বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জলাঞ্জলি দেয়ার জন্যে নেদারল্যান্ড দায়ী -এরদোগান

১৩ মার্চ, সিএনএন : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান তুরস্ক এবং নেদারল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ‘জলাঞ্জলি’ দেয়ার জন্য নেদারল্যান্ডকে দায়ী করে বলেন, ‘আপনাদেরকেই এর মূল্য দিতে হবে।’
ওলন্দাজ-তুরস্কের সম্পর্কের মধ্যে তিক্ততার সর্বশেষ ঘটনা এরদোগানের এই বক্তব্য। এর আগে অবশ্য ডেনমার্ক তুরস্কের সাথে গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক বাতিল করে।
এই দুদেশের মধ্যকার তিক্ততার সূত্রপাত ঘটে শনিবার, যখন তুরস্কের পরিবার বিষয়ক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সাইয়ান কায়াকে রটেরডামে তুরস্কের কনস্যুলেটে ঢুকতে পুলিশ বাধা দেয়। এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী একটি বিমানকে সেদেশে নামতে দেয়নি ওলন্দাজ কর্তৃপক্ষ।
এসব ঘটনার কারণে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, নেদারল্যান্ড ফ্যাসিবাদের ঘাঁটি।
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আরো বাড়াতে আগামী মাসে সংবিধান সংশোধনের ওপর গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে। ওই প্রস্তাবের পক্ষে তুর্কী মন্ত্রীরা এখন ইউরোপে বসবাসরত তুর্কিদের মধ্যে প্রচারণা চালাছেন। তারই অংশ হিসাবে নেদারল্যান্ডের কনস্যুলেটে যেতে চেয়েছিলেন তুরস্কের পরিবার বিষয়ক মন্ত্রী।
এর আগে একই ধরণের সমাবেশ নিষিদ্ধ করে অস্ট্রিয়া, জার্মানি আর সুইজারল্যান্ড। এই ঘটনার পর তুরস্কের সঙ্গে নেদারল্যান্ডের তিক্ততার মাত্রা বেড়ে গেছে। প্রতিবাদ জানাতে কয়েকশ তুর্কি রটেরডামে টার্কিশ কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ করেছে।
অন্যদিকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আঙ্কারা আর ইস্তাম্বুলে ওলন্দাজ দূতাবাসে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। ওলন্দাজদের নাৎসিদের অবশিষ্ট আর উগ্রবাদী বলে মন্তব্য করেছন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। তিনি হুমকি দিয়েছেন যে, পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে তুরস্কে ওলন্দাজ বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।
তুরস্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ইইউ নেতারা : ইউরোপীয় দেশগুলোতে তুরস্ক সরকারের সমাবেশ করার চেষ্টা নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যে দেশটির তীব্র সমালোচনা করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন নেদারল্যান্ডস, জার্মানিসহ কয়েকটি ইইউ দেশের নেতারা।
গণভোটের প্রচার সমাবেশ করতে না দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ান জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডসকে নাৎসীদের অবশিষ্টাংস এবং ফ্যাসিস্ট বলে মন্তব্য করেছেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে বলেছেন, “এমন মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না।” ডাচদেরকে নাৎসীবাদী বলায় গত রোববার এরদোয়ানের কাছ থেকে ক্ষমাও দাবি করেছেন তিনি।
ডাচ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এদেশ নাৎসীদের বোমা হামলা শিকার হয়েছে। ফলে তুরস্কের ওই মন্তব্য কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তুরস্ক একই পথে চলতে থাকলে নেদারল্যান্ডস পাল্টা জবাব দেওয়ার কথা ভাববে বলে জানান তিনি।
ওদিকে, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “তুরস্কের কা-জ্ঞান ফিরে আসা উচিত।” জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জার্মানিতে তুরস্কের রাজনৈতিক প্রচারাভিযানের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, “জার্মানিতে তুরস্কের প্রচার চালানোর কোনও প্রয়োজন নেই।”
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক পিছিয়েছে ডেনমার্কও। ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেছেন, “তুরস্কে গণতান্ত্রিক নীতি ব্যাপক চাপের মুখে আছে বলে তিনি উদ্বিগ্ন।”
বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাসমুসেন বলেন, “তুরস্ক সম্প্রতি হল্যান্ডের সমালোচনা করে যেসব কথা বলেছে, এর পর বৈঠকের বিষয়টিকে আর আলাদা করে দেখা যায় না।”
অন্যদিকে, ফ্রান্সের এক মন্ত্রীও বলেছেন, “তুরস্ক তাদের সঙ্গে আরও সহযোগিতার হাত বাড়ানোর ভিত্তিমূলই বিনষ্ট করেছে।”
ওদিকে, গণভোটের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে তুরস্ক এবং সুইডেনের মধ্যেও তিক্ততা তৈরি হযেেছ। তুরস্কের কৃষি মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীনে এরদোয়ানপন্থি একটি নির্ধারিত মিছিল সমাবেশ বাতিল করেছে স্টকহোম। সুইডেনের কয়েকজন নেতা তুরস্কের প্রচারণাকে উস্কানিমূলক আখ্যা দিয়েছেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ক্ষমতা আরও বাডাতে ১৬ এপ্রিলে সংবিধান সংশোধন নিয়ে গণভোট হওযার কথা রয়েছে। দেশের বাইরে বসবাস করে ৫৫ লাখ তুর্কি। এর মধ্যে জার্মানিতেই আছে ১৪ লাখ ভোটার। সেখানে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালালে অনেক ভোটারকেই দলে টানতে পারবে তুরস্ক।
এ কারণেই জার্মানিসহ অস্ট্রিয়া এবং নেদারল্যান্ডস যেখানে তুর্কিদের সংখ্যা বেশি সেসব দেশে একাধিক প্রচার সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে তুরস্ক। কিন্তু তুরস্ককে ‘না’ বলে দিয়েছে এ তিনটি দেশই। নিরাপত্তা উদ্বেগজনিত কারণ দেখিয়ে তারা তুরস্কের প্রচার সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ