সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দিনভর তীব্র যানজট যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

কালিয়াকৈর সংবাদদাতা : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ যানজট শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয়ে গতকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত আছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বিভিন্ন যানানবাহনের যাত্রীসহ শিল্প প্রতিষ্ঠানের যানবাহন ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ। যানজটের কারণে এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৪/৫ ঘণ্টা। এ মহাসড়কে যানজট যেন নিত্য দিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কের এলোমেলো ভাবে গাড়ি চলাচল, বিকল গাড়ি পার্কিং এবং  বৃষ্টির কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ পায় ৩৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ও কোনাবাড়ি হাইওয়ে পুলিশসহ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা যানজট নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পথচারী ও সাধারণ মানুষ বলছেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ি পর্যন্ত যানজট নতুন কোন বিষয় নয়। প্রায় নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে এ সড়কে যানজট। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। তারা মনে করছেন চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ি পর্যন্ত যত গুলো ছোট বড় স্ট্যান্ড রয়েছে সেগুলোতে ট্রাফিক দ্বারা সঠিক ভাবে লোকাল গাড়ির এলোমেলো পাকিং নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর যতদিন না এটা করা হবে ততদিন যানজট থাকবেই।
এদিকে, রশিদ নামে এক বাস যাত্রী জানান, সকাল ১১টার দিকে গাজীপুর চৌরাস্ত থেকে চন্দ্রার উদ্দেশ্যে বাসে উঠি পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চন্দ্রা পল্লিবিদ্যুৎ পৌঁছাই। আবার যানজটের কারণে অনেক ব্যবসায়ীর মালামাল আটকে আছে মহাসড়কে। সময়মত মাল পৌঁছানো সম্ভব না হলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন ছাড়াও হাত ছাড়া হয়ে যাবে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক এমন সংশয় এর কথা জানালেন জনৈক এক ব্যবসায়ী।
এদিকে, মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের কারণে স্থানীয় যানবাহন ও স্থানীয় লোকজন পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। সেই সাথে রিকশা ও লেগুনা চালকরা হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার থেকে চন্দ্রার ভাড়া হচ্ছে রিকশায় ১৫ টাকা আর রিকশা চালকরা ভাড়া নিচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। এতে চরমভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্থানীয়রা।
ঢাকাগামী হারিফ এন্টারপ্রাইজ এর বাস চালক ইদ্রিস আলী জানান, ভোর ৫টার দিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর অতিক্রম করার পর থেকেই মহাসড়কে যানজটে পড়েন। ওই যায়গা থেকে সফিপুর আনসার একাডেমি আসতে তার সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে ৫ঘন্টা।
নওগাঁগামী দূর্গেষ পরিবহনের চালক মোঃ মঞ্জু মিয়া জানান, রাত ৩টার দিকে ঢাকার গাউছিয়া  থেকেই তিনি যানজটে পড়েন। কালিয়াকৈর আনসার একাডেমি আসতে তার সময় লেগেছে প্রায় ৮ঘন্টা।
সালনা/কোনবাড়ি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. হোসেন সরকার জানান, শুক্রবার রাত থেকে ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার কারণে গাড়ি রাত থেকেই ধীরগতিতে চলছিল। তার ওপর ভোররাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর ও গোড়াই এলাকায় কয়েকটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়ে। যার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। মূলত এলোমেলো ভাবে গাড়ি চলাচল, বিকল গাড়ি পার্কিং এবং বৃষ্টির কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজট স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ