শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

সাতক্ষীরায় মহাসড়কের দৈন্যদশা ২০ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে

আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা জেলার বেশিরভাগ সড়কের বেহাল দশা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও মহাসড়কগুলোর একটিও ভালো অবস্থায় নেই। মারণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতে রাস্তার ওপর পানি জমে থাকা ও ঠিকাদারি কাজে অনিয়মের কারণে বছরের অধিকাংশ সময় সড়ক-মহাসড়কগুলোর অবস্থা বেহাল থাকে। এতে জেলার প্রায় ২০ লাখ লোক চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

 বিশেষ করে ঢাকার সাথে যোগযোগের প্রধান সড়ক সাতক্ষীরা শহরের কদমতলা হতে বাকাল স্কুল পর্যন্ত সড়ক চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের পীচ উঠে খানা খন্দকে ভরে গেছে। একটু বর্ষাতেই পানি আর কাদা মাটিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে সড়কটি। ভোগান্তিতে পড়ছে ঐ সড়কে যাতায়াতকারী পথচারী ও যানবাহন চালকরা। ব্যস্ততম সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী ও যানবাহন চলাচল করলেও সড়ক সংস্কারে কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট দফতরের।   কিছু জায়গায় কাদামাটি পানি শুকিয়ে ধুলায় পরিনত হয়েছে। যানবাহনগুলো ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। অত্যন্ত কষ্টে শহরবাসীকে চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কে কিছু কিছু গর্তে বালি ইট দিয়ে সংস্কারের চেষ্টা করা হলেও কোন উপকার আসছে না পথচারীদের ফলে সরকারের টাকা যেমন অপচয় হচ্ছে তেমনি লাভবানও হচ্ছে সড়ক বিভাগের কিছু কর্মকর্তা।  

জানা যায়, সাতক্ষীরা-খুলনা ও সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কসহ পৌর এলাকা এবং বিভিন্ন উপজেলার সড়ক-মহাসড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে যান চলাচলে একেবারেই অনপযোগী হয়ে পড়েছে। কোনও কোনও সড়কের কার্পেটিং, ঝিল ও পাথর উঠে, বৃষ্টির পানিতে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কের মধ্যে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর থেকে খুলনা এবং সাতক্ষীরা থেকে যশোর মহাসড়ক অন্যতম। ভোমরা স্থলবন্দর থেকে পণ্যবাহী ট্রাকসহ হাজার হাজার বাস-ট্রাক-পিক আপ চলাচল করে এ মহাসড়কে। বর্তমানে যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে।  নির্মাণের ছয় মাস যেতে না যেতেই সাতক্ষীরা শহর থেকে মেডিক্যাল কলেজ, নিউমার্কেট থেকে চায়না-বাংলা মোড়, হাসপাতাল মোড়, বাস টার্মিনাল ও বিজিবি হেড কোয়ার্টার্স হয়ে তালতলা পর্যন্ত ৭ কি.মি. রাস্তা যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।   এছাড়া সাতক্ষীরা-আশাশুনী সড়কের ২২ কিলোমিটারের অধিকাংশ চলাচলের অনুপযোগী, সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে ৬৪ কিলোমিটার সড়কেরও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছয় মাস আগে নির্মাণকৃত এ মহাসড়কটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মূল কারণ ঠিকাদারদের দুর্নীতি। রাজনীতিবিদ ও সরকারী কর্মকর্তাদের কমিশন দিতে দিতে গিয়ে ঠিকাদারদের যথাযতভাবে কাজ করা সম্ভব হয় না বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার জানান। সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী  মহাসড়কের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে জানান,  দ্রুত সম্ভব ভাঙা রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ