বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ভিয়েতনামে উৎপাদিত উন্নতজাতের চারায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নারকেলের আবাদ

খুলনা: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভিয়েতনামে উৎপাদিত উন্নতজাতের চারায় নারকেল বাগান

খুলনা অফিস : ভিয়েতনামে উৎপাদিত উন্নতজাতের চারায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলায় নারকেলের আবাদ করা হয়েছে। অধিক ফলনের আশায় কৃষি সম্প্রসারণের উৎসাহ-উদ্দীপনায় দু’ বছর আগে এ অঞ্চলের চাষিরা এ আবাদ করেছে। উপকূলের মাটি, পানি ও আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে বেড়ে উঠছে ভিনদেশি নারকেলের জাত। চার হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার সকল উপজেলায়। এক বছর পর ফলন ধরা শুরু হবে। একটি গাছ থেকে বছরে ফলন হবে ২শ’টি। যা দেশি জাতের তুলনায় চারগুণ।
অধিক উৎপাদনের আশায় বাড়ির আঙ্গিনায় উঁচু জায়গায় ভিয়েতনামে উৎপাদিত নারকেলের চারা রোপণ করেছে দিঘলিয়ার সেনহাটি গ্রামের সার্জেন্ট ইলিয়াস তালুকদার, নাসিমা সুলতানা, মো. শামীম, ফুলতলা উপজেলার গাড়াখোলা গ্রামের আকরাম গাজী, ধোপাখোলা গ্রামের রবিউল ইসলাম, খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি গ্রামের প্রশান্ত বিশ্বাস, বটিয়াঘাটা উপজেলার রমেন গাইন, দৌলতপুরের মো. হাবিব, বাগেরহাটের কচুয়ার শিশির দাসসহ সহ¯্রাধিক কৃষক।
সূত্র জানান, ‘সিয়াম গ্রীন কোকোনাট’ নামক এ জাতটি ২০০৫ সালে ভিয়েতনামে উদ্ভাবন হয়। সমুদ্র পথে ২০১৫ সালে এ দেশে আমদানি হয়। হলুদ রঙের এ নারকেলের ওজন আনুমানিক দেড় কেজি। প্রতিটি গাছ থেকে বছরে দেড় থেকে ২শ’ ফলন হবে। চারা রোপণের তিন বছরের মাথায় ফলন দিতে শুরু হয়। প্রতিটি গাছের জন্য ৪০ কেজি পচা গোবর, ১০ কেজি ছাই, দু’কেজি করে কেঁচো সার, হাড়ের গুঁড়ো, ৬শ’ গ্রাম করে ইউরিয়া, এমওপি, ৩শ’ গ্রাম টিএসপি, ১শ’ গ্রাম জিপসাম ও ৫০ গ্রাম ব্রোন, ৫০ গ্রাম ফুরাডান প্রয়োজন হবে। চারা রোপণের তিন মাস পর পর সার প্রয়োগ করতে হয়।
খুলনার দৌলতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যান তত্ত্ববিদ মো. শাহীন ইসলাম বলেন, নতুন জাতের নারকেলের চারা সরাসরি ভিয়েতনাম থেকে জাহাজে করে দেশে আনা হয়। ২০১৫ সালে প্রথম দফায় খুলনার চার জেলায় ১ হাজার ৮শ’ এবং ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে আরও ২ হাজার ৭শ’ চারা আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যেই চার হাজার চারা বিক্রি হয়েছে। বাকি ৮শ’ চারা হর্টিকালচার সেন্টারে রয়েছে। প্রতিটি চারার মূল্য ৫শ’ টাকা। এ জাতের চারা প্রথম রোপণ করায় গাছে ফল না আসা পর্যন্ত এর বাস্তব সুফল জানতে আরও দু’ বছর অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান তিনি।
সেন্টারের উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, কৃষকরা এ জাতের চারা রোপণের পর উপজেলা পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা মনিটরিং করেন। এর আগে চারা রোপণের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী পরিচর্যা সম্পর্কে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
চাষি ফুলতলা উপজেলার গাড়াখোলা গ্রামের আকরাম গাজী ছয় মাস আগে বাড়ির আঙ্গিনায় পাঁচটি চারা রোপণ করেছেন। প্রয়োজনীয় সার ব্যবহার করায় গাছগুলো বাড়ছে দ্রুত। তিনি আশাবাদি আর ১৯ মাস পর থেকে ফল পাবেন। কৃষি বিভাগের আশার চেয়ে তার প্রত্যাশা বেশি, ফলনে। তিনি বছরে ২শ’ করে ফলন পাবেন বলে আশাবাদি। তার ক্ষেতখামারে ৩২টি সৌদি খেজুর গাছ ও ৪৫টি ড্রাগনের চারা রোপণ করেছেন। দিঘলিয়ার সেনহাটি গ্রামের চাষি সার্জেন্ট ইলিয়াস তালুকদার জানান, দু’ মাস আগে একটি নারকেলের চারা রোপণ করেছেন। নতুন করে পাতা গজিয়েছে। তিনি আশাবাদি, দেশীয় নারকেলের তুলনায় অনেক বেশি ফলন পাবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ