শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মসুলে একটি গণকবরে ৬শ’ দেহাবশেষের সন্ধান ॥ জাদুঘর লুট করেছে আইএস

১৩ মার্চ, সিএনএন/ইনডিপেনডেন্ট : ইরাকে আইএস জঙ্গিদের ভয়াবহতার নিদর্শন পাওয়া গেছে। মসুলে বাদউস কারাগারের পাশে এক গণকবরে অন্তত ৬শ’ জনের দেহাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে। ইরাকি বাহিনীর বরাতে গত রোববার এ খবর জানানো হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনে মসুলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বন্দিদের মুক্তি দিচ্ছে আইএস জঙ্গিরা। আইএসের দখল থেকে পশ্চিম মসুল পুনঃরুদ্ধারে ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে অভিযান শুরু করে ইরাকি বাহিনী। এর মধ্যে মিলেছে বেশ কয়েকটি সফলতা। আইএসের দখল থেকে উদ্ধার হয়েছে মসুলের একটি বড় অংশ। তবে পালিয়ে যাওয়ার আগে অঞ্চলটিতে নিজেদের ধ্বংসজজ্ঞের চিহ্ন রেখে যাচ্ছে আইএস জঙ্গিরা।
চলতি সপ্তাহে ইরাকি বাহিনী অভিযান চালিয়ে পুনর্দখলে নেয়ার পরই গণকবরটি সন্ধান পাওয়া গেলো।
অন্যদিকে মসুলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা ‘পুরোপুরি’ আটকা পড়েছে। তারা মারা পড়বে বলে জানিয়েছেন আইএসবিরোধী জোটের অভিযানের সমন্বয়কারী মার্কিন দূত ব্রেট ম্যাকগার্ক।
মসুল থেকে বাইরে যাওয়ার শেষ পথটি ইরাকি বাহিনী বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় আইএস যোদ্ধারা ভেতরে আটকা পড়েছে বলে জানান তিনি।
ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম মসুল শহরটি ২০১৪ সাল থেকে আইএসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বাগদাদে গত রোববার ব্রেট ম্যাকগার্ক সাংবাদিকদের বলেন, “গত সপ্তাহের শেষ দিকে তুমুল লড়াই চলেছে। এর মধ্যে মাত্র গতরাতে নাইনথ ইরাকি আর্মি ডিভিশন মসুল থেকে বাইরে বেরোনোর শেষ পথটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “মসুলে কোনও আইএস যোদ্ধা থেকে গেলে তারা মারা পড়বে। কারণ তারা আটকা পড়েছে।”
“সুতরাং আমরা মসুলে কেবল আইএস কে হারাতেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নই, বরং তারা যাতে পালাতে না পারে সেটিও নিশ্চিত করা হবে।”
ইরাকি বাহিনী রোববার জানিয়েছে, পশ্চিম মসুলের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এলাকা এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। এদিকে ইরাকের মসুলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) লুটপাট আর ধ্বংসযজ্ঞে হারিয়ে গেছে অমূল্য প্রাচীন নিদর্শন। ইরাকের ফেডারেল পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইএস পুরাকীর্তি ভাঙার ভিডিও প্রকাশ করলেও এগুলোর বেশিরভাগই ছিল নকল এবং বহু পুরাকীর্তি ওই জঙ্গিরা দেশের বাইরে বিক্রি করেছে। যে বিশেষ স্থানগুলোতে প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে তাদের একটি ইরাক। আর এখানে যেসব ঐতিহাসিক স্থাপনা প্রথম ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়, সেগুলোর মধ্যে মসুলের জাদুঘর একটি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে, জাদুঘরে হওয়া বিস্ফোরণে মেঝেতে ছিদ্র হয়ে গেছে, দরজা ভেঙে ফেলা হয়েছে, ঘরে কোনও বস্তুই অক্ষত নেই। পুরাকীর্তি সাজিয়ে রাখার তাকগুলো সব খালি পড়ে আছে।
ওই জাদুঘর দখল করাটা ছিল আইএসের প্রতীকি বিজয়। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক ভিডিওতে সেখানকার অত্যন্ত সমৃদ্ধ এই জাদুঘরটিতে হাতুড়ি নিয়ে অমূল্য শিল্পকর্মগুলোকে এলোপাতাড়ি আঘাতে ভাঙতে দেখা যায় আইএস সদস্যদের।
ভিডিওতে এক আইএস সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘আল্লাহ এসব মূর্তি নিষিদ্ধ করেছেন। তাই এর দাম যত কোটি ডলারই হোক না কেন, আমাদের কাছে তা মূল্যহীন।’ তবে ইরাকের ফেডারেল পুলিশ ক্যাপ্টেন ফিরাস আব্বাস বলেন, ‘তাদের মূল লক্ষ্য ছিল জাদুঘরের ভল্টে যাওয়া। সেখানে অনেক অমূল্য নিদর্শন ছিল।’ ফিরাস আরও দাবি করেন, ‘ইরাকের বাইরে জাদুঘরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো বিক্রি করে দিয়েছে আইএস।’ যখন আইএস প্রথম ওই ভিডিও প্রকাশ করে তখন অনেকেই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। পরে তারা আবিস্কার করেন বেশিরভাগ ভাস্কর্যগুলো পাথরের ছিলোনা। বরং প্লাস্টারের ছিল।
মসুল দখলের আগে ২০১৪ সালে জাদুঘরের ২৪০০টি নিদর্শনের মধ্যে ১৭০০টি বাগদাদে সরানো হয়েছিল। তাই আইএসের ধ্বংস করা বেশির ভাগ প্রতœতাত্তি¦ক নিদর্শনই ছিল নকল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ