শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিপেটায় আহত অর্ধশতাধিক

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সিপিবি ও বাসদের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের অ্যাকশন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বামদলগুলোর জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিপেটা, রাবার বুলেট এবং জলকামান ব্যবহারে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আজ আবার বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। গতকাল বুধবার দুপুুর ১২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রফ্রন্ট শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অনিমেষ রায়, সদস্য অপু, কেন্দ্রীয় ছাত্র ফ্রন্টের সদস্য অর্ণব চক্রবর্তী। এছাড়া কেন্দ্রী ছাত্র ফ্রেন্টের অর্থ সম্পাদকসহ ৫০ জনের বেশি। আহতদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম, মাসুদ রানা, সুমাইয়া আক্তার, ফারজানা আক্তার, নুসরাত হক, রফিকুল ইসলাম, রায়হান জামান ও অনিমেষকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

প্রসঙ্গত, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি ছিল গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের। দুপুর ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দিকে যাওয়ার পথে পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে বামমোর্চা ও বাসদ কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। 

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, সিপিবি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ তাদের কর্মসূচি শুরু করে। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিলসহকারে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। ব্যারিকেড উপেক্ষা করে তারা মিছিল নিয়ে যেতে গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এরপর সিপিবি ও বাসদের কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। 

এ সময় আন্দোলনকারীদের ইটপাটকেলের জবাবে পুলিশ রাবার বুলেট এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের হটাতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। পরে আন্দোলনকারীরা আবার প্রেস ক্লাবের সামনে ফিরে আসে। এরপর আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তারা আবার সংগঠিত হয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে।

এর আগে মোর্চার সদস্যভুক্ত বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী জাতীয় প্রেস ক্লাবে জড়ো হয়। বেলা ১২টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও করতে যায়। তাদের বাধা দিতে প্রেস ক্লাবের পাশেই সচিবালয়ের প্রথম গেটে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল পুলিশ।

মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি গণসংহতির প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি বলেন, পুলিশ সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে আমাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে লাঠিপেটা করেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সরকার এখন জনগণের পকেট মারার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশের লাঠিপেটা ও টিয়ারশেল নিক্ষেপে তাদের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় অনেককে আটকও করা হয়েছে বলে দাবি তার।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদ সাংবাদিকদের জানান, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষের পক্ষে কর্মসূচি দেয়া হয়েছিল। কর্মসূচি বাস্তবায়নে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে পুলিশ চড়াও হয়। এ ঘটনায় অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, তারা জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও করতে গেলে ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মী ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশ তাদের ওপর টিয়ার গ্যাসের শেল, জলকামান ব্যবহার করে। 

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কর্মী নিশান বলেন, পুলিশের মারধরে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় প্রেস ক্লাবসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। 

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (প্যাট্টল) শেখ আবুল বাশার বলেন, সমাবেশকারীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের ওপর জলকামান ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

এদিকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশী হামলার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার আবারো কর্মসূচি ডাকা হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে সাংবাদিকদের কাছে আজ বৃহস্পতিবার ফের কর্মসূচি পালনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি।

সাকি বলেন, এই বিক্ষোভ কর্মসূচি আমরা শান্তিপূর্ণভাবে করছি। বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে উচিত ছিল জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে কেউ আসা। তারাতো সেটা করেইনি, আপনারা সকলে দেখেছেন কিভাবে পুলিশ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ, রাবার বুলেট, জলকামান, শেষ পর্যন্ত গুলীও করা শুরু করে। এই হামলার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ডাকা হয়েছে।

জুনায়েদ সাকি আরো বলেন, আমরা মাসব্যাপী জনসংযোগ কর্মসূচি দিয়েছি। আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত জনসংযোগ হবে। ১৫ এপ্রিল আমরা ঢাকায় গণঅবস্থান করবো। এরপরেও যদি সরকার এই সিদ্ধান্ত বাতিল না করে তাহলে আমরা দেশব্যাপী হরতালসহ আরো বৃহৎ কর্মসূচি দিবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ