সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

চিরিরবন্দরে যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই রসুন আর রসুন

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : যেদিকে তাকাই শুধু নজরে আসে রসুন আর রসুন। মাঠ থেকে রসুন তুলে বিভিন্ন জায়গায় বস্তা করে রাখা হয়েছে। বাম্পার ফলন, দামও খুব ভালো। প্রতি বস্তা রসুন ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এবারে রসুন চাষে উৎপাদন খরচের চেয়ে প্রায় ৩ গুণ বেশী লাভ হচ্ছে। রসুন মাঠে এমন অবস্থা দেখে মনে হয় কোন উৎসব শুরু হয়েছে চিরিরবন্দরের রসুনের মাঠগুলোতে। উপজেলার দিগন্ত মাঠে শুধুই রসুনের শ্রমিক। কেউ উত্তোলন করছে, কেউবা রসুনের গাছ কাটছে, আবার কেউ রসুন শুকানো হলে বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য বস্তা করছে। কোন ধরনের ধম ফেলার সুযোগ নেই চাষি ও শ্রমিকদের। এমনকি বহিরাগত মহিলা শ্রমিক এসে মেটাচ্ছেন রসুন উত্তোলনের চাহিদা।
উপজেলা কৃষি সম্পাসারণ সূত্র বলছে, চলতি মৌসুমে রসুনের ভালো দাম থাকায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে রসুনের চাষাবাদ করা হয়েছে। এ বছর ৩ শত ৪৭ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু রসুন চাষ হয়েছে ৬ শত ৮০ হেক্টর জমিতে। যা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। কৃষকের পাশাপাশি অনেক দিনমজুর রসুন চাষ করে হয়েছেন স্বাবলম্বী। দেখা দিয়েছে চাষির মুখে হাসির ঝিলিক।
বিশিষ্ট রসুন চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, দুই বিঘা জমিতে রসুন চাষে বীজ, সার, বপন, হাল চাষ, নিড়ানি ও অন্যান্য খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮০ মণ। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। উৎপাদন ও আনুসাঙ্গিক খরচ দিয়ে মুনাফা থাকে প্রায় ১ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মত।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান জানান,উত্তরবঙ্গে কৃষি শস্য ভান্ডার হিসাবে পরিচিত লাভ করেছে বৃহত্তর চিরিরবন্দর উপজেলা। এই অবদান চিরিরবন্দর উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের। তিনি আরো জানান,  চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রসুনক্ষেতে কোন ধরনের ইনজুড়ি কিংবা অন্যান্য রোগের আক্রমণ কম হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ