বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের সাড়ে চারশ’ কোটি টাকা লুটপাট

খুলনা অফিস : খুলনায় কাঁচা পাট ক্রয়ের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় সাড়ে চারশ’ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক খুলনা করপোরেট শাখা থেকে সিসি প্লেজ ঋণের (ক্যাশ ক্রেডিট) প্রায় ১০২ কোটি টাকার পাটের ঘাটতি ধরা পড়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ১৮টি প্রতিষ্ঠান পাট ক্রয় না করে ওই টাকা আত্মসাৎ করেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টাকা তুলে নিয়েছে ওইসব অসাধু পাট ব্যবসায়ীরা। সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ‘আইটেম অডিটে’ পাটের এই ঘাটতি ধরা পড়ে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে সোনালী ব্যাংক খুলনা করপোরেট শাখা থেকে কাঁচা পাট ক্রয়ের জন্য ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১১০ কোটি টাকা সিসি প্লেজ ঋণ দেয়া হয়। শর্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে পাট মজুদের বিপরীতে গ্রহীতারা এই ঋণ গ্রহণ করেন। কিন্তু ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নিরীক্ষক দল সম্প্রতি এসব প্রতিষ্ঠানের গোডাউন পরিদর্শন করলে ব্যাংকের স্টক রেজিস্টার অনুযায়ী প্রায় ১০২ কোটি টাকার পাটের ঘাটতি দেখা যায়। এর মধ্যে মেসার্স প্রমি জুট ট্রেডার্স, মেসার্স বেঙ্গল জুট ট্রেডিং, মেসার্স আবুল কাসেম গাজী, মেসার্স ভূঁইয়া ট্রেডার্স, মেসার্স সেঁজুটি জুট ট্রেডিং, মেসার্স রাকিব জুট ফাইবার্স ও মেসার্স মাদারীপুর জুট ট্রেডার্স এর গোডাউনে শতভাগ পাটের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া মেসার্স ইসরাইল হোসেন, মেসার্স যমুনা জুট ট্রেডিংসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে ব্যাংকের স্টক রেজিস্টারের ৫ শতাংশ পাটও নেই।
সূত্র জানিয়েছে, মেসার্স প্রমি জুট ট্রেডার্স ১৮০ কেজির ৩৮ বেল ও ৫০ কেজির ৭০ হাজার ৬শ’ বোঝা পাট ক্রয়ের জন্য সমপরিমাণ টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। একইভাবে মেসার্স বেঙ্গল জুট ট্রেডিং ৯৬০ বেল ও ১৯ হাজার ৭শ’ বোঝা, মেসার্স আবুল কাসেম গাজী ১৪০ বেল ও ১৬ হাজার বোঝা, মেসার্স ভূঁইয়া ট্রেডার্স ১৭৫ বেল, ১১ হাজার ২শ’ বোঝা, মেসার্স সেঁজুটি জুট ট্রেডিং ১৮৭ বেল ও ১২ হাজার ২শ’ বোঝা, মেসার্স রাকিব জুট ফাইবার্স ৮৯৩ বেল ও ১২ হাজার ৭৫০ বোঝা, মেসার্স মাদারীপুর জুট ট্রেডার্স ১৩০ বেল ও ২২৯ হাজার ৬৩১ বোঝা কাঁচা পাট ক্রয়ের টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছে।
সোনালী ব্যাংকের খুলনা করপোরেট শাখার ডিজিএম মো. আবু হোসেন জানান, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের আইটেম অডিটে প্রতিষ্ঠানগুলোর গোডাউন পরিদর্শন করে এই ঘাটতি নিরূপণ করা হয়। তবে খুলনা ব্রাঞ্চে এ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন দেয়া হয়নি।
জানা গেছে, এরই মধ্যে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাব্বি এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স রাকিব জুট ফাইবার্স ও মেসার্স মাদারীপুর জুট ট্রেডার্সের প্লেজকৃত অবশিষ্ট পাট বিক্রির জন্য ‘নিলাম বিজ্ঞপ্তি’ দেয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের খুলনার উপ-পরিচালক মো. আব্দুল হাই জানান, সোনালী ব্যাংক খুলনার করপোরেট শাখাসহ বিভিন্ন শাখায় সিসি প্লেজ লোনের নামে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১২৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মহানগরীর খানজাহান আলী থানায় একটি মামলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ