মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

সাঘাটার চরাঞ্চলে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলে একটি ভুট্টা ক্ষেত

গাইবান্ধা সংবাদদাতা: সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চল সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বৈরী আবহাওয়া না থাকায় এবার ভূট্টার ফলন অন্য বছরের তুলনায় বেশী হওয়ার আশাবাদী কৃষকরা। বহুমুখী ব্যবহারকে কাজে লাগাতে কৃষকরা এখন ভূট্টা চাষে ঝুঁকেছেন। গত কয়েক বছরে ভূট্টা চাষ করে লাভবান হওয়ায় এবার এর আবাদ বেশ বেড়েছে। গত বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গোবিন্দী চরের কৃষক মখলেছ মিয়ার ক্ষেতে ভূট্টা পরিপক্বতা এসেছে। একই ভাবে সারির পর সারির কৃষকদের আবাদকৃত ভূট্টার ক্ষেত সবুজ বর্ণ থেকে সোনালী বর্ণে রূপান্তরিত হচ্ছে। যমুনা নদীর চর এলাকায় কৃষকরা যে যেখানে একটু জায়গা পেয়েছে সেখানেই ভূট্টার আবাদ করেছেন। লাগানো ভূট্টার গাছে মুকুল এসেছে। চরের কৃষক হায়দার আলী জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ভূট্টা আবাদে খরচ পড়ে গড়ে ২ হাজার টাকা। উৎপাদন হয় প্রায় ২৫-৩০ মণ ভূট্টা। খরচ বাদে লাভ থাকে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। দিঘল কান্দি গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টার চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা আগামী মৌসুমে ভূট্টার চাষ আরও বেশী করবে। এতে অন্যান্য ফসলের চেয়ে ভূট্টা চাষ অনেকটাই লাভজনক বলে জানালেন কৃষকরা। এক সময় ভূট্টা আবাদ শুধু চরাঞ্চলেই হতো। এ আবাদে লাভজন হওয়ায় এখন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা ভূট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। তবে ভূট্টা বীজ সংগ্রহ করতে চাষিদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও কৃষি বিভাগের মাধ্যমে উন্নত মানের বীজ ও কীটনাশক সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। তাদের মতে, পর্যাপ্ত বীজ সংগ্রহ করা গেলে আরও অনেক বেশি জমিতে ভূট্টা চাষ করা যেত। গমের মতো ভূট্টা বাজারে বিক্রি ছাড়াও এর বিভিন্ন উপকারিতা রয়েছে। হাইব্রিড ভূট্টা গমের মতো আটা করে খাওয়া যায়। এর কান্ড থেকে ঝোলা গুড় তৈরি করা হয়। ভূট্টার কচি গাছ গো খাদ্য এবং হাঁস-মুরগি খামারের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। শুকনা গাছ জ্বালানী হিসেবে কাজে লাগানো যায়। উপজেলা কৃষি অফিসার একেএম মুবিনুজ্জামান জানান, কৃষকরা আগ্রহ ও উৎসাহী হওয়ায় চলতি মৌসুমে ৪৪০ হেক্টর জমিতে এবার ভূট্টা চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভূট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ