শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

সীতাকুণ্ডে ২ জঙ্গি আস্তানার সন্ধান ॥ নারীসহ আটক ২ 

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : সীতাকুণ্ড পৌরসদরের নামার বাজার ও কলেজ রোডস্থ চৌধুরীপাড়া এলাকায় দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে নামার বাজার এলাকার সাধন কুঠিরের জঙ্গি আস্তানা থেকে নারীসহ দুই জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকরা দুই জঙ্গি হলেন,জসিম উদ্দিন ও আকলিমা আক্তার। তাদের দু’জনের বাড়ি কক্সবাজার জেলায়। অন্যদিকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌরসদরের কলেজ রোডস্থ চৌধুরী পাড়া এলাকার ছায়ানীড়ের জঙ্গি আস্তানাকে ঘিরে অব্যাহত ছিল পুলিশি অভিযান। চট্টগ্রাম ও সীতাকুণ্ড থানার দুই শতাধিক পুলিশ এবং র‌্যাবের সদস্যরা জঙ্গি আস্তানার চারপাশ ঘেরাও করে রাখলেও এখনো কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। অভিযানের সময় পুলিশ জঙ্গি আস্তানায় প্রবেশের চেষ্টাকালে জঙ্গিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে হাত বোমা ও গ্রেনেড ছুঁড়ে মারেন। এতে জঙ্গিদের ছোঁড়া বোমায় সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হক ও ডিবি পুলিশের ওসি সাইফুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়।

এদিকে জঙ্গি আস্তানার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক সামছুল আরেফিন,চট্টগ্রাম জেলার ডিআইজি শফিকুল ইসলাম,এডিশনাল ডিআইজি শাখাওয়াত,চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ নুরে আলম মিনা। এছাড়া সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইফতেখার হাসানসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন সিএমপি’র বিস্ফোরক নিস্ক্রিয়করণ ইউনিট।

জানা যায়, সাধন কুটির ভবনটির মালিক সুভাষ নামে এক ব্যক্তি। বেশ কিছুদিন আগে তিনি জামালপুরে বেড়াতে যান। এর ফাঁকে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী এসে বাসা ভাড়া চাইলে সুভাষের স্ত্রী তাদের দ্বিতল ভবনটির নিচতলার বাসা ভাড়া দেন। মঙ্গলবার রাতে ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম পূরণের জন্য তাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি চান সুভাষের স্ত্রী। এ কথা শুনে রাতেই পুরুষদের দুইজন পালিয়ে যায়। বুধবার দুপুরে আবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি চাইলে বাসায় থাকা এক নারী ও পুরুষ বাড়িওয়ালীকে একটি কাগজ ধরিয়ে দেন। সুভাষদের পাশের বাসায় থাকেন সাগর নামে এক যুবক। তিনি কম্পিউটারের ব্যবসা করেন। সাগরের কাছে কাগজটি নিয়ে গেলে কম্পিউটারে চেক করার পর সেটি যে ভুয়া তা ধরা পড়ে। সাথে সাথে নিচতলার বাসায় গিয়ে দুই জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন সুভাষের স্ত্রী ও সাগর। এ সময় তারা অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করলে সাগর ও সুভাষের স্ত্রী নারীসহ দুই জঙ্গিকে আটকের চেষ্টা চালান। এতে নারী জঙ্গিটি সুভাষের স্ত্রীর হাতে কামড় দেয় ও পুরুষ জঙ্গির সঙ্গে ধস্তাধস্তির ফলে সাগরের শার্ট ছিঁড়ে যায়। শোরগোল শুনে আশপাশের মানুষ এসে জঙ্গিদের আটক করে ও পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে জঙ্গিদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এসময় জঙ্গিরা জানায় তারা আগে কলেজ রোডের ছায়ানীড় ভবনে ভাড়া ছিল।

এরপরই বিকেলে চৌধুরীপাড়ার ছায়ানীড় ভবনের নিচতলার একটি বাসায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে জঙ্গিরা হ্যান্ডগ্রেনেড ছোঁড়ে। এতে সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হক,ডিবি পুলিশের ওসি সাইফুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। এরপর পুলিশ সদস্যরা পিছু হটেন। বর্তমানে বাইরে থেকে পুরো ভবনটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

 ছায়ানীড় ভবনে অভিযানের ফলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জঙ্গি আস্তানার ভেতরে আটকা পড়েছে ৭/১০টি পরিবারের লোকজন। এতে আটকে পড়া নারী ও শিশুদের স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া উৎসুক জনতাও ভিড় করছেন। তবে পুলিশ সবাইকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিয়ে পুরো বাড়িটি ঘিরে রেখছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম বলেন,“আস্তানার ভেতরে অস্ত্র-গুলী, হ্যান্ডগ্রেনেড ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক রয়েছে। সীতাকুণ্ড থানার ও জেলার রিজার্ভ টিম অভিযানে যোগ দিয়েছে। সিএমপি থেকে বিস্ফোরক নিস্ক্রিয়করণ ইউনিট ও সোয়াত টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। ঘন্টাখানেক পড়ে মূল অভিযান শুরু হবে।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ