শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সংস্কার শেষ হওয়ার আগেই আবারো খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের মাঠের কাজ বন্ধ!

খুলনা অফিস : খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের মাঠ সংস্কার কাজের বাধা যেন দূরই হচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামের কাজের অন্য অংশ সম্পন্ন হলেও এখনও মাঠের কাজ শেষ হয়নি। মাস দু’য়েক আগে মাঠে সংস্কার কাজ শুরু হলেও মাঝপথেই আবার তা বন্ধ হয়ে গেছে। মাঠে যে পরিমাণ মাটি দিয়ে ভরাট করার কথা তার অর্ধেকও মাটি দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ ক্রীড়া সংগঠকদের। এ অবস্থা চলতে থাকলে কবে নাগাদ মাঠের কাজ শেষ হবে তা নিয়ে আবার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মাঠ সংস্কারের এ ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা, ক্ষুব্ধ জেলা ক্রীড়া সংস্থাও। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে বলা হচ্ছে, পুনরায় মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু হবে এবং শিগগিরই শেষ হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্টেডিয়ামটির অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর ২০১৪ সালের শেষ দিকে এর সংস্কার কাজ শুরু হয়। এ কাজে মোট ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। এ বরাদ্দ ব্যয়ে স্টেডিয়ামের ৬০০ ফুট গ্যালারি, প্যাভিলিয়ান ভবন নির্মাণ ও মাঠ সংস্কার কাজ হওয়ার কথা। ২০১৫ সালের মধ্যেই এ কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। অথচ এ সময়সীমার পর প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনও স্টেডিয়াম খেলার উপযোগী হয়নি। সর্বশেষ জটিলতা ছিলো মাঠ সংস্কারে। স্টেডিয়ামের রাবিশ সরানো নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রশি টানাটানি শুরু হয়েছিলো। পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় মাঠ রাবিশ মুক্ত হয়। পরবর্তীতে মাঠ সংস্কারের কাজও শুরু হয়। প্রায় দুই মাস আগে মাঠে মাটি ফেলা ও মাঠ লেভেলিং করার কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আনিকা এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু মাটি ভরাট সম্পন্ন না করেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গত প্রায় পনের দিন ধরে স্টেডিয়ামের মাঠের কাজ বন্ধ রয়েছে।
খুলনা জেলা স্টেডিয়াম ঘুরে দেখা যায়, মাঠের এখনও এক তৃতীয়াংশ স্থানে মাটি ফেলা হয়নি। বিভিন্ন স্থানে মাটির উঁচু ডিবি করেও রাখা হয়েছে। মাঠটি উপযোগী করতে যে পরিমাণ মাটি ফেলার কথা তা ফেলা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন ক্রীড়া সংগঠকরা। তবে কাজের মান ও পরিমাণ মতো মাটি ফেলা নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তদ্বির করছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ। সর্বশেষ গত সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এ নিয়ে মৌখিক অভিযোগও করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামীম আহসান।
এদিকে কেন কাজ বন্ধ হলো, এর কোন উত্তর জানা নেই এই কাজের দায়িত্বে থাকা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকল্প প্রকৌশলী মো. আওলাদ হোসেনের। তিনি জানান, কাজ বন্ধ আছে এটা জানি। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতষ্ঠান কেন কাজ বন্ধ করেছে সেটা জানি না। তবে খুব শিগগিরই তারা কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আনিকা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আশরাফুর রহমান কাজল। তিনি বলেন, মাঠ তৈরি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। মাঠ লেভেল করার জন্য যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন, বৃষ্টির প্রয়োজন। এ জন্য কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। পানির পাম্প দিয়ে মাঠ ভিজিয়ে পুনরায় খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও অন্য ক্রীড়া সংগঠকরা কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও তিনি বলেন, যে পরিমাণ মাটি দেয়ার কথা, সে পরিমাণ মাটিই দেয়া হবে। কাজ শেষ হলে মাঠটি অত্যন্ত সুন্দর হয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ