তা হবে আত্মঘাতি ও জাতীয় স্বাধীনতা বিরোধী। কারণ বাংলাদেশের নিরাপত্তা যদি ভারতের উপর নির্ভরশীল হয় এবং ভারতের ইচ্ছা অনুযায়ী যদি প্রতিরক্ষা নীতি গ্রহণ করতে হয় তাহলে এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বলে কিছু থাকবে না। এই ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী প্রতিরক্ষা চুক্তি হলে এদেশের জনগণ তা কখনোই মেনে নেবে না, বরং এই ধরনের চুক্তি প্রতিরোধে সর্বশক্তি দিয়ে এগিয়ে আসবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হঠাৎ ভারতবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আলোড়ণ সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেছেন- ২০০১ সালে ভারতের ‘র’ এবং যুক্তরাষ্ট্র মিলে বিএনপি-কে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। শেখ হাসিনার হঠাৎই এ ধরনের উক্তি রহস্যজনক। এটি একটি পাতানো খেলারই অংশ।
বিএনপির এ নেতা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্যই ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ একটি ফাইল খুলেছিল। যা ভারতের একটি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘সানডে’তে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে বলা হয় যে, মোরারজী দেশাই আসার পর ফাইলটি বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু পুনরায় ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকার গঠিত হলে ফাইলটি পুনরায় চালু করা হয়। এর কিছু দিনের মধ্যেই ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নির্মমভাবে নিহত হন। এছাড়াও ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারী একতরফা নির্বাচনের আগে ভারতের তৎকালীন কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যেভাবে নাক গলিয়েছেন তা নজিরবিহীন, বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। সুতরাং ‘র’ কাদের স্বার্থে কাজ করে তা বাংলাদেশের জনগণ ভালভাবেই জানে। তাই হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর ‘র’ এর বিরুদ্ধে বিরোধীতা যে তামাশারই অংশ তা নিয়ে জনগণের মধ্যে কোন সংশয় নেই।
তিনি বলেন, ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। বন্ধুত্ব হয় সমানে সমানে। কিন্তু কোন বন্ধু যদি বন্ধুত্বের নামে আধিপত্য বিস্তার করতে চায় তবে তাহলে সেটিকে বন্ধুত্ব বলা যায় না, সেটি হয় প্রভুত্ব। ভারত বাংলাদেশের সাথে বহু অমিমাংসিত বিষয় এখনও সমাধান করেনি। এখনও দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্ত ভারতের বিএসএফ দ্বারা প্রতিনিয়ত আক্রান্ত ও বাংলাদেশীদের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে। আমাদের অর্থনীতিকে ভারতের ওপর নির্ভরশীল রাখার জন্য তারা বেপরোয়া। বাংলাদেশ সরকারের ভ্রান্তনীতির কারণেই দেশের সংস্কৃতি এখন ভারতীয় আগ্রাসনের শিকার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেষে ভারতীয় এলাকাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে ফেনসিডিলসহ মাদকের কারখানা খুলে তা বাংলাদেশে রফতানী করে দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আর বাংলাদেশকে মরুময় করার জন্য স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের পানি আগ্রাসন সর্বজনবিদিত।
রিজভী বলেন, প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এর সাথে দেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব জড়িত। এই চুক্তির বিষয়ে আজ দেশের মানুষ চরমভাবে উদ্বেগ উৎকন্ঠায় ভুগছে।  প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে যেহেতু ভারতের প্রধান চাহিদা প্রতিরক্ষা চুক্তি, এছাড়াও আরো দুই ডজন চুক্তির কথাও শোনা যাচ্ছে, তাই জনগণকে অবগত না করে গোপন চুক্তি কেউ মেনে নেবে না, বাস্তবায়ন হতে দেবে না। দাসত্বের শৃঙ্খলে বাঁধার যেকোন চুক্তি এদেশের জনগণ, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠন অগ্নিবর্ণ সংগ্রামে তা প্রতিহত করবে।
জনসভায় নৌকার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভোট চাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, আরপিও অনুযায়ী এটা নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘন। উনি প্রধানমন্ত্রী, উনি তো একটি লাভজনক পদে আছেন, উনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। উনি জনসভা করে নৌকায় ভোট চাওয়ার কথা বলেছেন। এর এফেক্ট তো লক্ষ্মীপুরে হবে, কুমিল্লার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনেও হবে। আমরা মনে করি, কুমিল্লায় যে নির্বাচন হচ্ছে, তার প্রাক্কালে ওই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য এই কথাটি প্রধানমন্ত্রী বলছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ