সোমবার ৩০ জানুয়ারি ২০২৩
Online Edition

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা  বৃদ্ধির দাবি প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাখ্যান

 

সংসদ রিপোর্টার : সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবি আবারও প্রত্যাখ্যান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চাকরির বয়স ৩০ বছর রয়েছে। ১৬ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে। মাস্টার্স পাস হতে ২৩ বছর লাগে। না হয় আরও এক দুই বছর বেশি লাগে। বিএনপির আমলে সেশন জোট ছিল। আমরা তো তা কমিয়ে এনেছি। বর্তমানে সেশন জোট নেই। সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। 

গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি করেন। 

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে দহরম-মহরম করে তাদের পাকিস্তান চলে যাওয়া ভালো। তারা চলে গেলে আমার বাবা বেহেস্তে আছেন তার আত্মা শান্তি পাবে, আমার মার আত্মা শান্তি পাবে। সকল শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে। ’

তিনি বলেন, পাকিস্তানীরা এ দেশের রাস্তাঘাট চিনত না তাদেরকে ওই রাজাকার-আলবদররা চিনিয়েছে। তারা বাঙ্গালিদের হত্যা করেছে। নারীদের রেপ করেছে। তাদের বিচার এদেশে হচ্ছে, আগামীতেও হবে। 

সংসদ নেতা বলেন, শেরপুরের একটি গ্রামের নাম সোহাগপুর, সে গ্রামের নাম হয়েছে বিধবাপুর। ওই গ্রামের মেয়েদেরকে রেপ করা হয়েছে। আলবদর-রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী তাদের ক্যাম্পে নিয়ে বাঙ্গালি নারীদের রেপ করত। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে কিছু দালালা আছে তাদের কথা শুনে আমার নিজের লজ্জা লাগে। এই দালালরা দেশের ইতিহাস বিক্রিত করে। 

জেড এ খানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তার চাকরি শেষের দিকে। আমার হাত দিয়ে মেজর জেনারেল হয়েছিল। তার একটি বইয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস বিক্রিত করা হয়েছে। সে বলেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নাকি ইন্ডিয়ার ‘র’ এর একটি চক্রান্ত। আমি এ মেজর জেনারেলকে বলতে চাই। বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে তিনি মেজর জেনারেল হতে পারতেন না। আমার হাতে আপনি মেজর জেনারেল হয়েছেন। 

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এ দেশে এখন মাথা চাড়া দেয়ার চেষ্টা করছে। আমাদেরে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ২৫ মার্চে এত বড় একটি গণহত্যা হয়েছে, এটা তারা অস্বীকার করে। তারা শহীদদের অস্বীকার করে। আরে ইয়াহিয়া খানই তো বলেছিলেন ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা কর, বাঙ্গালি ঠা-া হবে। বাংলাদেশ কি তার কথায় ঠা-া হয়েছিল। বরং ইয়াহিয়া খান কঠিনভাবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি চায় না বাংলাদেশ ভালভাবে চলুক। মাথা উঁচু করে দাড়াক এটা তারা চায় না। আমি চাই ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন হোক। আমি কিছু ফুটেজ এখানে দেখিয়েছি কিভাবে পকিস্তানীরা বাংলাদেশের উপর হামলা করেছে। এটা তো সামান্য ফুটেজ, পৃথিবীর অনেক দেশে আমাদের অনেক ফুটেজ রয়ে গেছে। 

সমাপনী বক্তব্যে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের কিছু দাবির জবাব দেন প্রধামন্ত্রী। সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ