শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

“বাবুল আক্তার মিশন থেকে তিনবার এসেছিল ॥ মিতুর সঙ্গে দেখা করেনি” 

নুরুল আমিন মিন্টু ,চট্টগ্রাম অফিস : বাবুল আক্তার মিশন থেকে তিনবার এসেছিল। সরাসরি মাগুরায় নিজের বাড়িতে গিয়েছিল। তবে চট্টগ্রামে এসে মিতুর সঙ্গে দেখা করেনি। বুধবার দুপুরে সিএমপির সদর দফতরে মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদারক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব কথা বলেছেন নিহত এসআই আকরাম হোসেনের বোন জান্নাত আরা পারভীন রিনি। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তার ভাগ্নি মুর্শিদা জাহান ডলি।

মামলার তদারক কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো.কামরুজ্জামানকে রিনি বলেন, সাবেক এসপি বাবুল আক্তার এবং নিহত এসআই আকরাম হোসেনের স্ত্রী বনানী বিনতে বর্ণিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই মাহমুদা খানম মিতু হত্যার রহস্য জানা যাবে। তদারক কর্মকর্তা তার বক্তব্য আমলে নিয়ে প্রয়োজনে বর্ণিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন।

তদারক কর্মকর্তার কাছ থেকে বেরিয়ে রিনি সাংবাদিকদের বলেন, বনানী বিনতে বর্ণির সঙ্গে বাবুল আক্তারের পরকীয়ার জন্য প্রথমে আমার ভাইকে হত্যা করা হয় এবং পরে মিতুকে হত্যা করা হয়। বাবুল আক্তার এবং বর্ণিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আকরাম ও মিতু হত্যার বিষয়ে সব তথ্য জানা যাবে, এটা আমরা তদারক কর্মকর্তাকে বলেছি। উনি বলেছেন সব তথ্য উনি দেখবেন এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

রিনি বলেন, আমি বলেছি, আমার ভাই এসআই আকরাম এবং মিতু হত্যা একই উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে করা এবং পরকীয়ার কারণে এই হত্যা। আমরা কিছু তথ্য দিয়ে গেলাম, লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং মুখেও বলেছি।

তবে এডিসি কামরুজ্জামান জানান, তিনি লিখিত কোন অভিযোগ পাননি। শুধুমাত্র আকরামের বোন ঝিনাইদহে যে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন তার একটি কপি জমা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে আকরামের পাঁচ বোন অভিযোগ করেন, তাদের ভাইয়ের স্ত্রী ঝিনাইদহের মেয়ে বনানী বিনতে বর্ণির সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পর্ক ছিল। তাদের দাবি, সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর আকরামকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাবুল আক্তার ও বর্ণি। এ কারণে আকরামকে যমুনা সেতু হয়ে ঝিনাইদহ আসার পরামর্শ দেয় বর্ণি। পথে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। পরে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বড়দাহ থেকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আকরামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর ও পরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ঢাকায় চিকিৎসা নিয়ে আকরামের অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল, কিন্তু বর্ণি স্যুপে বিষ মিশিয়ে খাওয়ালে ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি আকরাম মারা যান।

তবে আকরাম হত্যার সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার তথ্য নাকচ করে বাবুল আক্তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছিলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত ছিলেন।

রিনির দাবি, বাবুল আক্তার মিশন থেকে তিনবার এসেছিল। সরাসরি মাগুরায় নিজের বাড়িতে গিয়েছিল। তবে চট্টগ্রামে এসে মিতুর সঙ্গে দেখা করেনি।

রিনি জানান, মিশন থেকে দেশে এসে মাগুরা এবং ঢাকায় ছিল। বর্ণিকে সাথে করে নিয়ে আমরা যাতে মামলা না করতে পারি, সেজন্য কাজ করেন। তারপর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাল্টে দেয়।

বাবুল আক্তার মিতু খুনের সঙ্গে জড়িত, এই সন্দেহ আরও জোরদার করতে আকরামের ভাগ্নি ডলি বলেন, যখন এস আই আকরাম হোসেনকে হত্যা করা হলো, তখন মিতুকে হত্যা না করলে তো বাবুল আক্তার এবং বর্ণি এক হতে পারবে না। সুতরাং আকরাম এবং মিতু হত্যা তাদের পূর্বপরিকল্পতই ছিল। ডলি বলেন, অন্য কেউ যদি মিতুকে হত্যা করত, তাহলে তার ছেলেকেও তো খুন করার কথা ছিল। তাহলে শুধুমাত্র বাবুলের স্ত্রীকে কেন মারল ?

আকরাম মারা যাবার পর আদালতে দায়ের করা মামলায় বাবুল আক্তারের নাম দিতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন রিনি। তবে ঝিনাইদহের তৎকালীন এসপি আলতাফ হোসেনের চাপে নাম দিতে পারেননি বলে দাবি তার।

মিতু হত্যার ১০ মাস পর কেন এই অভিযোগ তোলা হলো, জানতে চাইলে রিনি বলেন, আমরা মিতুর বাবা-মার সঙ্গে যোগাযোগ করে সবকিছু জানাতে চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু মিতুর বাবা-মাও প্রথমে ভুল বুঝে বাবুল আক্তারের পক্ষে কথা বলে ফেললেন, সেজন্য যেতে পারিনি। কিন্তু পরে যখন উনারাও পরকীয়ার কথাটা বললেন তখন আমরা গেলাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ