সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

১১ মার্চের শহীদরা ইসলামী আন্দোলনের প্রেরণার উৎস -শিবির সেক্রেটারি জেনারেল

গতকাল শনিবার কুমিল্লা মহানগরীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরী শাখার উদ্যোগে শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেছেন, বাতিলপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর হত্যানির্ভর রাজনীতির শিকার হয়ে সেদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রান্তর শিবির নেতাকর্মীদের রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল। বর্বরদের সেই নৃশংসতা আজও অব্যাহত আছে। কিন্তু ছাত্রশিবির দমে যায়নি। বরং শহীদদের স্বপ্ন পূরণে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ১১ই মার্চের শহীদরা ইসলামী আন্দোলনের প্রেরণার উৎস। 
গতকাল শনিবার কুমিল্লা মহানগরীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরী শাখার উদ্যোগে শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 
শিবির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ১৯৮২ সালের ১১ মার্চ একদিকে নির্মম ও বর্বরতার অন্যদিকে চরম ধৈর্যের নিদর্শনের দিন। সেদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত ছাত্রদের সংবর্ধনার আয়োজন করে ছাত্রশিবির। কিন্তু ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রীসহ ইসলাম বিদ্বেষী কতক সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে একের পর ষড়যন্ত্রের নীলনকশা তৈরি করে ব্যর্থ হয়ে হত্যার পথ বেছে নেয়। বহিরাগত সন্ত্রাসীদের এনে শিবিরকর্মীদের উপর হামলা চালায়। আহত হয় অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ও শিবির নেতাকর্মীরা। সন্ত্রাসীদের হামলায় শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করেন শহীদ সাব্বির ও শহীদ আবদুল হামিদ। পরদিন তাদের কাতারে যুক্ত হন শহীদ আইয়ুব। আর দীর্ঘ ১০ মাসের যন্ত্রণা ভোগের পর ২৮ ডিসেম্বর মহান প্রভুর সান্নিধ্যে চলে যান শহীদ আবদুল জব্বার। সেদিন অকুতভয় শিবির নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ সাহসিকতা ও ধৈর্য্য দিয়ে নজিরবিহীন ইতিহাসের সৃষ্টি করে। নেতকর্মীরা জীবন দিয়েছিলেন কিন্তু কালেমার বাণী প্রচার ও প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় থেকে সড়ে আসেননি।
তিনি আরও বলেন, সেদিন বাতিলরা ভেবেছিল এই বর্বর হত্যাকান্ড চালিয়ে ছাত্রশিবিরকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে। কিন্তু রক্ত ঝড়িয়ে আদর্শকে দমন করা যায় না বরং আন্দোলনের ভিত্তি আরও মজবুত হয়। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ছাত্রশিবিরের আজকের অবস্থান। সেই শহীদদের ধারাবাহিকতায় এ পর্যন্ত অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। এখনো চলছে জুলুম নির্যাতন। কিন্তু ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা তাদের লক্ষ্য থেকে পিছু হটেনি এবং হটবেও না ইনশাআল্লাহ। ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা এই জুলুম নির্যাতনকে ইসলামী আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে। যাদেরকে হত্যা করে বাতিল শক্তি ইসলামী আন্দোলনকে দমিয়ে দিতে চেয়েছিল তারাই আজ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রেরণার উৎস। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই প্রেরণার পথ ধরে এ জমিনে একদিন সমৃদ্ধ সোনালী সমাজ নির্মিত হবে ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, ১১ মার্চ ইসলামী ছাত্রশিবির শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে। ১৯৮২ সালের এই দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর শহীদ সাবিবর, হামিদ, আইয়ুব ও জাববারের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ছাত্রশিবিরের যাত্রা শুরুর পর এই দিনে বাংলাদেশে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ হলেন শহীদ সাব্বির আহমদ। শহীদ দিবস উপলক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ