বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুই সম্পাদক

খুলনা অফিস : নির্জীব স্টেডিয়াম এলাকায় প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের পদচারণা বেড়েছে ক্লাব পাড়ায়। কারণ দীর্ঘ চার বছর পর আগামী ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন। মাঠে নিয়মিত লীগ আয়োজনে তৎপরতা না থাকলেও ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা হতে তৎপর সবাই। তাদের তৎপরতায় ইতোমধ্যে দু’টি প্যানেল তৈরি হয়েছে। ভোটার ও ক্রীড়া সংগঠকরা ভাগ হয়ে পড়েছে দুই পক্ষে। তাতে নির্বাচনী লড়াই যে জমজমাট হবে- তারই আভাস দিচ্ছে।
খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে জানা গেছে, গত ৯ মার্চ ঘোষণা করা হয়েছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনের তফসিল। জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে সংস্থার সভাপতি। এ জন্য সাধারণ সম্পাদকসহ ২২টি পদে ভোট হবে। ভোটার রয়েছেন ২২১ জন। এর মধ্যে ক্রীড়া সংগঠক বা ক্লাবের ভোট ১৯০টি। বাকিগুলো সরকারি কর্মকর্তা, উপজেলা ও মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, স্পন্সর ও সভাপতি মনোনীত ভোটার।
ভোটাররা জানান, প্রার্থিতা নিয়ে কানাঘুঁষা শুরু হয়েছিল মাসখানেক আগে থেকে। গত মঙ্গলবার রাতে একপক্ষের বৈঠক শেষে প্রকাশ্যেই চলে এসেছে প্রার্থিতার বিষয়টি। এবার নির্বাচনে দু’টি প্যানেল তৈরি হচ্ছে। একটির নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কাজী শামীম আহসান। বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এস এম মোর্ত্তুজা রশিদী দারা তাকে সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম মোয়াজ্জেম রশিদী দোজা আরেকটি প্যানেলের নেতৃত্বে দিচ্ছেন। মঙ্গলবার রাতে এক সমন্বয় সভায় তাকে সমর্থন দিয়েছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজমল আহমেদ তপন, ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম, প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক এম এ মুনসুর আজাদ ও মোহামেডান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রহমান বাবু।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত দিনগুলোয় সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য পদে আবাহনী ক্লাব প্রধানের সম্মতি একটি বড় ভূমিকা পালন করতো। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। দুইপক্ষই তার সমর্থন আশা করছেন। এনিয়ে একাধিক কথাই প্রচলিত আছে। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে সবাই সমানভাবে ভোটার তৈরি করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে ১৯০ জন ভোটারের মধ্যে ১৫০টি ভোটই ২০-২৫ জন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে। মুষ্টিমেয় লোকের হাতে ভোট বেশি থাকায় সাধারণ ভোটারের গুরুত্ব কিছুটা কমই মনে হচ্ছে। তবুও ভোটার ভোলাতে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।
খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এস এম মোয়াজ্জেম রশিদী দোজা বলেন, খুলনায় ক্রিকেট মাঠের সংকট নেই। তারপরও কয়েক বছর ধরে ক্রিকেট লীগ হয় না। বড় খেলাগুলো কোনোটিই নিয়মিত হচ্ছে না। ক্রীড়া সংস্থার কাজ খেলা চালানো কিন্তু বিগত কমিটি কি করেছে আমাদের বোধগম্য নয়। আমাদের প্যানেল নির্বাচিত হলে নিয়মিত সবকটি লীগ মাঠে গড়াবে।
অপর প্যানেলের প্রধান কাজী শামীম আহসান বেশ কয়েকদিন ধরে খুলনার বাইরে অবস্থান করছেন। তারপক্ষে তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সুজন আহমেদ বলেন, কোনো কাজই যদি না হয় তাহলে খুলনায় দৃষ্টিনন্দন জেলা স্টেডিয়াম হলো কিভাবে? মাঠ সংকটের কারণে অনেক লীগের আয়োজন করা যায়নি। সামনের বছর সব লীগই নিয়মিতভাবে হবে।
তবে দুই প্যানেলে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মাঝে সাধারণ খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের প্রত্যাশা ক্রীড়া সংস্থা প্রকৃত সংগঠকদের হাতে থাকুক। নির্জীব স্টেডিয়াম আবারও সজীব হোক। নিয়মিত বিরতিতে মাঠে গড়াক ক্রিকেটসহ সব ধরনের লীগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ