শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বৃক্ষরাজি জীববৈচিত্রে স্বয়ং সম্পূর্ণ সম্ভাবনাময় জাতীয় উদ্যান উখিয়ার ইনানী বন

কমরুদ্দিন মুকুল, উখিয়া (কক্সবাজার) : পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ঘেষে বেড়ে উঠা ইনানীর ১০ হাজার হেক্টর বনভূমিকে প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় উদ্যান ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বৃক্ষারাজি, উদ্ভিদ বন্যপশু প্রাণীর অবাদ বিচরণ পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো বহুগুণে গুণান্বিত এ বনভূমি। দীর্ঘ ৯ বছরেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বনভূমিকে কেন জাতীয় উদ্যানে উন্নীত করছে না তা নিয়ে পরিবেশবাদী সচেতন মহলের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নিরুৎসাহ হয়ে পড়েছে রক্ষিত বনাঞ্চল সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মী ও নেতৃবৃন্দরা।
ইনানী রক্ষিত বনাঞ্চল সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা যায়, “বন বাচাঁয় আমাদেরকে, আমরা বাঁচাবো বনকে” এ স্লোগানকে সামনে রেখে বন বিভাগ, বেসরকারি এনজিও সংস্থা শেড ও আরণ্যক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় বন নির্ভর বিশাল জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে ২০০৯ সালে ইনানীর ১০ হাজার হেক্টর অরক্ষিত বনে বঙ্গবন্ধু জাতীয় উদ্যান বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন।
ইনানী বন রক্ষা সহায়ক কমিটির ফিল্ড সুপার ভাইজার আবু সারওয়ার জানান, জাতীয় উদ্যান বাস্তবায়ন নীতিমালা অনুযায়ী এ বনে ৩১৭টি উদ্ভিদ প্রজাতি, ৩১৬টি প্রাণী প্রজাতি, ১৫০ ধরনের ওষুধি গাছ, ২৭ প্রজাতির ফলবান বৃক্ষ, ৬ প্রজাতির বাঁশ, ৪ প্রজাতির বেত ছাড়াও অসংখ্যা বিপদাপন্ন হাতি, উলুক, বানর, ভালূক, বন্য শুকর, হরিণ, সাপ, বন কুকুরে নিরাপদ আবাস স্থল এ ইনানীর বন। আরণ্যক ফাউন্ডেশন প্রকল্পের কারিগরি দিক নির্দেশনা ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ উন্নয়নে দায়িত্ব পালন করছে ইনানীর বনে। বেসরকারি এনজিও সংস্থা শেড ও বন বিভাগ মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ করছে ৯ বছর ধরে।
ইনানী বন রক্ষা পাহারাদার দলের সদস্য সোনা মিয়া জানায়, সে আগে বন্য পশুপ্রাণী শিকার করে তা বিক্রি করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। ইনানী বন পাহারা দলের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সে এখন বন্য পশুপ্রাণী সংরক্ষণ করছে দাবী করে বলেন, এ পর্যন্ত সে প্রায় আড়াই হাজার বিভিন্ন ধরনের সাপ, বানরসহ বিভিন্ন জীববৈচিত্র সংগৃহিত ইনানীর বনে ছেড়ে দিয়েছে। এজন্য তাকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সমন্বয়কারী আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। ইনানী বন রক্ষা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয়কারী শাহাদত হোসেন জানান, ইনানীর বন  নির্ভর ১৪৩ জন নারী, ১০৫ জন পুরুষ সহ মোট ২৪৮ জন সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা ও বন উন্নয়ন বিষয়ে একাধিকবার প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বিকল্প জীবিকায়ন সৃষ্টির লক্ষ্যে ৭৪৮ জন পুরুষ, ১১৫৭ জন নারী সহ ১৯০৫ জন বন নির্ভর ব্যক্তিকে শাক-সবজ্বি চাষ, বাস্তভিটায় কৃষি বনায়ন, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি লালন পালন, মাছ চাষ ও কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব সদস্যদের মাসিক সঞ্চয়ে উদ্ভুদ্ধ করে এককালীন ৩৪ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
ইনানী বন রক্ষা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম হোসেন জানান, তার জানা মতে ২০০৮ সালের দিকে ইনানীর বন সম্পদ শূণ্যের কোটায় উপনীত হয়েছিল। জাতীয় উদ্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরণ্যক ফাউন্ডেশন ও শেড যৌথ ভাবে কাজ করায় ইনানীর বনে ৮০ শতাংশ উন্নয়ন হয়েছে সার্বিক ভাবে। তিনি বলেন, ইনানীর ১০ হাজার হেক্টর বনকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় উদ্যানে স্বীকৃতি দেওয়া হলে পর্যটন খাতে সরকারের প্রচুর পরিমাণ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে। কর্মসংস্থান হবে অসংখ্য বেকার ছেলে মেয়ের।
ইনানী রক্ষিত বনাঞ্চল সহ-ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ডক্টর মহি উদ্দিন ২০১৬ সালের মার্চে ইনানীর বন পরির্দশন করে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন, অচিরেই এ বনকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় উদ্যান হিসাবে ঘোষনা করা হবে। এ পর্যন্তও কেন ঘোষণা আসেনি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন বিভাগীয় কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারা ইনানীর বনে জাতীয় উদ্যান বাস্তবায়ন হউক তা চায় না। কেননা বছর বছর বন বাগান সৃজনের নামে মোটা অংকের বরাদ্ধের টাকা তারা লুটপাট করতে পারবে না। পাশাপাশি সামাজিক বনায়ন নামে বনভূমি বেচা বিক্রি করা যাবে না। এজন্য একটি মহল জাতীয় উদ্যান বাস্তবায়নের বিপক্ষে কাজ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ