বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০
Online Edition

পেনশনের টাকা না পেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মুক্তিযোদ্ধ ইমারত হোসেন

খুলনা অফিস : অবসরের অর্ধ-যুগেও অবসরকালীন অর্থ পান না যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমারত হোসেন। উর্ধ্বতন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। তিনি জানান, ২০১০ সালের ২০ আগস্ট যশোরের অভয়নগর উপজেলা উপ-খাদ্য পরিদর্শক পদ থেকে অবসরে যান। অবসরকালীন ৭ লাখ ৪২ হাজার ৬৬ টাকা ছাড়ের বিনিময়ে যশোরের তৎকালীন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন (বর্তমানে খুলনায়), আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের প্রধান সহকারী (পিএ) মো. ইদ্রিস আলী ও প্রাক্তন কর্মকর্তা কাজী নুরুল ইসলাম তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ তার। গত ২০ ফেব্রুয়ারি খুলনার খালিশপুর থানায় এ হয়রানির কথা উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি (নং-৮৪১) করেছেন তিনি। ইতিপূর্বে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজানের সুপারিশকৃত আবেদনপত্রসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আদালতসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন মহানগরীর সোনাডাঙ্গার করিমনগরের সুর মোহাম্মদ রোডের বাসিন্দা মো. ইমারত হোসেন। গত ১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) বকেয়া বেতন-ভাতার ৭ লাখ ৪২ হাজার ৬৬ টাকার বিল উত্তোলন করে পরিশোধ না করে যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কামাল হোসেন গং আত্মসাত করেছেন বলে লিখিত অভিযোগ করেন। দুদক বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর এক অভিযোগপত্রে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমারত হোসেন উল্লেখ করেছেন, ১৯৮০ সালের ৩০ জুন থেকে ২০০৬ সালের ৮ মে পর্যন্ত ৭ লাখ ৪২ হাজার ৬৬ টাকার বেতন-ভাতার বিল পরিশোধ না করে শেষ বেতনের প্রত্যয়নপত্র দেন। যশোরের অভয়নগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ২০১৫ সালের ২৩ জুন ৩৭৮নং স্মারকে প্রেরিত পেনশন মঞ্জুরীর আদেশের কাগজপত্র আটকাইয়া দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কামাল হোসেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে খুলনার নবাগত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘দুই লাখ টাকা চাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। উনি সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট অভিযোগ করেছেন। অভয়নগরে চাকরিরত অবস্থায় গুদাম থেকে গম আত্মসাতের মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় মন্ত্রণালয় থেকে তার অবসরকালীন অর্থ বাতিল করেছেন। তারপর থেকে বিভিন্ন মনগড়া অভিযোগ উঠে তিনি আমাকে নাজেহাল করছেন। প্রকৃতপক্ষে উনি একটা দুষ্ট প্রকৃতির লোক। অবসরকালীন সরকারি অর্থ আটকে রাখার ক্ষমতা কারো নেই। আমিও ওনার টাকা আটকে রাখিনি। বরং চাকরি জীবনে তাকে বহু উপকার করেছি আমি।’
অভয়নগর উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত উপ-খাদ্য পরিদর্শক মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমারত হোসেন বলেন, ‘আত্মসাতের একটি মামলা হয়েছিল, তবে তাতে আমি নিরাপরাধ প্রমানিত হয়েছি। মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। আমার সার্ভিস বুকে এবং তৎকালীন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোতোষ কুমার মজুমদারের প্রেরিত পেনশন রিপোর্টে এ ধরনের কোন অভিযোগের উল্লেখ নেই। আমার কাছে দাবিকৃত দুই লাখ টাকা না দেয়ায় আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। অবসরের প্রায় সাত বছরেও অবসরকালীন বেতন-ভাতা না পেয়ে আমি খুব অসহায় হয়ে পড়েছি।’ এসব ব্যাপারে জানতে অভয়নগর উপজেলার তৎকালীন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোতোষ কুমার মজুমদারের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গেল বছরে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগের অন্তত দশজন খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে (ওসিএলএসডি) বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল। সম্প্রতি অবসরকালীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফাইল আটকে রেখে উৎকোচ আদায় সিন্ডিকেটেও মূখ্য ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের বড়বাবু খ্যাত প্রধান সহকারী মো. ইদ্রিস আলী।
অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বললেন, আমার হাতে কিছুই থাকে না। এখানে শুধু কাগজপত্র ফরওয়ার্ড ছাড়া কিছুই করার থাকে না। টাকা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট। এসব বিষয়ে স্যাররাই ভাল বলতে পারবেন। যশোরের ডিসি ফুড জানাতে পারবেন বিস্তারিত। উনি (ইমারত হোসেন) যশোরের কর্মরত অবস্থায়ও বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ করতেন বলে মন্তব্য করলেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ