শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

ডিএসসিসির ৯ মার্কেটের ১১ ভবনে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে দুই হাজার ৩৫১ দোকান

তোফাজ্জল হোসেন কামাল: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৯টি মার্কেটের ১১টি ভবনে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে দুই হাজার ৩৫১টি দোকান । এসব অবৈধ দোকান নানা জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়ালে তা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগ। সিদ্ধান্তের পর বীরদর্পে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি দোকান উচ্ছেদও করা হয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদের শুরুর দিন থেকে নানা তদবিরের চাপে কিছুদিন যেতে না যেতেই অভিযান বন্ধ করে দিয়েছে ডিএসসিসি। নানা তদবির আর পদস্থদের চাপের সুযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনৈতিক স্বার্থ হাসিলের মওকা সামনে এসে পড়ার কারণেই ওই উচ্ছেদ অভিযান মাঝপথে থেমে গেছে বলে খোদ সংস্থার সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের অভিযোগ ।

জানা গেছে, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৯টি মার্কেটের ১১টি ভবনে দুই হাজার ৩৫১টি দোকান গড়ে উঠেছে। এসব ভবনের কার পার্কিংয়ের জায়গায় অবৈধভাবে ১৬৩৫টি দোকান বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশি আরও ৭১৫টি দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট দফতরের সহযোগিতায় প্রভাবশালীরা মার্কেটের কার পার্কিংয়ের জায়গায় দোকানগুলো নির্মাণ করেছে। অভৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব দোকান ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে কয়েকটি দোকান উচ্ছেদ করে অভিযান বন্ধ রেখেছে সংস্থাটি।

সিটি কর্পোরেশনের আইন অনুযায়ী কার পার্কিংয়ের জায়গা দোকান বরাদ্দের কোনো সুযোগ নেই। বিগত সময়ের মেয়র ও প্রশাসকদের আমলে এসব অবৈধ দোকান নির্মানের ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাকের ডগায় ঘটলে নতুন মেয়র আসার পর এসব অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধেই কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ডিএসসিসির মালিকানাধীন ৯টি দোকানের কার পার্কিংয়ের জায়গায় কর্পোরেশনের রাজস্ব ও সম্পত্তি বিভাগ থেকে সর্বমোট দুই হাজার ৩৫১টি দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-১ এ ৬৮টি, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ এ ৫৩১টি, পল্টন শপিং কমপ্লেক্সে ১৯টি, আহসান মঞ্চিল (নবাব বাড়ি) সুপার মার্কেট ১৪৯টি, সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটে ২৩০টি, ঢাকা ট্রেড সেন্টারে ৩৪১টি দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অননুমোদিতভাবে কাপ্তান বাজার কমপ্লেক্সে-১ এ ৩৫০টি এবং কমপ্লেক্সে-২ এ ৩৬৬টি দোকান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে রাজস্ব বিভাগ থেকে স্থায়ীভাবে ২৩৬টি এবং অস্থায়ীভাবে ৭৯৭টি দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে সম্পত্তি বিভাগ থেকে স্থায়ীভাবে কোনো দোকান বরাদ্দ দেয়া না হলেও অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬০২টি দোকান। এ ছাড়া এসব মার্কেটে অননুমোদিতভাবে গড়ে উঠেছে আরও ৭১৬টি দোকান। সবমিলিয়ে দুই হাজার ৩৫১টি অবৈধ দোকান রয়েছে এসব মার্কেটে।

সম্প্রতি এসব অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে কয়েকটি দোকান উচ্ছেদও করে। অল্পকয়েকটি দোকান উচ্ছেদের পরপরই তা থেমে যায়। এর পেছনে কর্পোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৌখিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সম্পত্তি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, আমরা বারবার উচ্ছেদের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রস্তুতিও নিয়েছি। কিন্তু আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, অনুমতি ছাড়া যেন উচ্ছেদে না যাই। তারা নিষেধ করেছেন। তাই আমরা আপাতত উচ্ছেদে যাচ্ছি না।

গত বছরের ডিসেম্বরে কর্পোরেশনের মালিকানাধিন নগরীর সড়কের পাশের মার্কেটগুলোর কার পার্কিংয়ের জায়গায় কী পরিমাণ অবৈধ দোকান রয়েছে তার তালিকা চেয়ে আদালতে একটি রিট করা হয়। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২ মার্চ সম্পত্তি কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে সিটি কর্পোরেশন। কমিটি অবৈধ দোকানের তালিকা তৈরি করে প্রতিবেদন দাখিল করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯টি মার্কেটের ১১টি ভবনে দুই হাজার ৩৫১টি অবৈধ দোকান কার পার্কিংয়ের স্থানে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এর মধ্যে স্থায়ী বরাদ্দকৃত ২৩৬টি এবং অবস্থায়ী বরাদ্দকৃত এক হাজার ৩৯৯টি দোকান বাতিল করে উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। এছাড়া অননুমোদিতভাবে নির্মিত আরও ৭১৬টি দোকান দ্রুত উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়। এরপর সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দোকানগুলো উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। 

এ বিষয়ে জানতে গতকাল বুধবার বিকেলে সংস্থার প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তার ফোনের সংযোগ পাওয়া যায়নি। ওই শাখার অন্যদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারাও মুখ খুলতে নারাজ। শুধু এটুকু বলেছেন ‘অবৈধ দোকানের বিষয়ে বলা যাবে না । আপনারা যা জানেন, আমরাও তা জানি। শীর্ষ পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আছে। বাকিটা বুঝে নিন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ